শিগগিরই দেশে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু নিয়ে শঙ্কা কাটছে না


২০১৮ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জেএমবিএইচের সঙ্গে ডিআইপির ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরেই ই-পাসপোর্ট গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়ার কথা জানায় ডিআইপি। তবে যন্ত্রপাতি সেটআপসহ বিভিন্ন ছোটখাটো সমস্যা এবং সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতি সেটআপে কিছু ত্র“টি ধরা পড়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জুলাইয়ের পর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র চলতি সেপ্টেম্বরে দেশে ই-পাসপোর্ট চালুর কথা জানালেও সেটা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ সেবা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। ই-পাসপোর্ট সেবা প্রাথমিকভাবে ঢাকায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে করে শিগগিরই দেশে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সূত্র জানিয়েছেন, ই-পাসপোর্ট কার্যকর করতে প্রকল্পের আওতায় জার্মানি থেকে ৫০টি ই-গেট আসার কথা রয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত এসেছে মাত্র তিনটি ই-গেট। এগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হলেও দেশের বিমান ও স্থলবন্দরগুলোতে ই-গেট স্থাপন শেষ করা না গেলে এর সুফল মিলবে না। বর্তমান বিশ্বের ১১৯ দেশে ই-পাসপোর্ট ব্যবহার হচ্ছে।
জানা যায়, ‘বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ই-পাসপোর্ট দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০১৮ সালের জুলাই হতে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ডিআইপি। ১০ বছরে মোট ৩০ মিলিয়ন পাসপোর্ট তৈরি করা হবে। এর মধ্যে ২ মিলিয়ন তৈরি হবে জার্মানিতে। ফলে প্রথমে যারা আবেদন করবেন তাদের পাসপোর্ট জার্মানি থেকে তৈরি হয়ে আসবে। 
পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত এমআরপি পাসপোর্টের মতোই ই-পাসপোর্টেও একই ধরনের বই থাকবে। তবে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টে বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসম্বলিত যে দু’টি পাতা আছে, তা ই-পাসপোর্টে থাকবে না। সেখানে পলিমারের তৈরি একটি কার্ড থাকবে। এই কার্ডে সংরক্ষিত চিপে পাসপোর্ট বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ই-পাসপোর্টে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে। বর্তমানে এমআরপি ডাটা পেজে যে সব তথ্য আছে, তা ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। এ ই-পাসপোর্টের মেয়াদ বয়স অনুপাতে ৫ ও ১০ বছর হবে। এ ছাড়া ই-পাসপোর্ট চালু হলেই এমআরপি পাসপোর্ট বাতিল হবে না বলে জানায়  সূত্রটি। তবে নতুন করে কাউকে এমআরপি পাসপোর্ট দেয়া হবে না। যাদের এমআরপির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তারা নবায়ন করতে গেলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে এমআরপি পাসপোর্ট তুলে নেয়া হবে।
সূত্র আরও জানায়, বর্তমান এমআরপি ব্যবস্থা থেকে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থায় উত্তরণ ঘটলে বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঝামেলাবিহীনভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। কারণ ই-পাসপোর্ট এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে বিদ্যমান বইয়ের সঙ্গে একটি ডিজিটাল পাতা জুড়ে (ডাটা পেজ) দেয়া হবে। ওই ডিজিটাল পাতায় উন্নতমানের মেশিন রিডেবল চিপ বসানো থাকবে। এতে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। ডাটা পেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশও। ভ্রমণকালে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কম্পিউটারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য-উপাত্ত জানতে পারবেন। তা ছাড়া সবচেয়ে বড় সুবিধা হল বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঝামেলা বিহীন ই-গেট ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করা যাবে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম-সচিব (বহিরাগমন-১) মোঃ মুনিম হাসান গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা প্রস্তুত আছি। অক্টোবরের মধ্যে চালুর আশা করা যাচ্ছে। যেহেতু অনলাইনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে সেজন্য নির্ভুল করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে আগারগাঁও, এয়ারপোর্ট, উত্তরায় যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ চলছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার ও বুধবার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ সোহায়েল হোসেন খান খুলনা সফর করেন। এ সময় তিনি যশোরের ব্যাকআপ সার্ভার পরিদর্শন করাসহ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস পরিদর্শন করেন। এ দপ্তরের ডেপুটি এ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর রফিকুল ইসলাম খান গতকাল রাতে সময়ের খবরকে বলেন, ডিজি স্যার সার্ভার পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কাজে এসেছিলেন। ই-পাসপোর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, সকল কার্যক্রম চলছে। মেশিন ও যন্ত্রপাতি বসতেছে। খুব দ্রুতই এ সেবা পাবে গ্রাহকরা।
 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।