বছরে ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হয় যার ২ লাখ চলে যায় নদী ও সাগরে


বাংলাদেশে প্রতি বছর আট লাখ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলা হয়। এরমধ্যে দু’লাখ প্লাস্টিক বা পলিথিন জাতীয় বর্জ্য যে কোনভাবে চলে যায় নদী-সাগরে। যা ডলফিন, হাঙ্গরসহ অন্যান্য প্রাণির পেটে গিয়ে সেগুলো ধ্বংস হয়। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে নদীতে মাছের চেয়ে পলিথিন/প্লাস্টিক বর্জ্য বেশি হবে। উৎপাদন খাতের কর্মী এবং স্টেক হোল্ডারদের সাথে নদী দূষণ এবং ডলফিন সংরক্ষণের উপর অনুষ্ঠিত পরামর্শ কর্মশালায় গতকাল সোমবার এসব তথ্য দেয়া হয়। এ সময় আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে হুমকি থেকে বাঁচাতে ডলফিন রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে বলেও অভিমত দেন বক্তারা। বন বিভাগের Expanding the Protected area System to Incorporate Important Aquatic Ecosystems(EPASIIAE) Project এর আয়োজনে গতকাল নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মোঃ মঈন উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ বশিরুল আল মামুন, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের মেরিন এন্ড ফিশারিজ ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আনিসুল হক এবং বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল। প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী। 
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিত কুমার পোদ্দার বলেন, যেনতেনভাবে নয়, উন্নয়নকে করতে হবে টেকসই। এজন্যই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। ডলফিন মানুষের বন্ধু। এদেরকে রক্ষা করতে হবে। সব প্রাণি না থাকলে মানুষ বাঁচতে পারবে না। সুতরাং মানুষের স্বার্থেই ডলফিনসহ অন্যান্য প্রজাতিকে রক্ষা করতে হবে। আইন থাকলেই শুধু হবে না, আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে। জনগণ যাতে আইনের বাস্তবায়নে সহায়তা করে সেজন্য তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এক কথায় ডলফিন সংরক্ষণের মধ্যদিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে বলেও তিনি জানান। অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ডলফিন সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সুন্দরবনে তিনটি বন্যপ্রাণি ও তিনটি ডলফিন সংরক্ষণকেন্দ্র করা হয়েছে। আরও তিনটি হটস্পট করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।