খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আল্ কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ৩০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

আল-কুরআন মানব কল্যাণের জ্ঞানের ভান্ডার। আর বিজ্ঞান হল বিশেষ জ্ঞান। বিজ্ঞান মূলত স্রষ্টার সৃষ্টির রহস্য উম্মোচনের জন্য সুশৃংখল পরীক্ষিত জ্ঞান। এই ‘বিজ্ঞান’ কুরআনে এর সমার্থক বলতে ‘হিকমাহ্’ শব্দকে বুঝায়। পবিত্র কুরআনে গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য অসংখ্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং বিজ্ঞান চর্চার প্রতি ব্যাপক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে এ প্রসংগে মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, “মহান প্রভু পরওয়ারদিগারে আলম যাকে ইচ্ছা বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞান দান করেন এবং যাকে হিকমত বা বিজ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে যারা জ্ঞানবান” (বাকারাহ ঃ ২৬৯)। হাদিস শরীফে আছে, নবী করিম (সাঃ) বলেন, “যুক্তি ও বিজ্ঞানসম্মত কথা ইমানদার ব্যক্তির হারানো সম্পদ। সে সম্পদ যে যেথায় পাবে, সেই হবে উহার সবচেয়ে বেশী অধিকারী” (তিরমিযী)।
পবিত্র কুরআন সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এটি সমগ্র মানব জাতির সমস্ত সমস্যার সমাধান। পবিত্র কুরআন সর্বকালের জন্যই সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক, কারণ এর রচয়িতা স্বয়ং মহান আল্লাহ, কেউ এর অনুরূপ কোন গ্রন্থ রচনা করতে পারবে না। এটা একটা ওপেন চ্যালেঞ্জ। আল্লাহ বলেছেন “তাদের বলুন, যদি মানুষ এবং জিন মিলেও কুরআনের অনুরূপ কোন গ্রন্থ রচনা করতে চায়, তাহলে তারা তা পারবে না যদি এ ব্যাপারে তারা একে অপরের সাহায্যকারীও হয়” (সূরা-বনি ইসরাইল ঃ ৮৮)।
তাইতো হাজারো মনিষির মত খ্রিষ্টান পন্ডিত ড. সেল বলেছেন, “কুরআনের মত অনন্য সাধারণ গ্রন্থ কোন মানুষ রচনা করতে পারে না। এটি একটি জীবন্ত মোজেজা বৈ আর কিছু না। যা মৃতকে জীবিত করার চেয়েও বিস্ময়কর।” বর্তমান যুগ হল বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির যুগ। বিজ্ঞানের ফলে মানুষের জীবন আজ এত উন্নত আর সহজসাধ্য হয়েছে। মানুষ আজ গ্রহ-গ্রহান্তরে ছুটছে বিজ্ঞানের কল্যাণে। আজ আমরা দেখব সেই আধুনিক বিজ্ঞান সম্পর্কে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন কি বলেছে।
কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের কি কোন বিরোধ আছে, নাকি সাদৃশ্যতা?
বিখাত পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, “ধর্ম ছাড়া যে বিজ্ঞান সেটা হল পঙ্গু। আর বিজ্ঞান ছাড়া যে ধর্ম সেটা হল অন্ধ।” তাই আমরা দেখব, পবিত্র কুরআন বিজ্ঞান নিয়ে কি বলছে? পবিত্র কুরআনের সাড়ে ছয় হাজারের মত আয়াতের মধ্যে প্রায় এক হাজারের মত আয়াতে বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলা হয়েছে যা মোট কুরআনের ১৫-১৬ শতাংশ। সমুদ্র বিজ্ঞান সম্পর্কে কুরআনে বলা আছে, “তিনিই সমান্তরালে প্রবাহিত করেছেন দুই দরিয়া, একটি মিষ্টি তৃষ্ণা নিবারক আরেকটি লোনা বিস্বাদ, উভয়ের মাঝে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল” (সূরা আল-ফুরকান ঃ ৫৩)।
চন্দ্র সূর্য এ কক্ষপথ ঃ পবিত্র কুরআনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “আল্লাহ্ই সৃষ্টি করেছেন, রাত্রি ও দিবস, সূর্য ও চন্দ্র, প্রত্যেকেই নিজ নিজক্ষ পথে বিচরণ করে” (সূরা আম্বিয়া ঃ ৩৩)। অন্য আয়াতে আছে, “সূর্য নাগাল পায়না চন্দ্রের, রজনী অতিক্রম করে না দিবসের এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে” (সূরা ইয়াছিন ঃ ৪০)। এখানে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে। প্রথম বৈজ্ঞানিকগণ ধারণা করেছিলেন যে, পৃথিবী ঘোরে আর সূর্য স্থির থাকে। পরে গবেষণা করে বলা হয়েছে, সূর্য, চন্দ্র, পৃথিবী তার নির্দিষ্ট পথে পরিভ্রমণ করে।
গবেষণা আবিষ্কারের প্রেরণা ঃ কুরাআন বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, যেমন রেফ্রিজারেটরের ধারণা টি পাওয়া যায় উটের পানি জমা করে রাখা পদ্ধতির মধ্যে আল্লাহ তায়ালা এ বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “তারা কি উটের প্রতি লক্ষ করে না যে, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে? (সূত্র সূরা আল-গাশিয়াহ্ ঃ ১৭)। নিরন্তর গবেষণার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, “অতএব হে চক্ষুমান ব্যক্তিবর্গ! তোমরা গবেষণা ও শিক্ষা গ্রহণ কর” (সূরা আলহাশর-২)।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮




পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮


মশা প্রসংগে মহাগ্রন্থ আল কুরআন

মশা প্রসংগে মহাগ্রন্থ আল কুরআন

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:০৫


ব্রেকিং নিউজ