খুলনা | রবিবার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

অস্তিত্ব সংকটে রয়েল বেঙ্গল টাইগার

২৭ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

অস্তিত্ব সংকটে রয়েল বেঙ্গল টাইগার

প্রাণীকুলের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও সাহসী প্রাণী বাঘ। বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণীর মর্যাদাও পেয়েছে। এক সময় সুন্দরবন শুধু নয়, দেশের আরও কিছু বনে ছিল বাঘের অস্তিত্ব। কিন্তু অবৈধ শিকারি ও পাচারকারীদের দাপটে সুন্দরবনের বাইরে দেশের অন্য কোনো অরণ্যে বাঘের অস্তিত্ব নেই। বিশ্বের বৃহত্তম বাদাবন সুন্দরবনেও বাঘের অস্তিত্ব বিপন্ন প্রায়।  সুন্দরবন ক্রমান্বয়ে বাঘ শূন্য হয়ে ওঠার পেছনে বাঘ পাচার অন্যতম দায়ী। 
১৮ বছর ধরে বিশ্বের ৩২টি দেশ থেকে পাচারের জন্য ২ হাজার ৩৫৯টি বাঘ শনাক্ত করার ঘটনায় ৫১টি বাঘ বাংলাদেশের বলে উঠে এসেছে এক জরিপে। ‘স্কিন অ্যান্ড বোনস আনরিজলভড’ শিরোনামের এই গবেষণা প্রতিবেদন নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রাফিক ইন্টারন্যাশনাল। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত ১৯ বছরে প্রতি বছর ১২০টি বাঘ হারিয়ে গেছে। চামড়ার জন্য প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫৮টি বাঘ পাচার করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতে বাঘের সংখ্যা ২ হাজার ৯৬৭টি। বাঘের পাচার ও অবৈধ বাণিজ্যেও শীর্ষে আছে দেশটি। গত ১৮ বছরে ভারতের ৪৬৩টি পাচারের ঘটনা থেকে ৬২৫টি বাঘ শনাক্ত করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের ৩৩টি ঘটনা থেকে ৫১টি বাঘ চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা ট্রাফিক। ট্রাফিকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ ১৩টি এশীয় দেশের বাঘ পাচারের চিত্র উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় কখনো মিলেছে বাঘের আস্তদেহ, কখনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে বাঘের চামড়া আর ২৯ শতাংশ ঘটনায় আস্তদেহ এর মধ্যে ১৫ শতাংশ মৃত বাঘ। 
বাংলাদেশ থেকে বাঘ পাচার নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। বিশেষত সুন্দরবনে মাত্র ১১৪টি বাঘের অস্তিত্ব প্রমাণ করছে বাঘ সংরক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ না নেওয়া হলে অচিরেই অস্তিত্বের সংকটে পড়বে এ প্রাণীটি। সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় অবৈধ শিকার বা পাচারের বিরুদ্ধে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। বাঘের অস্তিত্বের স্বার্থে পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সুন্দরবনের আলাদা বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার জন্য বাঘের প্রজনন বৃদ্ধির বিষয়টি প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার। পাশাপাশি আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলোর এ ব্যাপারে জবাবদিহি নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। কারণ, তাদের কোনো অংশের যোগসাজশ থাকলে বাঘ হত্যা ও চোরাচালান বন্ধ হবে না।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ






বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৫