খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

‘চার হাজার বন্দী, কারাগারে ঠাঁই নেই’

জম্মু-কাশ্মীরে কারফিউ উঠছে, তবুও শঙ্কায় মানুষ

কবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪১:০০

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরে আজ সোমবার থেকে কারফিউ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের বিধি-নিষেধ শিথিল করে দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে কাশ্মীরের ১৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রমও শুরু করা হচ্ছে গতকাল সোমবার থেকেই। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যসচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) রোহিত কানসাল এ খবর জানিয়েছেন।
তবে কেন্দ্র থেকে কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। এ ছাড়া কাশ্মীরের বাসিন্দাদের মনে উপত্যকা ঘিরে বিভিন্ন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে গত শনিবার কাশ্মীরের ৩৫টি থানায় বিধিনিষেধ শিথিল করে দেওয়া হয়। রবিবার তা বাড়িয়ে শিথিল করা হয় ৫০টি থানায়। শনিবার থেকেই কাশ্মীরের রাস্তায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় দোকানপাটও খুলতে শুরু করেছে। যদিও কিছু এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করছে, বেশ কিছু যুবক মোটরবাইকে করে দোকানদারদের ব্যবসা বন্ধ রাখতে বলছে। ওই যুবকরা কারা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যসচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) রোহিত কানসাল জানান, আপাতত কাশ্মীরের কোনো জায়গা থেকে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, কাশ্মীর উপত্যকায় ল্যান্ডলাইন পরিষেবা সম্পূর্ণ চালু করার জন্য পুরোদমে কাজ করছে ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)।
এদিকে রবিবার জম্মুতে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইলের টু-জি পরিষেবা। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে চালু করা হয় বিধি-নিষেধ।
এ ব্যাপারে জম্মুর প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, জম্মুতে ফোন চালু করলেই বিভিন্ন এলাকায় গুজব ছড়াতে শুরু করে। বেশ কয়েকটি জায়গায় পাথর ছোঁড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইলের টু-জি পরিষেবা। সেইসঙ্গে আবারও শুরু হয় বিধি-নিষেধ।
কারাগার : ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর বিক্ষোভের আশঙ্কায় হাজার-হাজার মানুষকে বন্দী করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ম্যাজিস্ট্রেট এএফপিকে বলেছেন, ‘ভারতের জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) দোহাই দিয়ে অন্তত চার হাজার মানুষকে বন্দী করেছে বিজেপি সরকার। জননিরাপত্তা আইন ভারতের একটি বিতর্কিত আইন, যার মাধ্যমে কোনো অভিযোগ ছাড়াই যে কাউকে গ্রেফতার করে দুই বছরের জন্য বন্দি করে রাখতে পারবে কর্তৃপক্ষ।’
ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, ‘অসংখ্য মানুষকে বন্দী করার জন্য কাশ্মীরের কারাগারগুলোতে যথেষ্ট জায়গা নেই। আর এ জন্য কাশ্মীরের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় বন্দি রাখা হয়েছে অনেক মানুষকে।’
এর আগে কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ বিলোপের কয়েকদিনের মধ্যেই শতাধিক স্থানীয় রাজনীতিবিদ, কর্মী ও শিক্ষাবিদকে আটক করা হয়েছিল বলে জানানো হয়। তবে এর পর থেকে মোট কতজনকে বন্দী করে রাখা হয়েছে তা জানাতে বারবার অস্বীকার করছে কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, তিন দশক ধরে ভারতীয় বিধি-নিষেধের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করা একটি অঞ্চলে অশান্তি এড়ানোর জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘আটক হওয়ার পর অন্তত ছয় হাজার মানুষকে শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে।’
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রথমে তাঁদের শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে সামরিক উড়োজাহাজে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়।’
এদিকে গত শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন কেন্দ্রসহ বারামুল্লা ও গুরেজের কনভেনশন কেন্দ্রকে অস্থায়ী বন্দীশালা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বন্দিশালায় অন্তত ৫৬০ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে আটক রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






ভারতে সুপার ইমার্জেন্সি  চলছে : মমতা

ভারতে সুপার ইমার্জেন্সি  চলছে : মমতা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:২২








ব্রেকিং নিউজ