খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘন

খুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৯ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৯:০০

খুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!

গাড়ি ক্রয়ের জন্য সরকারের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকাসহ বিশেষ সুবিধা শর্ত সাপেক্ষে গ্রহণের পরও খুলনায় বিভিন্ন দপ্তরে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সংস্থার গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণ করছে এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকার ও সংস্থাগুলোর মোটা অঙ্কের অর্থের অপচয় হচ্ছে।জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিবহন শাখার প্রজ্ঞাপনের নানা স্মারকে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০১৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী নতুন অথবা ক্রয়ের তারিখ হতে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রস্তুতকৃত সেডান কার বা জীপ ক্রয় করার জন্য ৩০ লাখ টাকা শর্ত সাপেক্ষে প্রদান করেন। সরকারি শর্তের (খ) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে বিশেষ সুবিধা গ্রহণকারী কোন কর্মকর্তা সাধারণভাবে তার দপ্তর/প্রকল্প হতে কোন সরকারি বা ব্যক্তি প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন না। 
(জ) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, প্রেষণ/মাঠ প্রশাসন/ প্রকল্পে কর্মরত প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা থাকলে উক্ত কর্মকর্তার নিজ গাড়ি সচল রাখার প্রয়োজনে মেরামত/সংরক্ষণ, জ্বালানী, ড্রাইভারের বেতন ইত্যাদি বাবদ নীতি ১০(১) অনুযায়ী গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের শতকরা ৫০ ভাগ অর্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থা/ অফিস হতে প্রাপ্য হবেন। সার্বক্ষণিক গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা না থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের সুপারিশসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের ছাড়পত্র প্রদানের পর শতকরা ১০০ ভাগ গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রাপ্য হবেন। শতভাগ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়প্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিস যাতায়াতে বা অন্য কোন কাজের জন্য কোনভাবেই কর্মস্থলের গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। 
জানা গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাদানের পর থেকে বেশিরভাগ কর্মকর্তারা গাড়ি এবং দপ্তরের ড্রাইভারের সুবিধা নিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিমাসে সংস্থাটি থেকে মেইনটেন্যান্স খরচ, প্রয়োজনীয় মোবিল ও জ্বালানী তেলও নিচ্ছেন। অন্যদিকে, ওইসব কর্মকর্তারা সরকারের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা শর্ত সাপেক্ষে গ্রহণ করে ব্যক্তিগত জীপ ক্রয়ের পরও মেরামত/সংরক্ষণ, জ্বালানী, ড্রাইভারের বেতন ইত্যাদি বাবদ প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করছেন। একই সাথে কর্মরত সংস্থার ড্রাইভার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন। 
একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সংস্থার গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণ করছেন। ফলে সরকারি শর্ত ভঙ্গ হচ্ছে এবং সরকারের ব্যয় বাড়ছে। যা আইনের পরিপন্থী।
বিশেষ সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।  তবে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, তিনি সরকারি নীতিমালা মেনে সুবিধা ভোগ করছেন। তবে যেসব কর্মকর্তারা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ