খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

এক প্রকল্পে টাকা নষ্টের পর প্রকৌশলী অন্য প্রকল্পে কিভাবে থাকে : প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২১ অগাস্ট, ২০১৯ ০১:১৪:০০

এক প্রকল্পে প্রকৌশলীর গাফিলতিতে টাকা নষ্ট হওয়ার পর তার শাস্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এর আগে এ ধরনের একটি প্রকল্পে ইঞ্জিনিয়ারের গাফিলতির কারণে অনেক টাকা নষ্ট হয়েছে। আবার ওই ইঞ্জিনিয়ার দেখি এ প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তাহলে তার তখনকার ভুলের জন্য কি শাস্তি দেওয়া হয়েছে?
এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী এবং সচিব কোনো সদুত্তর দিতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী ও সচিব বলেন, একনেক থেকে ফিরে গিয়েই তারা ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনী ও বিধিবিধানগত ব্যবস্থা শুরু করবেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এসব আলোচনা হয়। মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পরে এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী এসব প্রসঙ্গ তোলেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বলতে যেটি বলা হয়েছে সেটি হচ্ছে ভুল এ্যাসেসমেন্টের কারণে ওই সময় সরকারের অনেক টাকা জলে গিয়েছিল।
অপরদিকে ওই বৈঠকে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ২০ লাখ টাকার ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই অর্থের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিলের (জিওবি) ৩ হাজার ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ ৩০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সবজি রফতানি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ বিমানকে দু’টি কার্গো বিমান কেনার বিষয়ে চিন্তা করতে বলেছেন। কারণ, কৃষিপণ্য রপ্তানি বেড়েছে। অন্য বিমানে বেশি ভাড়া নিয়ে পাঠাতে হচ্ছে বলে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। দু’টি কার্গো বিমান কিনলে অনেক কম খরচেই রপ্তানি করা যাবে। এছাড়া নভেম্বর মাসে আরও একটি ড্রিমলাইনার বিমান আসছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর আরো কিছু নির্দেশনার বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে সারাদেশের বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচ দিয়ে করতে হবে। নতুন করে স্লুইস গেট নির্মাণ না করারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেননা এসব গেট মরিচা পড়ে কয়েক দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। আর কাজ করে না। তাই একেবারেই অপরিহার্য না করে এসব গেট নির্মাণ করা যাবে না। হাওর অঞ্চলে সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকৃতিকে বাধা দিয়ে কিছু করা যাবে না। তাই এসব সড়কে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহের জন্য প্রচুর ব্রীজ বা কালভার্ট রাখতে হবে। তাছাড়া যেখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করা যায় সেখানে সেটিই করতে হবে। কোনো এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হলে সেই প্রকল্পের সঙ্গে গাছ লাগানোর জন্যও বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে কোনো প্রকল্প প্রস্তাবে গাছ লাগানোর প্রস্তাব থাকলে তা কেটে না দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে বলেছেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জিএনএসএস করস-এর নেটওয়ার্ক পরিধি সম্প্রসারণ এবং টাইডাল স্টেশন আধুনিকীকরণ; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ৩টি থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত), সুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়কের শাল্লা-জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণ ও রাঙামাটি সড়ক বিভাগের অধীন পাহাড়ভূমি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন কিলোমিটারে ড্রেনসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ; অর্থ মন্ত্রণালয়ের খুলনা কর ভবন নির্মাণ; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩টি মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন ড্রেজিং-এর মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ (প্রথম সংশোধিত) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি থেকে ধরাভাঙ্গা এমপি বাঁধ পর্যন্ত মেঘনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ; কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নাটোর জেলার সেচ সম্প্রসারণ ও কৃষি বিপণন অধিদফতর জোরদারকরণ; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবিলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ইএউবি-গভসিআইআরটির সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এম মান্নান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩


জি কে শামীমের অর্থের উৎস অবৈধ

জি কে শামীমের অর্থের উৎস অবৈধ

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩



সেই জি কে শামীমকে  ১৩টি সম্মাননা-পদক

সেই জি কে শামীমকে  ১৩টি সম্মাননা-পদক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪০






ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩