খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার আওতায় আনা জরুরী

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার আওতায় আনা জরুরী

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সামনে এখন অপেক্ষমান ভর্তি পরীক্ষার বৈতরণী। কাদায়-আটকানো হাতি যেমন ডাঙায় ওঠার জন্য সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করে, সেভাবে একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে এই বিশাল বৈতরণী নদী পার হতে প্রয়াস চালাতে হয় প্রাণপণ। এ পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে নতুন করে তৈরি করে তার স্বপ্নের মতো। যে স্বপ্নটি সে বুকের মধ্যে অনেক বছর ধরে লালন করে আসছে। 
মানুষ যখন তার লক্ষ্যের পেছনে স্বপ্নের পেছনে অন্ধের মতো ছুটে বেড়ায় কেবল তখনই সাফল্য এসে ধরা দেয়। ভারতের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালামের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘স্বপ্ন সেটা নয় যেটা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।’ ভর্তিযুদ্ধ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের চেয়ে কি কোনো অংশে কম? লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী যোদ্ধার সঙ্গে মেধা নামক অস্ত্রটি দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয় একজন শিক্ষার্থী যোদ্ধাকে। এই যুদ্ধভূমিতে নিজের জায়গাটি তৈরি করে নিতে হলে অবশ্যই পড়াশুনার বিকল্প নেই। শুধু পড়লেই হবে না, মনে রাখতে হবে। মূলত বিদ্যার পথে পথে দীপশিখা জ্বালিয়ে হাঁটতে হয় একাই। বিদ্যা কখনো ধার করা যায় না, বিদ্যা অর্জন করতে হয়। কিন্তু সেই দীপশিখা স্বাভাবিকভাবে জ্বলতে বাধা প্রদান করে বিভিন্ন প্রতিকূলতা। প্রতিকূলতার মধ্যে অন্যতম হলো একই সময়ে বিভিন্ন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতি ও একাধিক তারিখে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া। এই ভিন্নি ভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি আবার বিভিন্নরকম এবং সিলেবাসও আলাদা। ফলে শিক্ষার্থীরা উভয় সংকটে পড়ে যায়। কোনো একক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ের অভিপ্রায়ে নিজেকে শারিরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে পারেন না। 
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ টি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে ৪ টি মেডিকেল এবং ৫ টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস নামে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হতে যাচ্ছে লালমনিরহাটে। ৪৬ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন করে যদি পরীক্ষা হয় তবে ৪৬ টি দিন দরকার। এটা হলো একটা মনগড়া হিসাব। প্রকৃতপক্ষে প্রায় তিন থেকে চার মাস যাবত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক একজন শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং কখনো কখনো একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বার বার ছুটে আসতে হয়। এই ছুটাছুটি করতে গিয়ে মানসিক এবং শারিরিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন তারা। পড়াশুনা এবং পরীক্ষার প্রতি খেই হারিয়ে ফেলেন। সেই সাথে মধ্যবিত্ত এবং নিম্মবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিফরম তোলা বাবদ খরচ এবং যাতায়ত খরচ অসনীয় হয়ে পড়ে। ব্রাহ্মণ হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর মত। এগুলো কোন রকমে মানা গেলেও ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার খরচ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এক গবেষণায় দেখা যায়, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়া ও বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি কোচিংসহ আনুষঙ্গিক খাতে একজন শিক্ষার্থী তথা তাঁর অভিভাবকের গড়ে ৯৬ হাজার টাকা খরচ হয়। বিশ^বিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার এই প্রক্রিয়া মেধাধীদের মেধা মূল্যায়ণ করার চেয়ে বরং মেধাবীদের অর্থিক, শারিরিক ও মানসিক অত্যাচার করে। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রকৃত মান সম্মত শিক্ষার্থী পায় না। ফলে ঝরে যাচ্ছে মেধাবীরা।
বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের পরীক্ষা একই দিনে বা পর পর অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরও মেডিকেল এবং বুয়েটের পরীক্ষার সময়সূচি যথারীতি ৪ এবং ৫ অক্টোবর। ফলে শিক্ষার্থীদের বানের জলে ভেসে যাওয়ার মত অবস্থা। তাই অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি  অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা অবশ্যক। আমরা মনে করি, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাণ শিক্ষার্থীরা, শিক্ষার্থীদের প্রাণ বিশ্ববিদ্যালয় বা নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। বিশ্বের সমস্ত কিছু পরিবর্তনশীল।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩