খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে টোল হোক টেকসই হাতিয়ার

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে টোল হোক টেকসই হাতিয়ার

দেশের সব জাতীয় মহাসড়কে টোল ব্যবস্থা চালুর যে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তা আমাদের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে নতুন তাৎপর্য বহন করে। এক সময় সড়ক ও সেতু মাত্রই বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য হলেও এখন প্রায় সব বৃহৎ সেতুতে রয়েছে টোল ব্যবস্থা। রাজধানীর প্রথম উড়াল সড়ক উন্মুক্ত হলেও পরবর্তীগুলো এসেছে টোলের আওতায়। এমনকি ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের চলনবিল অংশও এখন টোলের আওতায়।
বিদেশে মহাসড়কে টোল বিরল নয়। বাংলাদেশের মতো দেশে ‘সব জাতীয় মহাসড়কে’ টোল ব্যবস্থা প্রবর্তন কি বাস্তবসম্মত এমন প্রশ্ন উঠে আসছে? অবশ্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যে প্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা এসেছে, তা বিবেচনাযোগ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, টোল ব্যবস্থা থেকে উপার্জিত অর্থ সংশ্লিষ্ট মহাসড়কের সংস্কার ও উন্নয়নে ব্যয় হবে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ টেকসই করে তোলায় জোর দিতে হবে আগে। মনে রাখতে হবে, সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার কাজের গুণগত মান ও স্থায়িত্বের ঘাটতি নিছক আর্থিক বরাদ্দের জন্য নয়। প্রতিবছরই জাতীয় মহাসড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু সংস্কার শেষ হতে না হতেই ফের ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে। পরের বছর আবার বরাদ্দ, আবার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, আবার ঠিকাদারি ও ভাগবাটোয়ারা এবং আবার মোটামুটি বছরখানেকের মধ্যে নতুন বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা। 
সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারের নামে একটি দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে বললেও অত্যুক্তি হয় না। বর্ষা মৌসুমের আগে এমনকি বর্ষায় তড়িঘড়ি করে সড়ক সংস্কারের এক ‘সংস্কৃতি আমাদের দেশে’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে করে কাজটি যেমন টেকসই হয় না তেমনই থাকে দুর্নীতিরও অবারিত সুযোগ। বস্তুত স্তরে স্তরে দুর্নীতির মনোভাব থেকেই বর্ষার সময়টা বেছে নেওয়া হয় বলে কেউ কেউ মনে করেন। বরাদ্দের পর্যাপ্ততা ছাড়াও ঠিকাদারদের দক্ষতা, উপকরণগত উপযুক্ততা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা-সর্বোপরি সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ছাড়া এই দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি মেলা কঠিন।
মহাসড়কে টোল আদায় করে বরাদ্দের অপ্রতুলতা হয়তো কাটবে তবে বরাদ্দ অর্থের সদ্ব্যবহারের অভাব ঘুচবে কি? সড়ক-মহাসড়ক বিপর্যস্ত হওয়ার আরেকটি প্রধান কারণ অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ওজনের মালামাল পরিবহন। দেশের কয়েকটি মহাসড়কে ওজন মাপার ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যত অকার্যকর। আলোচ্য সভায় গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর উৎসমুখে ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে সমাধান দিতে পারে বৈকি। কিন্তু যদি সংস্কার কাজে অনিয়ম রোধ করা না যায়, তাহলে টোলের অর্থ আদায় করে বছর বছর ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের পকেট ভারী করার কোনো যুক্তি আছে বলে আমাদের মনে হয় না। মনে রাখতে হবে, মহাসড়কে টোল ব্যবস্থা চালু হলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে। তাতে করে চাপে পড়বে সাধারণ মানুষই। টোলের অর্থ যদি মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের টেকসই হাতিয়ার না হয়, তাহলে এই চাপ বাড়িয়ে লাভ কি?
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩