খুলনা | রবিবার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আড়াইশ’র বেশি ছোট বড় প্রতিষ্ঠানে ২৬ জন প্যাথলজিস্ট 

নগরীতে বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে টেস্ট বাণিজ্যে মালিক-প্যাথলজিস্ট সিন্ডিকেট

বশির হোসেন | প্রকাশিত ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৫:০০

যেকোন রোগের পরীক্ষার যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের জন্য সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়। আর তা নির্ণয় না করতে পারলে চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরও বেশি জটিল আকার ধারনের সম্ভাবনা থাকে বেশী। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ এ সেবায় নিয়োজিত খুলনার অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে জালিয়াতি। ডায়াগনস্টিক মালিকদের সাথে প্যাথলজিস্টদের রয়েছে অনৈতিক চুক্তি। একদিকে চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্য, অন্যদিকে প্যাথলজিস্টদেরদের ফি দেয়ার জন্য ডায়াগনস্টিক মালিকরা ব্যবহার করেন নিম্নমানের অখ্যাত  কোম্পানির রি-এজেন্ট। এতে সর্বশান্ত হতে হচ্ছে সাধারণ রোগী ও তার স্বজনদের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট, বিপিসিডিএইচওএ-এর অফিস ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীতে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল ও শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা আড়াইশ’র বেশি। যদিও খাতা কলমে এর সংখ্যা দেড়শ’। এর বাইরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আবু নাসের হাসপাতালের সামনে, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট, নিরালাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভূঁইফোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে সেবা না করে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রোগীদের সাথে প্রতারণাই তাদের উদ্দেশ্য। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায় গত ১৪ আগস্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে একাধিক রিপোর্টে অস্বাভাবিক রিপোর্ট পাওয়া যায়। তাও হচ্ছে সন্ধানী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের। এসব রিপোর্টে সই স্বাক্ষর করেন ডাঃ সুকুমার সাহা, একই ধরনের ঘটনা ঘটে নগরীর খানজাহান আলী রোডের আস্থা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানেও ডেঙ্গু পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট করা হয়েছে। যা পড়ে নগরীর সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ধরা পড়ে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নগরীর হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া নাম সর্বস্ব রিপোর্ট করে অধিকাংশ প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার। একটি পরীক্ষায় রেফারেন্স ডাক্তার ও প্যাথলজিস্টকেই বেশিরভাগ টাকা দিতে হয় এ সকল ডায়াগনস্টিক মালিককে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্লিনিক মালিক বলেন, ডাক্তাররা স্বাক্ষর বিক্রি করেন আমাদের কাছে। আমরা টেকনোলোজিস্ট দিয়েই কাজ করি। প্যাথলজিস্টরা কখনও এসে বা কখনও রিপোর্ট করে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিলে স্বাক্ষর করে দেন। কখনও সাদা রিপোর্টেও স্বাক্ষর করেন তারা।
এই ক্লিনিক মালিকের কথার কিছুটা বাস্তবতার খোঁজ পাওয়া যায়। নগরীর শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ সুকুমার সাহা। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অফিস করার পর তিনি নগরীর বাবু খান রোডের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অন্তত তিন শতাধিক (প্যাথলজিস্ট) রিপোর্ট দেখে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ল্যাব এইড হাসপাতাল ও অংকুর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাসিফিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গ্রীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের  সকল প্যাথলজি রিপোর্টও স্বাক্ষর করেন ডাঃ সুকুমার সাহা। এর মধ্যে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি ছাড়া অন্য বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্ট থাকলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে তিনিই একমাত্র সম্বল। 
একাধিক সিনিয়র চিকিৎসক ও প্যাথলজিস্ট-এর সাথে কথা বললে তারা বলেন একবেলা সরকারি চাকুরি করে অন্য এক বেলায় এতো রিপোর্ট দেখে স্বাক্ষর করা সম্ভব নয়। শুধু ডাঃ সুকুমার সাহা নয়। নগরীর এবং সংলগ্ন এলাকার আড়াইশ’র বেশি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ২৬ জন প্যাথলজিস্ট এর পক্ষে রিপোর্ট প্রদান করা সম্ভব না। 
বাংলাদেশ প্যাথলজিস্ট সোসাইটির খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এস এম তুষার আলম সময়ের খবরকে বলেন বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্টরা অধিকাংশই দেখে শুনে রিপোর্ট প্রদান করে থাকেন। তারা রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয় না। প্যাথলজিস্ট সোসাইটির প্রত্যেক সভায় এ ব্যাপারে সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়। তারপরও যদি কোন চিকিৎসক নীতিবর্হিভূত কাজ করেন তিনি নিজেই তার দায়বহন করবেন।
বিপিসিডিএইচওএ এবং বিপিএমপিএ খুলনার সভাপতি ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান বলেন চিকিৎসার দিতে সঠিক রোগ নির্ণয় করা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। যে সকল প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের রি-এজেন্ট ব্যবহার করে, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না দেখিয়ে রিপোর্ট প্রদান করে, সেইসব প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৫








ব্রেকিং নিউজ






বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৫