খুলনা | রবিবার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

কোচিং সেন্টারে শিক্ষার মান  উন্নয়ন নাকি কোচিং বাণিজ্য 

২৯ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

কোচিং সেন্টারে শিক্ষার মান  উন্নয়ন নাকি কোচিং বাণিজ্য 

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। কিন্তু সে শিক্ষা হতে হবে প্রকৃত শিক্ষা। কিন্তু বর্তমান সময়ে শিক্ষা অনেকটাই বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। আমাদের চারদিকে যেসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটে চলেছে এর জন্য প্রকৃত শিক্ষার অভাবকেই দায়ী করছেন অভিজ্ঞমহল।
শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণে প্রধান ভূমিকা কোচিং সেন্টারগুলোর। অথচ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার কথা ছিল। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দুর্বল বা আরো বেশি পারদর্শী হয়ে উঠতে চায়। কিন্তু বাস্তবে তা নেই। বাড়তি আয়ের লোভে শিক্ষকদের অধিকাংশ এসব কোচিং সেন্টারে নিজেদের সময়, শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ করেন। অনেক ক্ষেত্রে এ জন্য তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়।এখানে শিক্ষার মান উন্নয়নের নামে চলে অর্থ বানিজ্য। ভর্তি হতে লাগে ২০-২৫ হাজার টাকা। টাকা ছাড়া ভর্তি হওয়া কঠিন ব্যাপার। যার ফলে গরীব মেধাবীদের সুযোগ হয়ে উঠেনা। শিক্ষার মান তখন নীরবে কাদে।
২০১২ সালে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রিট করায় নীতিমালা বাস্তবায়ন আইনি বাধার কবলে পড়ে। তবে ৭ ফেব্র“য়ারি আদালত বাংলাদেশে সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য অবৈধ বলে রায় দেন। এর আগে দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর গত ২৪ জানুয়ারি নীতিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। নীতিমালায় সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না বলা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিয়ে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোনো কোচিং সেন্টারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারবেন না। সরকারি বা এমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই নীতিমালার বাইরে গিয়ে সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের কেউ শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারবেন না। তবে এর মধ্যে দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ায় ইতোমধ্যে কোচিং সেন্টার পরিচালনায় নানা পরিবর্তন আসায় নীতিমালাটি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা চাই যে কোনো মূল্যে কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠুক।
২০১২ সালের নীতিমালাটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় সংযোজন, পরিবর্তন, পরিমার্জন করে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলে তা বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার নানা জটিলতার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে কোচিং সেন্টারগুলো। আর এতে সময় ব্যয় করছেন শিক্ষকদের অনেকে। ফলে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছেন না। এছাড়া এটিকে তারা এমনভাবে গড়ে তুলেছেন যে কোচিংয়ে ভর্তি না হলে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ভালো বা সন্তোষজনক ফল করা কঠিন হয়ে উঠেছে। সব জটিলতা কাটিয়ে শিক্ষকদের জন্য কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার নীতিমালা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ






বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৫