খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

অনন্য বৈশিষ্ট্যের প্রতীক মহাগ্রন্থ ‘আল-কুরআন’

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ২৩ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর মানব জাতির জন্য পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে আল-কুরআন নাযিন করেছেন। তার নবুওয়াত প্রাপ্তির পর থেকে সুদীর্ঘ তেইশ বছর ধরে এ গ্রন্থ নাযিল হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী কখনও এক আয়াত কখনও কয়েকটি আয়াত, আবার কখনও পূর্ণ একটি সূরা নাযিল হয়। ঐশী গ্রন্থ আল-কুরআন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) একটি গতিশীল মুজিজা। মূলত, কুরআন শব্দটি “কারাআ” শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ- পাঠ করা, তিলাওয়াত করা।
পরিভাষায় বলা হয়, আল-কুরআন মহান আল্লাহর কিতাব যা “আরবী ভাষায় মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর রুহুল আমীন জিব্রাইল (আঃ) এর মাধ্যমে নাযিল করা হয়েছে এবং তা মাসহাফ সমূহে লিপি বদ্ধ আছে।
এই মহান বানী বিশ্ব মানব জাতির উপদেশের ভান্ডার হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। পবিত্র কুরআনের উল্লেখ আছে-
“আমি তোমাদের জন্য কিতাব নাযিল করেছি, তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে উপদেশ। তবুও কি তোমরা বুঝবেনা।” (আম্বিয়া : ১০)
মহাগ্রন্থ’ আল-কুরআনে সততা, বিশুদ্ধতাও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা, করলে একটি গ্রন্থ রচনার প্রয়োজন, নিম্নে অতি সংক্ষেপে পবিত্র আল-কুরআনের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো :
১। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন সকল সন্দেহ ও সংশয়ের উর্ধ্বে। মানব রচিত কোন বই কিতাব নেই যার ভূমিকায় একথা থাকে না যে, ‘আমার লেখার মধ্যে কোন ভুলত্র“টি পরিলক্ষতি হলে সহৃদয় পাঠক জানালে তা অবশ্যই সংশোধিত হবে।” কিন্তু আল-কুরআনের শুরুতেই বলা হয়েছে, “লা- রায় বা ফিহ্” অর্থাৎ- এতে সন্দেহের অবকাশ মাত্র নেই।
২। কুরআন মজীদ এক সঙ্গে অবতীর্ণ না হয়ে কেন অল্প অল্প করে দীর্ঘ তেইশ বৎসর কাল ব্যাপী অবতীর্ণ হল। অথচ তাওরাত, জবুর, ইঞ্জিল, প্রভৃতি আসমানী কিতাব একসঙ্গে নাযিল হয়েছিল। এটি একটি অনুধাবন যোগ্য বিষয়। এ প্রশ্নটি ছিল কাফেরদের পক্ষ থেকে, “মানাহেলুল ইরফান কি উলুমিল” কোরআনের লেখক কুরআন অল্প অল্প করে নাযিল হওয়ার ভিতরে চারটি বিশেষ হিকমতের কথা উল্লেখ করেছেন, (ক) রসুলের অন্তরকে শক্তিশালি করা, (খ) মুসলিম উম্মতের ধারাবাহিক তরবীয়ত শিক্ষা, (গ) নতুন নতুন সমস্যা সমূহের ব্যাপারে পথ প্রদর্শন, (ঘ) কুরআন আল্লাহর কিতাব হওয়ার অকাট্য প্রমাণ। এই অবতীর্ণের ধারাবাহিকতা কুরআনের অনান্য বৈশিষ্ট্যের দাবী রাখে।
৩। মককায় প্রতি বছর ‘ওকায’ মেলায় অনুষ্ঠিত কাব্য প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থন প্রাপ্ত সাতটি কবিতা মিশরীয় লিলেন বস্ত্রে সোনালী হরফে লিখে কাবা শরীফে লটকানো হয়েছিল যা “সাবয়া মুয়াল্লাকা” নামে খ্যাত যা অদ্যাবদি মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠসূচির অন্তর্ভুক্ত আরবী সাহিত্যামোদীদের সাহিত্য রস বিতরনে ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐ সময়েই মহান আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় চ্যালেঞ্জ প্রদান করে ঘোষনা দেন। “আমার বান্দার কাছে যা নাযিল করেছি তাতে যদি তোমাদের সন্দেহ থাকে, তবে তেমন একটি সূরা নিয়ে এস, যদি সত্যবাদী হয়েই থাক। তাহলে আল্লাহ ছাড়া আর যারা তোমাদের সাহায্যকারী রয়েছে তাদেরকে ডেকেই দেখনা, কিন্তু তোমরা যদি তা না পার আসলে কখন ও তা পারবেনা- (বাকারাহ : ২৩, ২৪)।
তরপর পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরা “আল কাওছার” তার দুটো আয়াত কাবার ফটকে টাঙিয়ে দিয়ে তৃতীয় আয়াতটি লিখে দেয়ার জন্য বলা হল। দীর্ঘ দিন চেষ্টা প্রচেষ্টা করার পর আরবের বড় বড় কবি সাহিত্যিক হয়রান পেরেশান হয়ে গেল। পরিশেষে কবি লুবিদ লিখে দিলেন, “লায়সা হাষা মিন কালামিল বাসার” অর্থাৎ- এটা মানব রচিত কোন কথা নয়, এ চ্যালেঞ্জ কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।
৪। একজন উম্মী নবী, যিনি কোন পাঠশালায় কোন শিক্ষকের নিকট অক্ষরিক জ্ঞানটুকুও লাভ করেন নি। তার কারণ ছিল দু’টি প্রথমত : কুরআনের মুজিজা প্রকাশ। দ্বিতীয় : মহান আল্লাহর মহান উদ্দেশ্য রাসুলকে কোন ব্যক্তির কাছে ছোট না করা। তারই উপর জ্ঞানগর্ভ বিজ্ঞান ময় সাহিত্যের ভান্ডার ‘আল কুরআন’ নাযিল হল। এর পেছনেই কি রহস্য নিহিত। এটা চিন্তা করলেও তো এর অনবদ্য বৈশিষ্ট্যের কথা স্মরন করিয়ে দেয়।
৫। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত এর কত যে সংকলন হয়েছে এবং হচ্ছে তার সঠিক পরিসংখ্যান বের করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। এত অগণিত কপির মধ্যে কোন একটি হরকত নূক্তার হেরফের পরিদৃষ্ট হচ্ছেনা।
৬। মহা গ্রন্থ আল-কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহ নিজের জিম্মাতেই রেখে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আমিই এ যিকর নাযিল করেছি এবং এর সংরক্ষকও আমি” (হিযর- ৯)।
“বিস্মিল্লাহির রহ্মানির রহ্মি” বাক্যে ব্যবহৃত হরফ সংখ্যা উনবিংশ কে কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এমনভাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে যার সামান্য তম হেরফের হয়ে গেলেও তা ধরা পড়তে বাধ্য।
পরিশেষে, বলতে চাই অনন্য বৈশিষ্ট্যের প্রতীক “আল-কুরআনের বিধান মেনে কুরআনের আলোকে জীবন গড়তে পারি, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমিন॥
(লেখক : মুফাস্সিরে কোরআন ও প্রভাষক, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ, শরণখোলা।)


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮




পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮


মশা প্রসংগে মহাগ্রন্থ আল কুরআন

মশা প্রসংগে মহাগ্রন্থ আল কুরআন

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:০৫


ব্রেকিং নিউজ