খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা  অনিয়ম-দুর্নীতিমুক্ত করা জরুরি

০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা  অনিয়ম-দুর্নীতিমুক্ত করা জরুরি

এ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল তৈরির কাজ অন্য উপজেলায় সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের সুবিধার কথা ভেবে গত বছর নিজ উপজেলায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেছে, নিজ উপজেলায় উত্তরপত্র মূল্যায়িত হলে প্রভাব বিস্তারসহ নানা ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকে। সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল পরবর্তী শিক্ষা চাকুরি জীবনে কাজে না লাগলেও এর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তির বিষয়টি জড়িত। গত কয়েক বছর ধরে সমাপনী পরীক্ষার উত্তরপত্র নিয়ে অভিযোগ ছিল এক শ্রেণীর অভিভাবকের ইচ্ছায় কিছুসংখ্যক শিক্ষক ও কর্মকর্তা উত্তরপত্র বা টেবুলেশন শিটে জালিয়াতি করে নম্বর কম-বেশি করে থাকেন। নতুন ব্যবস্থায় উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল তৈরিতে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এছাড়া আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় পিইসি ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ৩২ সেট প্রশ্ন প্রণয়নের পর ৮ সেট লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করে ছাপানোর সিদ্ধান্তও ইতিবাচক।
বিসিএস থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, এমনকি স্কুল পর্যায়ে দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। প্রশ্ন ফাঁস শুধু অপরাধ নয় একই সঙ্গে নৈতিকতাবিরোধী। এ বোধ নাগরিকদের মধ্যে জাগ্রত হওয়া উচিত। 
প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে জাতির ভিত্তিস্তর। এ বাস্তবতার আলোকে ১৯৯৩ সাল থেকে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষা উপবৃত্তি, অবৈতনিক শিক্ষা ও মিড ডে মিলের ব্যবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করার লক্ষে সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষাকে অনিয়ম-দুর্নীতিমুক্ত করাও জরুরি। অস্বীকার করার উপায় নেই, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নানা সমস্যা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। অনিয়ম-দুর্নীতি এর অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ কাজটি সঠিকভাবে করতে হলে শিক্ষকতা পেশায় যোগ্য ও মেধাবীদের আকৃষ্ট করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়েও ভাবতে হবে। শিক্ষকরা হচ্ছেন জ্ঞান ও বিদ্যাদাতা। ঘরে ঘরে ‘জ্ঞান-প্রদীপ’ প্রজ্বলনে তাদের রয়েছে বিশাল ভূমিকা। মানুষ গড়ার কারিগরদের দায়িত্বশীল, ন্যায়নিষ্ঠ ও উন্নত মানসিকতার পরিচয় দিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে স্বপ্নের বাস্তবায়নে সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থাসহ সবকিছু শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩