খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

নগরীতে অনলাইনে চাকুরির প্রলোভনে প্রতারণার শিকার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮:০০

মাত্র দু’দিন প্রশিক্ষণ নিয়েই ঘরে বসে প্রতিমাসে ৮ থেকে ২০ হাজার টাকা আয়ের সুবর্ণ সুযোগ; বিজবন্ড আইটি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে এমনি চটকদার প্রলোভনে পড়েছে খুলনার অর্ধশতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। খোঁয়াতে বসেছে প্রশিক্ষণের নামে জনপ্রতি জমা দেয়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এসব অর্থ ফেরত পেতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর শিববাড়ীর কেডিএ এভিনিউস্থ মিল্টন টাওয়ারের তৃতীয়তলায় বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন এসে মীমাংসার প্রতিশ্র“তি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
শিক্ষার্থীদের একাধিক সূত্র জানায়, ‘বিজবন্ড আইটি লিমিটেড’ নামের অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি সোনাডাঙ্গায় তিন/চার মাসের মতো ব্যবসা শুরু করে। মাত্র দু’দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরে বসেই প্রতিমাসে ৮ থেকে ২০ হাজার টাকা আয়ের সুবর্ণ সুযোগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে ইরুইড়হফ ওঞ খরসরঃবফ। সে আশায় খুলনার অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী ভর্তি হয় প্রতিষ্ঠানটিতে। চলতি মাসের শুরুতেই অফিস হস্তান্তর হয়ে শিববাড়ীর মিল্টন টাওয়ারের তৃতীয় তলায় আসে। কিন্তু প্রশিক্ষণের নামে অর্থ জমা দিয়ে চাকুরি ও প্রশিক্ষণের সুফল না পাওয়ায় গতকাল বিকেলে অফিসে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধরা।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রশিক্ষক রাসেল উজ্জামান বলেন, “আমাকে যে প্রতিশ্র“তিতে চাকুরিতে নেয়া হয়েছিল তা রক্ষা করেননি বিজবন্ড আইটি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ আব্দুল হামিদ। সে কারণে আমি বিজবন্ড আইডি লিমিটেড থেকে চাকুরি ছেড়ে দিয়েছি। আমার মাধ্যমে প্রায় ত্রিশ-চল্লিশজন স্টুডেন্ট এখানে ভর্তি হয়েছে। প্রতিশ্র“ত অনুযায়ী চাকুরি না পাওয়ায় তারা অর্থ ফেরত চায়।’ তিনি আরও বলেন, ভর্তির সময় বলা হয়েছিল-দু’দিন প্রশিক্ষণের পরই মাসে ৮ থেকে ২০ হাজার টাকার বেতনে চাকুরি দেয়া হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা গেল দু’মাসে হতাশ হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে লিতুনজিরা, পার্থ মল্লিক, মনির হোসেন, হৃদয় বিশ্বাস, সামিউর, লাবন্য আক্তার ও শরিফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবারে আমাদের সাথে ভর্তি হওয়া প্রিয়ব্রতকে ভর্তিকালীন অর্থ ফেরত দেয়া হয়েছে। তাহলে আমাদের টাকা চাইতে গেলে কেন খারাপ ব্যবহার করলেন পরিচালক আব্দুল জব্বার। গত দু’মাসে আমাদের ঠিকমতো প্রশিক্ষণও দেয়া হয়নি; আর চাকুরি তো দেয়া হবেই না। এখন বলা হচ্ছে-আমাদের নতুন স্টুডেন্ট ভর্তি করিয়ে দিতে হবে। এখন যা বলছেন, তা এক ধরনের এমএলএম।
অশ্র“সিক্ত কণ্ঠে লিতুনজিরা বলেন, আমাকে একা পেয়ে ডাইরেক্টর আব্দুল জব্বার আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন।
বিজবন্ড আইটি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, ঢাকাতে আমাদের হেড অফিস। খুলনার শিববাড়ীতে আমরা এ মাসেই কার্যক্রম শুরু করেছি। ভর্তির পর প্রশিক্ষক না থাকায় কিছুদিন প্রশিক্ষনের বিঘœ হয়েছে। তবে এখানে প্রতারণার কোন বিষয় নেই বলে তিনি দাবি করেন। 
স্থানীয় ১৯নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোতালেব মিয়া বলেন, বিশৃঙ্খলার ঘটনা শুনে এসে বিস্তারিত শুনেছি। তাদের ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজন কাগজ পত্র নেই। লিমিটেড কোম্পানির কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে তারা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে অঙ্গীকার করেছেন।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ