পাইকগাছার ওসি এবং ইউপি সদস্যের ছত্রছায়ায় মৎস্য ঘেরে হামলা ও ভাঙচুর


পাইকগাছার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যের ছত্রছায়ায় মিনহাজ নদী (বদ্ধ) জলমহলের মৎস্য ঘেরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেছেন উপজেলার উত্তর আমিরপুর গ্রামের মোঃ মাহমুদ আলী গাজীর ছেলে এবিএম এনামুল হক।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পাইকগাছার মিনহাজ নদী (বদ্ধ) জলমহলটির গোড়ার দিক থেকে ৬ দশমিক ৮০ একরের ১ম খন্ড ও ৭৪ দশমিক ২৮ একরের ২য় খন্ড, একুনে ৮১ দশমিক শুণ্য ৮ একরের দুই খন্ডে খুলনা যুগ্ম-জেলা জজ ৪র্থ আদালতের দেঃ ৪৯/১৬নং মামলার আদেশ ও বাৎসরিক ১১ লাখ টাকা হারে হারি হিসাবে ছয় বছরের জন্য নগদে এককালীন ৬৬ লাখ টাকায় বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ অহেদুজ্জামান খোকন ও সম্পাদক বিধান চন্দ্র মন্ডলের সাথে ৩০০ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অংশীদারী চুক্তিপত্র সম্পাদন হয়। তারপর লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘেরে মৎস্য চাষ ও দৃষ্টি নন্দন মেইন বাসাসহ ঘের চৌকির ছোট বড় নয়টি বাসা ও বাঁধ বন্দী, নেট পাটা ও জাল দিয়ে ঘেরে বেড়া তৈরি করা হয়। উন্নতজাতের ও উন্নত মানের মাছ চাষ চলছে; এক বছর দুই মাস তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করছেন।
তিনি আরও বলেন, সমিতির সুচতুর সভাপতি ও সম্পাদক ওই হারির টাকা সমিতির অন্য সদস্যদের ভাগ না দেয়ার মানসিকতায় প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গ করে গত ৮ সেপ্টেম্বর পাইকগাছায় সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করেন। তার আগে ওসিকে ম্যানেজ করে ঘেরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে সন্ত্রাসীরা। অথচ ওসি শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির আশ্বাসে একাধিকবার এক লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ওসি’র বিরুদ্ধে রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত দরখাস্ত করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এনামুল হক। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য ঘের, নিজের ও পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। ফলে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 
তবে এবিএম এনামুল হকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।