খুলনা | রবিবার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবাধে কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরী

২৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবাধে কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরী

‘মাছে ভাতে বাঙালি’। একবেলা মাছ না খেলে যেন বাঙালির ভোজন বিলাস সুসম্পন্ন হয় না। শুধু এদেশে নয়, পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই মাছ মানুষের খাদ্য হিসাবে জনপ্রিয়। মাছ মানবদেহে অন্যতম আমিষের যোগানদাতা। বাংলাদেশে প্রায় ৩শ’ প্রজাতির স্বাদু পানির এবং ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের আমিষের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ হয় মাছ থেকে। তাই মৎস্য সম্পদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং উৎপাদন না বাড়িয়ে কোনো উপায় নেই। অথচ কারেন্ট জালের ব্যবহারে দিনকে দিন বিলুপ্ত হতে চলেছে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ। বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় ১৭ বছর আগে ২০০২ সালে সংশোধিত মৎস্য সংরক্ষণ আইনে কারেন্ট জাল উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এই আইন মানাই হচ্ছে না। 
দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে। এসব জাল দিয়ে জেলেরা বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল-বিলে দেশি প্রজাতির ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধন করছে। এছাড়া সুন্দরবনের নদ-নদীতে প্রকাশ্যে মাছ ধরা অব্যহত রয়েছে। এতে প্রশ্ন এসে যায়, জেলা মৎস্য অফিস বা উপজেলা মৎস্য অফিস কী করছে? তারা কেন কারেন্ট জাল বিক্রি বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না? এসব দেখার দায়িত্ব তো তাদেরই। কারেন্ট জাল দিয়ে এভাবে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে এর ফল কী হতে পারে, তা বিবেচনায় না নিয়ে তারা যেমন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে, তেমনি আইন অমান্য করতে সাহায্য করছে বলে আমরা মনে করি।
এমনিতেই নানা কারণে আমাদের বহু প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। তার ওপর যদি কারেন্ট জাল দিয়ে এভাবে অবাধে মাছ ধরা হয়, তাহলে আরও অনেক প্রজাতির মাছ যে অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। দেশের  বহু স্থানে কারেন্ট জাল উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে। সেসব জাল দিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারেন্ট জাল আটক এবং সংল্লিষ্ট জেলেদের মোটা অঙ্কের অর্থ জরিমানার খবর পত্রিকায় প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এই ক্ষেত্রে যে খামখেয়ালি রয়েছে তা স্পষ্ট। কিন্তু এ রকম তো চলতে পারে না। দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে হলে অবশ্যই এই জালের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কারেন্ট জাল উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জেলেসমাজের মধ্যে বৈধ জাল ব্যবহার করে জীবিকা উপার্জনের ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তাঁদের জালে মা মাছ, পোনা বা জাটকা ধরা পড়লেও যাতে তাঁরা সেগুলো পরে জলাশয়ে ছেড়ে দেন, সে ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আমরা মনে করি, মৎস্য খাতের ভবিষ্যতের স্বার্থেই কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরকে নিয়মিত অভিযান ও প্রচার-প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ






বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৫