খুলনা | বুধবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নামকরণের প্রস্তাব : প্রকল্প প্রেরণ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অনুমোদন মিললে জমি অধিগ্রহণ

খুলনায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ জেলা প্রশাসনের

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ২৯ অগাস্ট, ২০১৯ ০১:০০:০০

খুলনায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ জেলা প্রশাসনের

বিভাগীয় শহর খুলনায় একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এ দাবি তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের তুলে ধরা যুক্তিতে বলা হয়-উন্নত চিকিৎসার অভাবে রোগীরা ঢাকা ও দেশের বাইরে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার অভাবে মানুষ মৃত্যুবরণও করছে। এখানে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে চিকিৎসা বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণা করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে এ প্রকল্প প্রেরণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে। অনুমোদন পাওয়া গেলে জমিঅধিগ্রহণ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উদ্যোক্তরা। উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী দেয়া প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নে খুলনার দৌলতপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৮৯ সালের ১৮ জানুয়ারি নগরীর বয়রা এলাকায় ৪৩ দশমিক ২৫ একর জমির উপর খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর তিন বছর পর ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ। সময়ের প্রয়োজনে বিভাগীয় শহর খুলনাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নগরীর বয়রাস্থ আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামের তিনটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। এ অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে স্বনামধন্য কলেজ থাকলে পাবলিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নেই। ফলে আর্থিক সংকুলান না থাকায় চিকিৎসা শাস্ত্রে জ্ঞানার্জন করতে পারছেন না অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
সূত্রমতে, গত জুলাই মাসে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি উপস্থাপন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উন্মুক্ত আলোচনায় খুলনায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এতে যুক্তি দেখানো হয়, খুলনা বিভাগীয় শহর ও তৃতীয় বৃহত্তম নগরী। উপকূলীয় জেলা হওয়ায় এখানের জনগনকে প্রতিনিয়তই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে বসবাস করতে হয়। প্রতি বছরই এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনগনের চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্য সেবা পর্যাপ্ত নয়। উন্নত চিকিৎসার অভাবে রোগীদের ঢাকা এবং বিদেশে যেতে হয়। অসহায় দরিদ্র্য রোগী প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করে।
উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির আলোচনার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা/বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণের প্রস্তাবসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে দাপ্তরিকপত্র দেবার সিদ্ধান্ত হয়। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সরকারি উদ্যোগের বিষয়টি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও সংসদ সদস্য সেখ সালাউদ্দিন জুয়েলকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমান জানান, নামকরণসহ এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে জমি অধিগ্রহনসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু করা হবে।
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সম্পর্কে সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ মেহেদী নেওয়াজ। তিনি জানান, এর মধ্যদিয়ে বিএমএ, স্বাচিপ ও বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। চিকিৎসার মান অনেক গুণে বৃদ্ধি পাবে। বিভাগীয় শহরে গবেষণামূলক চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হবে। এসএম, এমফিল, এমবি প্রভৃতি কোর্স চালু হবে। এদতাঞ্চলে মেডিকেলে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেনের অভিমত চিকিৎসা বিজ্ঞানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পিছিয়ে আছে।
প্রসঙ্গত, ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হলেও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র ঘোষণায়ই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দু’দফায় খুলনা সফর করে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ঘোষণা দিলেও সেটি বাস্তবায়ন নিয়ে তেমন কোন তোড়জোড় ছিল না। একই সাথে আগামী মাসে আরও এক দফায় আরও প্রতিশ্র“তি নিয়ে খুলনা আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজে ছয়টি বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স (এম ডি, এম এস এন্ড ডিপ্লোমা) অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখনও রয়েছে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৪১