খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় জলমহলে প্রভাবশালীদের দাপট! হুমকির মুখে কৃষি জমি ও মৎস্য ঘের

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ১৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৪:০০

চলতি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি বন্দী হয়ে পড়ছে খুলনার নয় উপজেলায় জলমহলের আশেপাশে বাসবাসকারী হাজার হাজার পরিবার। জলমহলগুলো প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল, খন্ডে-খন্ডে বিভক্ত করে চিংড়ি চাষ ও সাব-লিজ দেয়ায় পানির অবাধ প্রবাহ ও সুষ্ঠু নিষ্কাশন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এছাড়া চরম হুমকির মুখে পড়ছে বসতবাড়ি, কৃষি জমি ও ছোট ছোট মৎস্য ঘের। অবশ্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সংশ্লি¬ষ্টরা বলছেন, ইজারা গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ৯ উপজেলায় ২০ একরের অধিক আয়তনের জলমহল রয়েছে অন্তত ১৫৬টি। এর মধ্যে কয়রা উপজেলায় রয়েছে ৩৫টি, দাকোপে ২১টি, পাইকগাছায় ৫৪টি, বটিয়াঘাটায় ১৩টি, ডুমুরিয়ায় ২৪টি, রূপসায় ৭টি এবং তেরখাদায় রয়েছে ২টি। এসব জলমহলের মধ্যে কিছু জেলা প্রশাসন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইজারা দিয়েছে। তবে মাটি ভরাটসহ নানা কারনে অনেক জলমহল ইজারা দেয়া সম্ভব হয়নি, আবার মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় বেশ কয়েকটি জলমহল আটকে রয়েছে। এছাড়া ২০ একরের নিচের জল মহলগুলো ইজারা দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা (ইউএনও)। যা জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নথিভুক্ত নেই।
অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালীরা ওই সব জলমহল দখল করে ভেড়ীবাঁধ, পাটা ও নেট দিয়ে খন্ডে খন্ডে বিভক্ত করে চিংড়ি চাষ অথবা সাব-লিজ দিচ্ছে। যার কারণে পানির স্বাভাবিক স্রোত ও সুষ্ঠু নিষ্কাশন প্রক্রিয়া চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অল্প বৃষ্টিতেই জলমহলের আশেপাশে বাসবাসকারীদের বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি জমি, বসতবাড়ি ও ছোট ছোট মৎস্য ঘের।
বামুন্দিয়া পানি ব্যবস্থাপনা দল খুলনা-১৩৬ এর সহ-সভাপতি ও হরি-ভদ্রা পানি ব্যবস্থাপনা এ্যাসোসিয়েশন (খর্ণিয়া-রুদাঘরা) এর কার্যকরী সদস্য মোঃ সোলাইমান ফকির বলেন, খুলনার অন্তর্গত ২৫নং পোল্ডারের আওতাধীন বামুন্দিয়া, বাওড় খাল/নদীতে অর্থাৎ পাচুড়িয়া হতে বামুন্দিয়া কালীতলা ও কাঁঠালিয়া পর্যন্ত মোঃ রায়হান খান গং, মোঃ আব্দুর হালিম শেখ, মোঃ নজরুল ইসলাম ফকির, মোঃ হাবিবুর রহমান শেখ, মোঃ শুকুর আলী জোয়াদ্দার, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক মোল্লা, শ্যামল দালাল, হিরামন মল্লি¬ক, জামাল গাজী ও নিরাপদ দেবনাথ অবৈধ ভেড়ীবাঁধ দিয়েছে। যার কারণে পানি নিষ্কাশণ হচ্ছে না। গতকাল শনিবারও বর্ষায় বামুন্দিয়ার শেখ পাড়ায় তীব্র জলযটের সৃষ্টি হয়। অবশেষে এলাকার মানুষ দল বেঁধে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে কিছু বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করে। এছাড়া ডুমুরিয়ায় আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাল রয়েছে। যেগুলো প্রভাবশালীরা ইজারা নিয়ে ঘের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কিন্তু তারা চুক্তিপত্র ভেঙে খালগুলোতে ভেড়ীবাঁধ, পাটা ও নেট দিয়ে পানির স্রোত বন্ধ করছে। কেউ কেউ সাব-লীজও দিচ্ছেন। 
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ বেগম বলেন, কোন জলমহলের ইজারা গ্রহীতা এ ধরনের কোন কার্যকলাপের সাথে লিপ্ত থাকলে এবং তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে। 
খুলনা রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও এ্যক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ইজারা গ্রহীতারা স্রোতস্বীনি জলমহল খন্ডে খন্ডে বিভক্ত করে মাছ চাষ বা সাবলীজ দিতে পারবে না। যদি কোন ইজারা গ্রহীতার বিরুদ্ধে এ ধরনের শর্তভঙ্গের অভিযোগ আসে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










খুলনায় তৎপর ৮টি গ্রুপ 

খুলনায় তৎপর ৮টি গ্রুপ 

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২০




ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩