খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

ভাঙ্গন কবলিত উপকুলীয় জেলে  পল্লীর বাসিন্দাদের পাশে দাড়ান

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

ভাঙ্গন কবলিত উপকুলীয় জেলে  পল্লীর বাসিন্দাদের পাশে দাড়ান

নদী কেড়ে নিচ্ছে বসত ভিটা। এক একবার ভাঙ্গনে যেতে হয় অন্য জায়গায়। সেখানেও ভাঙ্গন, আবারও পাল্টাতে হয় বসতি। এভাবেই চলে উপকূলীয় জনপদে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার জেলেদের বাঁচা মরার লড়াই। বসতভিটা একের পর এক নদীগর্ভে ভেঙ্গে পড়লেও নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলে তারা। আছে অর্থের সংকট। তারপরও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে যেতে হয় ছোট্ট নৌকা জাল নিয়ে সুন্দরবনের গহীনে। এবছর মাত্র দেড় মাস পরেই যেতে হবে বঙ্গোপসাগরে। তাই প্রস্তুতির শেষ নেই খুলনার জেলে পল্লীগুলোতে। নানা সংকট মোকাবেলা করে সাগরযোদ্ধারা নেমে পড়বেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে। সমুদ্রে মাছ ধরতে জাল, নৌকাসহ আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র তাদের সম্বল। এজন্য কেউ নতুন করে নৌকা গড়ছেন, কেউ পুরনোটিকেই সংস্কার করছেন, আবার কেউ কেউ নতুন জাল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিন-রাত খাটছে জেলে পরিবারগুলোর সদস্যরা। আর এসবের ফাঁকে টাকার জন্য ছুটছেন মহাজনদের কাছে। 
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা গহীন সমুদ্রে জীবন-জীবিকার জন্য ছুটে যান। নিজেদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। একটা নৌকা তৈরি করতে সময় লাগে কমপক্ষে ৪০ দিন। মিস্ত্রি লাগে চার জন। খরচ হয় কমপক্ষে চার লাখ টাকা। নৌকা ও জাল মেরামত করা, দড়ি বানানো তেলের জন্য ড্রাম প্রস্তুত করা, পুরনো নৌকা ও যন্ত্রাংশ একটু যাচাই করে নেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ করতে হয়। এ ছাড়া মাছ ধরতে যাওয়ার লোকও ঠিক করতে হয়। সব মিলিয়ে ৫/৬ লাখ টাকা খরচ পড়ে। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সাগরে অবস্থান করে জেলেরা মাছ ধরে। নৌকা তৈরি, দীর্ঘ সময় নিজ ও পরিবারের খরচ সামলে জেলে পরিবারে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জেলেরা কোন ব্যাংক ঋণ বা সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় মহাজনের কাছ থেকে দাদন (ঋণ) নিতে বাধ্য হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আয় করা অর্থের সিংহভাগই মহাজনের হাতে তুলে দিতে হয়। তারা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। জেলেরা জানায় ‘আমরা সমুদ্রে মাছ নয়, দেশের জন্য ডলার আনি। কিন্তু আমাদের জন্য কোন উদ্যোগ নেই। এই দু’বছর ‘অ্যাওসেড’ নামে একটি এনজিও আমাদের লাইফ জ্যাকেট, বয়া, দিকদর্শন যন্ত্র, রেডিও, টর্চ লাইট, জরুরি ওষুধ দিচ্ছে। তারা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এখন সাগরে বেঁচে থাকার সাহস পাচ্ছি। এমন উদ্যোগ নিলে জেলেরা বাঁচতো।’ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসেব মতে, উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৩ লাখ সমুদ্রগামী জেলের রয়েছে। বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের সরকারি-বেসরকারি বেশী বেশী উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, অর্থনৈতিকভাবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।’ কিন্তু তারপরও তাদের নিরাপত্তা নেই। জেলেদের জন্য বড় আতঙ্ক কপোতাক্ষের ভাঙ্গন। এ অবস্থার উত্তোরণ না হলে এক সময় তারা হারিয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি।  
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩