খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

জেলা প্রশাসন বারবার তাগাদা দিলেও সুফল মিলছে না

নামে মাত্র ই-সেবা প্রদান করছে খুলনার ৬৮টি ইউনিয়ন, ডিজিটাল কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির

বশির হোসেন | প্রকাশিত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২০:০০

খুলনায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার থেকে সাধারণ জনগণ কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ৬৮ ইউনিয়নের অনেকগুলোতেই ডিজিটাল সেবা বলতে আপডেটবিহীন ওয়েবসাইট। অনেক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রোফাইলে চেয়ারম্যানের ছবি ও নাম পর্যন্ত নেই। এতে সাধারণ মানুষের ডিজিটাল সেবা প্রদানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত মাসে জেলা আইসিটি কমিটির সভায় এমন মূল্যায়ন উঠে এসেছে। সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্তমান সেবার মান সন্তোষজনক নয় উলে¬খ করে অতি দ্রুত এসব ওয়েব সাইটে অধিক তথ্য আপলোডের মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ ওয়েবসাইট সূত্র থেকে জানা যায়, খুলনার ৯ উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে সরকারি বেনবেইসের মাধ্যমে ই-সেবা কেন্দ্র চালু করা হয় ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর। উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে ডিজিটালাইজেশন করা ও ব্যপক তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এসব ইউনিয়নের ওয়েব সাইটে পাওয়া যায় এলাকার জমির পর্চা, জীবন বীমা, পল¬ী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ। এছাড়া বেসরকারি সেবার মধ্যে রয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল, চাকুরির তথ্য, কম্পোজ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজী শিক্ষা, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিং, ভিডিওতে কনফারেন্সিং, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ফটোকপি, লেমিনেটিং প্রভৃতি। অথচ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে (ইউডিসি) সাত বছরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঙ্খিত সেবা পায়নি জনগণ।
সূত্র জানায়, কয়রা উপজেলার সাত ইউনিয়ন ওয়েব সাইট রয়েছে নামে। এ ইউনিয়নগুলোতে চেয়ারম্যানের প্রোফাইল পর্যন্ত নাই, সরকারি বেনবেইস থেকে তৈরি হওয়ার পরে কোন মডিউল আপডেট পর্যন্ত করা হয়নি। পাইকগাছার ১০ ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে স্থায়ী তথ্য থাকলেও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। দাকোপ উপজেলায় মোট ৯টি ইউনিয়নের বেশিরভাগেই ই-সেবা কেন্দ্র নাই। ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ অনলাইনে পাওয়ার কথা থাকলেও অনলাইনে এখানে তেমন কোন কাজই হয় না। ফুলতলা উপজেলায় গঠিত ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে। এসব ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে। কেউ কেউ সেবা গ্রহণ করতে আসলেও তা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে দুর্বোধ্য ও দুষ্পাপ্য। বটিয়াঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন বটিয়াঘাটা, আমিরপুর, সুরখালি, গঙ্গারামপুর, ভান্ডারকোট, বালিয়াডাঙ্গা, জলমা। এসব ইউনিয়নের ওয়েব সাইট পর্যালোচনা ও সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না ওয়েবসাইট। ডিজিটাল সেন্টার থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই ডিজিটাল সেন্টার সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষই জানে না। বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল কেন্দ্র চলছে তবে জন্ম নিবন্ধনের নতুন আইনের কারণে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রূপসার আইচগাতি, নৈহাটি, শ্রীফলতলা, টিএসবি, ঘাটভোগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রোফাইল, ই-সেবার তথ্য ও ডিজিটাল সেবার কার্যক্রম চলছে খুড়িয়ে। ওয়েবসাইটগুলো বেশির ভাগ নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়না। তেরখাদার ৫ ও দিঘলিয়ার ৬ ইউনিয়নের ওয়ের পোর্টাল রয়েছে নামে। ঠিকমত আপলোড করা হয় না। ডিজিটাল কেন্দ্রের ব্যবস্থা থাকলেও তার প্রচার নেই। তাই সুফলও পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। ডুমুরিয়ার বেশিরভাগ ইউনিয়নের অবস্থাও একই রকম। গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলায় ই-সেবা কেন্দ্র চালু আছে । তবে কার্যক্রম প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেনি। 
জানা গেছে, খুলনার ৯ উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে ইউডিসি থেকে মোট সেবা গ্রহীতার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার। বেশিরভাগ ইউনিয়নগুলোতে দেখা যায় ওয়েব পোর্টালগুলো খুবই দুর্বল। কোন কোন ওয়েব পোর্টালে চেয়ারম্যান প্রোফাইল নেই। কোনটি আবার জীবনে একবার আপলোড করা হয়েছে। মাসিক সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়েব পোর্টালের তথ্য দ্রুত আপলোড করার নির্দেশ প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল আহসান। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার হতে সেবা গ্রহীতার সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয় সভা থেকে। এছাড়া খুলনায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বৃদ্ধির ব্যপারে সিসন্ত গৃহীত হয়।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) গোলাম মাঈনুদ্দিন হাসান বলেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কোন কোন ওয়েবসাইটে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে জেলা আইসিটি সভায় এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে নতুন উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি খুব দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










খুলনায় তৎপর ৮টি গ্রুপ 

খুলনায় তৎপর ৮টি গ্রুপ 

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২০




ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩