খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আগুনে সব হারিয়ে এখন মিরপুর বস্তিতে থাকা নিয়েই শঙ্কা

ধ্বংসস্তূপে সব হারানো মানুষের আর্তনাদ

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:২৪:০০

নগরীর নিম্নবিত্ত মানুষের আবাস বস্তি। যেখানে সাধ্যের মধ্যে শত-সহস্র স্বপ্নের মেলবন্ধন ঘটান তারা। ছোট-ছোট ঘরগুলোতেই সুখের নীড় বাঁধেন সমাজের ন্যূনতম চাওয়া-পাওয়ার মানুষগুলো। তবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাধ্যের মধ্যে সাজানো-গোছানো আশ্রয়স্থল হারিয়ে যেন বাকরুদ্ধ তারা। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে কি করবেন এমন দুশ্চিন্তা ভর করেছে তাদের মনে।
ঈদের আমেজ তখনো কাটেনি মিরপুরের রূপনগরের চলন্তিকা মোড়ের বস্তির বাসিন্দাদের। ছেলেমেয়েদের কোলাহল, সারা দিন বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরে আসা বাসিন্দাদের চিৎকার- চেঁচামেচিতে সরগরম ছিল বস্তিটি। অনেকেরই ঘরে ফ্রিজ, কাঠের আসবাবপত্র, সোনার গহনা, নগদ টাকাসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী ছিল।
হাজার হাজার ঘরের মধ্যে কিছু বাসিন্দা বাড়িতে ঈদ করতে গেছেন, কিছু বাইরে গেছেন-ঠিক সেই সময়টাতেই সন্ধ্যার মুহূর্তে আগুন লাগে বস্তিতে। যে যেভাবে পারেন জীবন বাজি রেখে বেরিয়ে আসেন। তিন ঘণ্টা পর যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, তখন দেখা যায়, সেখানে কোনো ঘর নেই, পড়ে আছে শুধু পোড়া টিন, কাঠ আর কয়লা। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় পুরো বস্তিটাই গিলে ফেলেছে আগুনের লেলিহান শিখা।
শনিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর গিয়ে রূপনগর থানার পেছনের এই বস্তি ঘুরে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটি জানা গেছে। এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা এ নিয়ে বস্তির বাসিন্দাদের কেউ প্রকাশ্যে কোনো কথা বলছেন না। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাশকতার কোনো অভিযোগ তাদের কাছে নেই।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটের দিকে মিরপুরের চলন্তিকা মোড় সংলগ্ন ঝিলপাড় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে ২৪টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। তবে রাত দেড়টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপন করা সম্ভব হয়।
আগুনের ভয়াবহ তীব্রতায় ঝিলপাড় বস্তি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কাঁচা টিনের ঘরগুলো এবং ঘরের সব সরঞ্জাম। আর এই ধ্বংসস্তূপে সব হারানো মানুষগুলো খুঁজে ফিরছেন অবশিষ্ট সম্বল। পোড়া ছাইয়ের নিচ থেকে নেড়ে-চেড়ে লোহার আসবাবের ফ্রেমগুলো বের করছিলেন তারা।
বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। থাকার কোনো জায়গা নেই। খাওয়ার কিছু নেই। সারা রাত সবাই রাস্তায় কাটিয়েছে। আজ রাতে কোথায় ঘুমাবে সেটাও জানে না তারা। এই বস্তিতে তাদের আর থাকতে দেওয়া হবে কি না, সেটাও তারা জানে না।
পেশায় সুইপার আলমগীর নিজের পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে অবশিষ্ট আসবাব টেনে তুলছিলেন আর কিছুক্ষণ পর পর চোখ মুছছিলেন। কারো সঙ্গে কথা বলতে গেলেই চিৎকার করে উঠছেন স্বপ্ন পুড়ে যাওয়া মানুষটি। পুড়েছে খাটের তোষকও ।
তিনি জানান, তার ১৩টা ঘর ছিলো বস্তিতে। সেখানে স্ত্রী-পুত্র, ছেলের স্ত্রী, নাতিদের নিয়ে বসবাস করছিলেন। ১৩ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করা আলমগীরের এই বস্তিতে অস্থায়ী ঠিকানা প্রায় ৩০ বছরের। গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে।
তিনি বলেন, আমরা সবাই বাঁইচা আছি বাবা, তয় না বাঁচার মতো। আগুন লাগার পর সবাই সুস্থভাবে কোনমতে জানডা নিয়া বাইর হইয়া আইছি। লগে কিছু আনতে পারি নাই। আমার সবকিছু শেষ হইয়া গেলো, দেহেন বাবা সব ছাই হইয়া গেছে।
দীর্ঘদিনের আবাস এই বস্তির সংসারে তিলে তিলে খাট, টিভি-ফ্রিজ, আলমারিসহ বিভিন্ন আসবাব জুড়িয়েছিলেন তিনি। যার সবকিছুই প্রায় ছাই হয়ে গেছে।
গত রাত থেকে না খেয়ে থাকা আলমগীর বলেন, আইজও (শনিবার) দুপুর হইতে লাগলো এহনো কিছু খাইতে পারি নাই। কিছু কিন্না খাওনের মতো কাছে একটা টাকাও নাই। এহন আমরা কই যামু, কই থাকমু, কেমনে খামু? এসব বলতেই আবার কেঁদে ওঠেন তিনি।
অটোরিকশাচালক তৈয়ব বলেন, উত্তর দিকে যখন আগুন লাগে মানুষ সব দৌড়াদৌড়ি কইরা বাইর হইছে। এর মইধ্যে কোনমতে এক কাপড়ে বউ-ছেলে নিয়া বাইর হইছি। কিছু লগে নিতে পারি নাই।
আকলিমা নামের গার্মেন্টকর্মী ধ্বংসস্তূপ থেকে পুড়ে যাওয়া অবশিষ্ট আসবাব ভ্যানে করে বের করছিলেন। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি ভোলা ছিলেন তিনি। বস্তিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে রাতেই রওনা দিয়ে আসেন। এসে তার ঘরের আর কিছুই অবশিষ্ট পাননি।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনে প্রায় ৫০০-৬০০ ঘর পুড়ে গেছে, আর এতে প্রায় তিন হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের উৎস নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন্স এ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, বস্তির মধ্যে যে ঘরবাড়ি ছিল সেগুলো অস্থায়ী প্রকৃতির। মূলত বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি। এগুলোতে আগুন লাগলে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সবাই একসঙ্গে কাজ করায় অতি দ্রুততম সময়ে মধ্যে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে তা তদন্তের পরই বলা যাবে বলে সাংবাদিকদের জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩


জি কে শামীমের অর্থের উৎস অবৈধ

জি কে শামীমের অর্থের উৎস অবৈধ

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩



সেই জি কে শামীমকে  ১৩টি সম্মাননা-পদক

সেই জি কে শামীমকে  ১৩টি সম্মাননা-পদক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪০






ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩