খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম দৃষ্টান্ত গুম বন্ধ করতেই হবে

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম দৃষ্টান্ত গুম বন্ধ করতেই হবে

বহুকাল ধরে মাঝে মাঝে হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা শোনা যেত। ছেলেধরার ভয়ও সমাজে এখনো আছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে অনেক মানুষ গুম হচ্ছেন। বাংলাদেশে এই গুম-সংস্কৃতি ক্রমেই যেন সমাজবাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক’ সংস্থার আয়োজনে স্বজন হারানো মানুষদের মর্মবেদনা জানা গেছে। প্রতিবারই তাদের এই বেদনাদীর্ণ কষ্টকর অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হয় জাতি, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।
গুম হয়েছেন এমন মানুষের পরিচয় থেকে কোনো সাধারণ প্রবণতা পাওয়া যায় না। সাবেক কূটনীতিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, বিরোধীদলীয় রাজনীতিক, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, সাধারণ নাগরিক, ছাত্র ইত্যাদি নানা পেশার মানুষ গুম হয়েছেন। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫৩২ জন গুম হয়েছেন। আর গত বছর জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ৩৯তম সভায় গুম হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা বলা হয়েছিল ৪৩২ জন। সেই হিসেবে এর পরের বছরে এই সংখ্যা পাঁচ শতাধিক হওয়াই স্বাভাবিক।
গুমের ব্যাপারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বজনদের আঙুল উঠেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়ও প্রায় এ রকম ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিণতি তিন রকম দীর্ঘদিন পরে হলেও অনেকে ফিরে আসছেন, কারও কারও লাশ পাওয়া গেছে, তবে অধিকাংশের কোনো খবর পাওয়া যায় না। আর এ যাবৎ যারাই ফিরে এসেছেন কেউই মুখ খোলেননি। উচ্চশিক্ষিত প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি থেকে অল্প বয়সী ছাত্র সবাই মুখ বন্ধ রেখেছেন। গণমাধ্যম চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাদের স্বজনদের কাছ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি। এতে ধারণা করা যায়, গুম অবস্থায় তাদের এতটাই ভয় দেখানো হয়েছে যে, তারা আর এ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে রাজি নন। বিষয়টিকে অতীতের গর্ভে ঠেলে দিয়ে চিরকালের জন্য অধ্যায়টি বন্ধ করে দিতে চান। সবটা দেখে ও শুনে মনে হয়, এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা থাকতেও পারে। ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা সবার জানা আছে। ফলে আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রবণতা যে বর্তমানে রয়েছে তা স্পষ্ট। আমরা মনে করি গুম মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক চরম দৃষ্টান্ত। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও সাম্প্রতিককালে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ থেকে রাষ্ট্রের বেরিয়ে আসা জরুরি। ফলে গুমের বিষয়ে সরকারের আরও শক্ত এবং স্পষ্ট অবস্থানে আসতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩