খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

তামাকজাত পণ্যের অবাধ প্রচারণা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন জরুরী

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

তামাকজাত পণ্যের অবাধ প্রচারণা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন জরুরী

ধূমপান নিবারণে নানা কর্মসূচি এবং আইনি ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে সুফল কমই পাওয়া যাচ্ছে, তা সাধারণ পর্যবেক্ষণেই অনুমান করা সম্ভব। আমাদের আশপাশে ধূমপায়ীর সংখ্যাধিক্য আরও প্রমাণ করে, ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগণও অধিক সচেতন নয়। তবে ধূমপানের বিস্তারে তামাক কোম্পানিগুলোর প্রলুব্ধকর প্রচারণা যে একটি বড় কারণ, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
আইনি বিধিবিধান উপেক্ষা করে তামাক জাতীয় পণ্যের প্রচার হরদম চোখে পড়ছে। এক্ষেত্রে তামাক উৎপাদনের জন্য অবস্থা ভয়াবহই বলতে হবে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, দেশের বড় বড় শহর এলাকাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের ছোট-বড় চা-পানের দোকান আর বিভিন্ন ওয়াল তামাক জাতীয় পণ্যের প্রচার-প্রচারণার বিজ্ঞাপন, পোস্টার, লিফলেট, ডামি প্যাক ও প্যাকফ্যাসিংয়ে সয়লাব হয়ে গেছে। মেডিকেল, আদালতের চারপাশ, জেলগেট,  টার্মিনালসহ নগরীর ছোট-বড় পানের দোকানগুলো বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানির বাহারি বিজ্ঞাপনে এখন সয়লাব। তাদের দোকানগুলোর চারপাশ এলডি, মেরিজ, শেখ, রেক্সন, রয়্যালস, ডারবি সিগারেটের ছোট-বড় পোস্টার, ডামি প্যাক ও প্যাকফ্যাসিংয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু বড়বড় নগরীতে নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটবাজারগুলোর দোকানপাটসহ ওয়ালগুলো বড় বড় পোস্টারে সয়লাব। বিষয়টি নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক।
তামাক কোম্পানিগুলোর এরূপ বেপরোয়া মাত্রার বিজ্ঞাপন প্রচার বিদ্যমান আইনে কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়। ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৫ধারা অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো তামাকজাত পণ্য বা তামাকের ব্যবহার প্রদর্শনের উদ্দেশে যে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান আইনের এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। অথচ বিদ্যমান আইনি বিধিনিষেধ এড়িয়ে আগ্রাসী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। আর এসব প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে জিটিআই, বিএটিবি, একেটিসিএলসহ বিভিন্ন তামাকজাত সিগারেট কোম্পানি। এরা রীতিমতো আগ্রাসী প্রচারণা এবং প্রলুব্ধকরণে বিপুল অর্থ ও জনবল নিয়ে মাঠে নেমেছে। এদের বিপরীতে তামাকবিরোধী এনজিওগুলোর তৎপরতা সীমাবদ্ধই বলতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো কী করছে, তা একটি প্রশ্ন বটে।
সরকার যেখানে দেশের তরুণ সমাজকে মাদক এবং তামাক থেকে দূরে রাখতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে প্রকাশ্যে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে কিশোর, তরুণসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষকে তামাকের প্রতি আকৃষ্ট করা বিস্ময়করই বলতে হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রচলিত আইনের যথার্থ অনুসরণের মাধ্যমে নির্বিচারে তামাক জাতীয় পণ্যের প্রচারণা ও প্রসার বন্ধ করা অনেকাংশে সম্ভব বলে আমরা মনে করি। তবে অধিক সাফল্য লাভে অবশ্যই জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩