খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

কমিউনিটি ক্লিনিকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করুন 

৩১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

কমিউনিটি ক্লিনিকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করুন 

অজ পাড়াগায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক সরকারের একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ উদ্যোগ। এ উদ্যোগের ফলে প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা এখন হাতের নাগালে। কিন্তু সেখানে কি আদতেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে? প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ না থাকায় ঢিমেতালে চলছে এসব সরকারি ক্লিনিকগুলো। অথচ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়ার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই সরকার সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছে।
গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব ও পরবর্তী সেবা দেয়া, শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার-পরিকল্পনা শিক্ষা ও পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া লোকজনের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে সরকার ১৯৯৮ সাল থেকে হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন সেক্টর প্রোগ্রামের আওতায় কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। সেই থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা  অতিক্রম করে আজ স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে সফল ও মডেল কর্মসূচি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রান্তিক জনগণের আস্থা অর্জন করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে এ ক্লিনিক। প্রত্যন্ত জনপদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝেও বেশ সাড়া পড়েছে। এসব মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিককে স্বাস্থ্যসেবার আশ্রয়স্থল হিসেবে মনে করে। তারা এখন যে কোনো অসুখে প্রথমেই ঘরের পাশের কমিউনিটি ক্লিনিকে যাচ্ছেন। তবে সব রোগের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেলেও পাচ্ছেন সঠিক পরামর্শ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থাপন করা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এভাবেই সহজ করেছে চিকিৎসাসেবা। ফলে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার চিত্র। 
গ্রামীণ জনপদের প্রতি ৬ হাজার অধিবাসীর জন্য স্থাপন করা হয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। ক্লিনিক স্থাপনের জন্য স্থানীয় জনগণকে ৫ শতক জমি দান করে দিতে হয়। সারা দেশে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ক্লিনিকে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সাড়ে ৫ কোটির বেশি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছে এবং এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে নিয়মিতভাবে ৩০ ধরনের ওষুধ রোগীদের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। প্রতি বছর এ খাতে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা। কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা প্রদানের জন্য প্রতি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কাজ করছে। সিএইচসিপিদের ৫৪ শতাংশই নারী সদস্য। সিএইচসিপিদের সপ্তাহে তিন দিন সহযোগিতা করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি স্বাস্থ্য মাঠকর্মী, স্বাস্থ্য সহকারী এবং পরিবার-পরিকল্পনা মাঠকর্মী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীরা।এর ফলে মানুষ ঘরের পাশে এক জায়গায় গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব ও পরবর্তী সেবা, শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান, পুষ্টিশিক্ষা ও অনুপুষ্টি সরবরাহ, স্বাস্থ্যশিক্ষা, বয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতা, সাধারণ আঘাত ও জখম, অন্যান্য অসংক্রমণ রোগ শনাক্তকরণ এবং এসবের রেফারেল সেবা পেয়ে থাকে।
আমরা মনে করি, দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক যেন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে সেজন্য সরকার, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি গ্র“প ও সাপোর্ট গ্র“পসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। সিএইচসিপিদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তদারকির মাত্রা আরও বাড়ালে ক্লিনিকের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চত হলে সেবা গ্রহীতার আস্থা আরও বাড়বে বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩