খুলনা | বুধবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

প্রকল্পের ব্যয় ১৫ কোটি টাকা

খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ : তদন্তে দুদক

আব্দুল্লাহ এম রুবেল ও মোহাম্মদ মিলন | প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৪০:০০

খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নিম্মমানের কাজ, প্রকল্পের ডিজাইনে থাকা কাজ সম্পূর্ণ না করাসহ পুরো নির্মাণ প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগের তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাপ্ত অভিযোগ ও পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে গত ৮ জুলাই প্রকল্প এলাকায় বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন ও তদন্ত করে দুদক। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর এ কাজে দুদককে সহযোগিতা করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে দুদক পিডব্লিউডির কাছে এ প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন চেয়েছে। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 
সুত্র জানায়, ২০১২ সালে খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের তিনটি প্রকল্পের জন্য ১৫ কোটির টাকার মতো বরাদ্দ হয়। একনেকে এ প্রকল্পের অনুমোদন পায়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকল্প তিনটি হচ্ছে আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণ, আধুনিক জিমনেসিয়াম নির্মাণ ও মাঠ ভরাট করে উন্নয়ন। এ পৃথক প্রকল্পে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। এর মধ্যে জিমনেসিয়াম নির্মানে ঢাকার তানজীর কনস্ট্রাকশন, মাটি ভরাটসহ মাঠ উন্নয়নে চট্টগ্রামের আক্তার এন্টারপ্রাইজ আর সুইমিং পুল নির্মানের কাজ পায় এসএসএমটি আইজেভি।
সূত্র মতে, ২০১৫ সালে নির্মাণ শেষ হওয়া খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের জিমনেসিয়ামে ফাটল ধরেছে। করা হয়নি ফ্লোর, অন্যদিকে ডিজাইনে থাকলেও জিমনেসিয়ামে করা হয়নি গ্যালারী, টাইলস উঠে গেছে, মাঠ ভরাট করার কথা থাকলেও সে কাজও ঠিকমতো হয়নি। সুইমিং পুল নির্মাণ হলেও প্রায় তিন বছর অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল। তবে সম্প্রতি সংস্কারের পর এটি ব্যবহার উপযোগি হয়েছে। 
দুদকের উপ-সহকারি পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা নীলকমল পাল বলেন, খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে এমন একটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। পিডব্লিউডি-এর কাছ থেকে প্রকল্প পরিমাপ করে সম্ভাব্য ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়ে একটি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর ব্যয় ও বরাদ্দ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। এরপর তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের পর দুর্নীর্তি দমন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে খুলনা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের উন্নয়নে প্রায় ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে সুইমিং পুল, জিমনেসিয়াম নির্মান ও মাঠ সংস্কারের কাজ ছিল। ২০১৩ সালের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুল নির্মাণ সম্পন্ন হয় ২০১৪ সালের মাঝা মাঝি সময়ে। এরপর গত চার বছরে একবারের জন্যও ক্রীড়াবিদরা ব্যবহার করতে পারেনি সুইমিংপুল কিংবা জিমনেসিয়াম। সুইমিংপুল নির্মাণের পর প্রথমবার পানি উত্তলোনের সময় নষ্ট হয়ে যায় এর বিদ্যুৎ সাবস্ট্রেশন। খুলনার ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বারবার বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোন সুরহা করতে পারেননি এই অবকাঠামোর।  
সূত্রটি জানায়, কয়েক দফা অভিযোগের পর গত আগস্ট মাসে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। কমপ্লেক্সের সার্বিক অবস্থা দেখে তখন দারুণ ক্ষুব্ধ হন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুইমিংপুলসহ অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কারের নির্দেশ দেন। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশলী পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে বিদ্যুতের সাবস্টেশনটি পুনরায় সংস্কার করা হয়। কিন্তু সুইমিংপুলে পানি ফিল্টারেশনের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। এছাড়া সুইমিং পুলের বিভিন্ন স্থানে টাইলস খুলে যাওয়ায় সেখান থেকে ময়লা  বের হচ্ছিল। এগুলোও সংস্কার শুরু করে তারা। ইতোমধ্যে পানি ফিল্টারেশন ব্যবস্থা মেরামত করা হয়েছে। ফলে সুইমিংপুলের ব্যবহার উপযোগী পানি উত্তোলন করা যাচ্ছে এখন।  
অন্যদিকে একই রকম বেহাল অবস্থা জিমনেসিয়ামেরও। জিমনেসিয়ামের জন্য তৈরি করা হয়নি গ্যালরি। গত চার বছরে এখানে জিমনেসিয়ামের কোন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়নি। প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জিমনেসিয়ামের যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়ায় তা নষ্ট হচ্ছে। জিমনেসিয়ামে উডেন ফ্লোর নির্মাণ করার কথা থাকলেও গত চার বছরে কোন ফ্লোর তৈরি হয়নি। তবে সম্প্রতি কোনমতে ঢালাই দিয়ে ফ্লোর তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া জিমনেসিয়ামের সিলিং অনেক স্থানে খুলে যাচ্ছে। বেহাল অবস্থায় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠটিও। অথচ এই মাঠ সংস্কারেও বড় ব্যয় বরাদ্দ ছিল। সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠটি জঞ্জালে ভরপুর ও উচু-নিচু অবস্থায় রয়েছে।    
এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকল্প প্রকৌশলী মোঃ আওলাদ হোসেন মুটোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে দুদক আমাদের নিয়েই তদন্ত করবে। আমরাও তাদের সহযোগিতা করছি। বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, জিমনেসিয়াম নির্মানের জন্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ , মাঠ সংস্কারের জন্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ, সুইমিং পুলের জন্য প্রথম দফায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ও পরে ৬ কোটি ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









সৌরভ আশাবাদী

সৌরভ আশাবাদী

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৪১