খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

বিবাহ বিচ্ছেদ কমাতে সামাজিক  সচেতনতা বাড়াতে হবে

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

বিবাহ বিচ্ছেদ কমাতে সামাজিক  সচেতনতা বাড়াতে হবে

সারাদেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বিবাহ বিচ্ছেদের হার ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। তবে এখন বদলে গেছে তালাকের ধরণ। আগে শতকরা ৭০ ভাগ তালাকের ঘটনা ঘটতো স্বামী কর্তৃক। কিন্তু এখন বিচ্ছেদে এগিয়ে রয়েছে নারীরা। উচ্চ ও নিম্নবিত্ত পরিবারে এ বিচ্ছেদের হার অনেক বেশি। শুধুমাত্র খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিগত ১০ বছরে অন্তত ১৪ হাজার বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। 
আধুনিকতার ছোঁয়ার সংসারের বন্ধন দুর্বল হচ্ছে ক্রমেই। যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে মানুষ। ভালো লাগা, ভালোবাসাও যাচ্ছে কমে। ফলে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ। কখনো কখনো মেহেদীর রঙ মোছার আগেই ভেঙে যাচ্ছে অনেকের সংসার। ফুটফুটে সন্তান, সুন্দর সংসার ও মধুর সম্পর্কের স্মৃতি কোন কিছুই আটকাতে পারছে না এ বিচ্ছেদ। কেসিসির পরিসংখ্যান বলছে, বিগত ২০০৯ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে ৯৩২টি। তবে প্রতি বছর এ হার ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছে গেছে যে ২০১৮ সালে এ হার দ্বিগুন হয়েছে। ১৭১৯ টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে ২০১৮ সালে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ১০২০টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। কর্পোরেশনে জমা পড়া তালাকের তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষন করে দেখা গেছে তালাক দেয়া পুরুষের সংখ্যা শতকরা মাত্র ৩০ ভাগ, আর নারীর সংখ্যা শতকরা ৭০ ভাগ। এর বাইরেও অনেক বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। যা অনেক সময় লোক জানাজানির ভয়ে অনেকটা গোপনেই ভিন্ন পন্থায় সম্পন্ন হয়। 
আমাদের মতে, সমাজে তালাক বা ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হলো পারিবারিক বোঝা পড়ার অভাব, পুরুষ-নারীর মধ্যে নির্ভরশীলতা কমা, নারীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি, ব্যক্তিত্বের অভাব, মাদকের নীল ছোবল, পরকীয়া, একাধিক বিয়ের প্রবণতা, অতিমাত্রায় সন্দেহ ও যৌতুক, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, নারী-পুরুষের উভয়ের ভারসাম্যহীন উচ্চভিলাসী মনোভাব, পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক ভাবধারার অনুকরণ, সাংসারিক বন্ধনের প্রতি উদাসিনতা, পারিবারিক অভিযোজনের আপোসহীন মনোভাবের উপস্থিতি ইত্যাদি কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান সমাজে নারীদের আত্মমর্যদা, কর্মপরিধি ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ। পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে পেশাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বামীর উপর ভরসা করতে চান না। এ অবস্থায় পরিবারে সমস্যা তৈরী হলে তারা বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে যাচ্ছেন। তবে নারীদের কাছ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন বেশি আসলেও নারীরাই বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কারণ বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে সমাজে নানাভাবে হেনস্তা হতে হয়। চরিত্র দোষের কথা বলা হয়। আর দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়েও নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি এর প্রভাব পড়ছে সন্তানের উপর। তারা বেড়ে উঠছে ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান হিসেবে। যা তাদের স্বাভাবিক মানষিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এক ধরনের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগে। তাদের জীবন হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক। সমাজ, পরিবারকে নেতিবাচক হিসেবে দেখে। তাদের মধ্যে জীবনমুখতা তৈরী হয়। পারিবারিক অশান্তি, হাতাশা ও অপরাধমূলক কাজের প্রবণতায় অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তৈরী হয়।
আমরা মনে করি, বিবাহ বিচ্ছেদ প্রতিকারে পরিবার গঠন ও পারিবারিক সম্পর্ক তৈরীতে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। স্ব-অবস্থান থেকে স্ব-ভূমিকা পালনে বিবেকের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহন, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, বাঙালী সংস্কৃতিক মননে গভীর চেতনায় লালন, অপসংস্কৃতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহতকরণ, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মর্যাদা প্রদান প্রভৃতি মানসিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হ্রাস করা সম্ভব। তাই এটি প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩