খুলনা | রবিবার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে চাই সমন্বিত উদ্যোগ 

২৬ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে চাই সমন্বিত উদ্যোগ 

দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত চামড়া শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। চামড়া শিল্পের বিকাশে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অভাব, চামড়া শিল্পনগরীতে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি, বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন (সিইটিপি), আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ট্যানারি মালিকদের কারসাজি, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন, ব্যাংকঋণ প্রাপ্তি ও আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা প্রভৃতি কারণে চামড়া শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলো সিন্ডিকেটের হাতে বন্দী। ধান, পাট, শেয়ারবাজার, ঠিকাদারি সবখানে এক শ্রেণীর দুর্বৃত্তের অবাধ বিচরণ। বাজার ওঠা-নামার পেছনেও তাদের হাত সক্রিয়। সরকারের পক্ষ থেকে এবার গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকায় নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা। বিগত সাত বছরের মধ্যে সরকার নির্ধারিত এটাই সর্বনিম্ন রেট। কিন্তু এবার এমন অবস্থা দাড়িয়েছে যে কোনো কোনো স্থানে গরুর চামড়া সর্বনিম্ন ৫০ এবং ছাগলের চামড়া মাত্র ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ন্যায্য দাম না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ কোরবানির চামড়া রাস্তায় রেখে গেছেন। ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে অথবা মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। অনেকে চামড়াকে লোমমুক্ত করে রান্না করে খাওয়ার সচিত্র বর্ণনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। চামড়াশিল্পে বিপর্যয় নেমে আসার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মওসুমি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসে গেছেন। চামড়া বিক্রি করলে তা অনাথ, এতিম, দরিদ্র ও দুস্থদের দান করাই শরিয়তের বিধান। এই স্বেচ্ছাদানের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মাদরাসা, হিফজখানা ও এতিমখানার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থীদের খাবার জোগান দেয়া হয়।
২০১৩ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল সর্বনি ৮৫ আর সর্বোচ্চ ৯০ টাকা। একইভাবে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দর নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল সর্বনিম্ন ৫০ আর সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা। কিন্তু সিন্ডিকেট করে কোনো আড়ৎদার বা ট্যানারির মালিক এ দামে চামড়া কিনতে সম্মত হননি। অথচ আমাদের দেশের চেয়ে ভারতে চামড়ার মূল্য বেশি। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, দেশে বিভিন্ন প্রয়োজনে মাসে ৫০ লাখ বর্গফুট চামড়া বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অথচ রপ্তানি করার পরও ১১ কোটি ঘনফুট চামড়া আমাদের দেশে অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। দেশে চামড়াজাত দ্রব্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ২২ কোটি ঘনফুট চামড়া রপ্তানি করা যায়। বিদেশে চামড়া রফতানি করে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকা আয় করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব।  রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ১১৩ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে চামড়া খাত থেকে আয় হয় ৮৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার। ছয় বছরে ৩০ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, সারা বছর এ দেশে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হচ্ছে। এর অর্ধেকই হয় কোরবানির ঈদে। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মিলিয়ে দেশে এ বছর কোরবানি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ পশু। 
চীন বাংলাদেশী চামড়ার অন্যতম প্রধান আমদানিকারক। চীনের আমদানিকারকরা আগের দামে চামড়া কিনতে আগ্রহী নন। ফলে বাংলাদেশের চামড়া রপ্তানি বাণিজ্যে শুরু হয়েছে ভাটার টান। দরপতনের কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া চোরাই পথে পার্শ¦বর্তী দেশ ভারতে পাচার হয়ে যায়। ভারত চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রতি বছর ৫১ মিলিয়ন গরু, ১২৮ মিলিয়ন ছাগল ও ভেড়ার চামড়া উন্নত দেশে রফতানি করে ভারত আয় করে ৬৭৭ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় চামড়ার বাজার ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। 
বাংলাদেশের ট্যানারিগুলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর না হওয়ায় এবং সিইটিপি সুবিধাসংবলিত পর্যাপ্ত বর্জ্য শোধনাগার গড়ে না ওঠায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যে কারনে এ বছর কোরবানির ঈদের পর সারা দেশে কাঁচা চামড়া বিক্রিতে ধস নামে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাঁচা চামড়া রপ্তানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে ব্যবসায়িরা সম্মতি দিচ্ছে না। অথচ চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতেই সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চামড়া শিল্পকে বাচাতে সরকারের পাশাপাশি এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ






বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৮

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৫