খুলনা | রবিবার | ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

মশা প্রসংগে মহাগ্রন্থ আল কুরআন

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

বর্তমান সময়ে মশা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত বিষয়। যদিও মশা একটি ক্ষুদ্র প্রাণী কিন্তু তার দাপটে সারা বাংলা কাপছে। মহান সৃষ্টির আসল রহস্য অনুধাবন করা আসলেই কঠিন।
হঠাৎ করে এডিস মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছে। এমনকি অনেক লোকের মৃত্যুও হয়েছে। মশা প্রসংগে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেন, “আল্লাহ পাক নিঃসন্দেহে মশা বা তদুর্ধব বস্তু দ্বারা উপমা পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। বস্তুতঃ যারা মুমিন তারা নিশ্চতভাবে বিশ্বাস করে যে, তাদের পালনকর্তা কর্তৃক উপস্থাপিত এ উপমা সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সঠিক। আর যারা মুশরিক তারা বলে, এরূপ উপমা উপস্থাপনে আল্লাহর মতলবই বা কি ছিল। এ দ্বারা আল্লাহ্ তায়ালা অনেককে বিপথগামী করেন। আবার অনেককে সঠিক পথও প্রদর্শন করেন। তিনি অনুরূপ উপমা দ্বারা অসৎ ব্যক্তিবর্গ ভিন্ন কাকে ও বিপথগামী করেন না (বাকারাহ : ২, আয়াত : ২৬)। অত্র আয়াতে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেমন :
(১) মশা সৃষ্টির মধ্যেও মানুষের জন্যে আল্লাহর নির্দশন রয়েছে।
(২) মশার চেয়েও ক্ষুদ্র সৃষ্টি রয়েছে।
(৩) বিশ^াসীরাই কুরআনে বর্ণিত বিষয় সমূহে সত্য সঠিক হিসাবে বিশ্বাস স্থাপন করে।
(৪) অবিশ্বাসীরা কোনো কিছুতেই আল্লাহর নিদর্শন বুঝতে পারে না।
(৫) এরকম নিদর্শন ও মানুষের জন্য সঠিক পথের দিশা হতে পারে।
অত্র আয়াতে তিনটি বৈজ্ঞানিক বিষয়কে ঈঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
(ক) প্রথমতঃ গঠনগত কারণে মশার সৃষ্টি অন্য যেকোনো প্রাণী থেকে অন্যান্য এমনকি অন্যান্য উড়ন্ত পতঙ্গ থেকেও অনেকগুলো কারণে ভিন্ন।
(খ) দ্বিতীয় : কুরআনে ব্যবহৃত শব্দ ‘বাউদাহ’ মূলত স্ত্রী বাচক শব্দ। যা নারী মশাকে বোঝায় এবং আধুনিক বিজ্ঞান ইতোমধ্যে এটি প্রমাণ করেছে, শুধু স্ত্রী মশাই মানুষের রক্ত খায়, রক্ত খায় তারা তাদের ডিমে নিউট্রিশনের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য।
মশা ও আধুনিক ধ্যান-ধারণা : মশা দুই পাখাওয়ালা খুদে পতঙ্গগীয় জীব। পৃথিবীতে ২৬শ’রও বেশী প্রজাতির মশা রয়েছে। গরম দেশগুলিতে মশার প্রকোপ বেশী। মশার জীবনচক্র চারটি পর্যায়ে বিভক্ত ডিম, শুককীট, শুককীট এবং পূর্ণাঙ্গ মশা। পরিণত মশা বিভিন্ন জায়গায় ডিম পাড়ে। বাড়ির পাশের ডোবা, পুকুর, নর্দমা, ঝোপঝাড়, ভাঙা কলস কিংবা পূরনো পাত্রে বৃষ্টির পানি এবং ফুলের টপে জমাকৃত পানিতে এরা ডিম পাড়ে। মশার শুককীট শুধু পানিতেই বাঁচে। এবং খুদে জলজ উদ্ভিদ খেয়ে টিকে থাকে। পুরুষ মশা ফুল পাতার রস খেয়ে বেঁচে থাকে। স্ত্রী মশা রক্ত পান না করলে ডিম পাড়তে পারে না। বর্তমানে এডিস জাতীয় মশা ডেঙ্গু জ¦রের জীবাণু ছড়াচ্ছে, যা খুবই মহামারি ও ভয়নক রূপ ধারণ করছে।
মশা বনাম নমরূদ কাহেনী : মশা নিয়ে কুরআনের একটি ঘটনা মনে করিয়ে দিতে চাই। মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আঃ) এর সময়ের রাজার নাম ছিল নমরুদ। সে নিজেকে এতটাই উচ্চতায় ভাবত যে, সৃষ্টিকর্তা হিসেবেও দাবি করেছিল। তার সাথে নবী ইবরাহিম (আঃ) একটি কথোপকথন আল্লাহ তায়ালা কুরআনে উল্লেখ করেছেন (দেখুন সূরা আল বাকারাহ্ : ২ আয়াত : ২৫৮) এই নমরুদের সেনাবাহিনীকে শেষ করে দেয়া হয়েছিল অসংখ্য মশা দ্বারা। আর ছোট্ট এই মশা প্রবেশ করেছিল নমরুদের নাকের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল সৃষ্টিকর্তা দাবি করা এই পাপিষ্ঠের একটি মশার কারণে। কুরআনের এ ঘটনাটি আমাদেরকে স্মরণ করে দেয় মশার ক্ষমতা এবং এর ব্যবহারের উদ্দেশ্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে যেমন আমাদের পরীক্ষা করার নিমিত্তে হতে পারে, তেমনি আমাদের পাপের শাস্তিও হতে পারে। নমরুদের বেলায়ও তাই হয়েছিল।  নমরূদ অগণিত সৈন্য সমাবেশ ঘটালো, হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সাথে যুদ্ধ করার জন্য। এদিকে মহান আল্লাহ্ তায়ালা ক্ষুদ্র মশক বাহিনী প্রেরণ করে নমরূদের সকল গর্ব চুর্ণ করে দেয়া হল।
ঘটনা ছিল এই রকম, নমরূদ আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলো সারা আকাশ একটা ঘন কৃষ্ণ বর্ণ মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে এবং নতুন ধরনের একটা আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। নমরূদ সৈন্যদিগকে আদেশ দিল, ‘তোমরা ঢাকঢোল সজোরে বাজাতে থাক আর অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে তৈরী হয়ে যাও, ইব্রাহিমের খোদার সৈন্য আসা মাত্রই তাদের ধ্বংস করে দিবে, যেন একটি সৈন্যও জীবিত ফিরতে না পারে। লক্ষ কোটি মশকের গুনগুন শব্দে হৃদয় কাঁপানো এক ভীষণ আওয়াজ সৃষ্টি হলো চারদিকে, সে আওয়াজের কাছে নমরূদের ঢাকঢোলের আওয়াজ তলিয়ে গেল। দেখতে দেখতে মশকের দল এসে নমরূদের প্রত্যেকটি সৈন্যের মাথা, নাক, চোখ, পেট, মুখ হাত, পায়ের উপর বসে রক্ত শোষণ শুরু করলো। কোন সৈন্যের আর নড়াচড়া করার শক্তি রইলনা। কিছুক্ষনের মধ্যেই তারা সকলেই প্রাণ বিসর্জন দিল। এদিকে নমরূদ দূর থেকে সৈন্যদের দূরবস্থা দেখে ভয়ে আতঙ্কে দৌড়ে নিজ মহলে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। ঠিক ওই সময়ে একটা বড় মশা নমরূদের নাক দিয়ে ঢুকে তার মগজ দংশন করতে আরম্ভ করল। মহা পাপী নমরূদ তখন উচ্চস্বরে চীৎকার করতে শুরু করলো। নিজের মাথার যন্ত্রণা থেকে বাচার জন্য পায়ের জুতা খুলে নিজের মাথায় স্বজরে আঘাত করতে লাগলো এতে মশাটি কামড় বন্ধ করে চুপ রইল এবং নমরূদ ও কিছুটা আরাম বোধ করলো। কিন্তু যেই মাত্র মাথায় জুতার আঘাত বন্ধ করল, অমনি আবার মশাটি কামড়াতে শুরু করলো। পরিশেষে একজন কর্মচারী মাথায় জুতা দিয়ে আঘাত করার জন্য নিয়োগ দেয়া হল। এভাবে চল্লিশ দিন পর্যন্ত মাথায় জুতার আঘাত খেয়ে নমরূদ বেঁচে রইল। একদিন জুতা পেটার কর্মচারীটি নমরূদের তিরস্কার আর কটুক্তি সহ্য করতে না পেরে ক্রোধে সজোরে জুতা দিয়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত করলো, ফলে নমরূদের মাথাটি দু’ভাগ হয়ে গেল। সাথে সাথে নমরূদের পাপযুক্ত জীবনলীলার অবসান হল। আর নমরূদের মাথা থেকে মশাটি উড়ে গেল।
বর্তমানে যে মশার উপদ্রপ, তা যদি আমরা গভীর ভাবে পর্যালোচনা করি। তাহলে দেখা যাবে এগুলো আমাদের দু’হাতের অর্জন, মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, ‘জলে স্থলে যে সমস্ত বিপর্জয় তাহা মানুষের দু’হাতের কামাই। তাই সৎ জীবন ও ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া এই সমস্ত বালা মুসিবত থেকে রেহাই পাওয়া কোনো প্রকারই সম্ভব নয়।
লেখক: মুফাসসিরে কোরআন ও প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা, বাগেরহাট।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮




পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮


আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:০৫

পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর

পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর

০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩১


ব্রেকিং নিউজ