খুলনা | শনিবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সড়কে হাটু পানি : দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

মৌসুমের রেকর্ড বৃষ্টিতে তলিয়েছে নগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:২৩:০০

খরার কবলে আমন চাষ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল কৃষক। ভাদ্রের শুরুতেই শনিবারের অর্ধদিবস বৃষ্টিপাতে রেকর্ড ছুঁয়েছে। চলতি বছরের সর্বাধিক এ বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে খুলনা শহরের বেশির ভাগ এলাকা। অল্প সময়ের মধ্যে অতিবর্ষণে খুলনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। এদিকে, খুলনায় এ বৃষ্টিপাত বছরের সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।
খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ মোঃ আমিরুল আজাদ বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল দিবাগত রাত তিনটা থেকে গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চলতি মৌসুমে খুলনায় এটাই একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। আজ রবিবারও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সকালের দিকে রাস্তায় সাধারণ মানুষের আনাগোনা খুবই কম ছিল। কর্মজীবী মানুষ যারা বের হয়েছিলেন, বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা বা ইজিবাইক না পেয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁদের। তবে নদীতে ভাটা হলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। ভোর থেকে নগরবাসী অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়া এবং বৃষ্টিতে ভোগান্তির ছবিসহ মন্তব্য পোস্ট করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরের শিববাড়ী, রয়েল, শান্তিধাম, বাইতিপাড়া, মডার্ন ফার্নিচার, পিকচার প্যালেস, পিটিআই, সাতরাস্তার, শামসুর রহমান রোড, আহসান আহমেদ রোড, টুটপাড়া, মৌলভাপাড়া, দোলখোলা, নিরালা, বাগমারা, মিস্ত্রিপাড়া, ময়লাপোতা, বড় বাজার, মির্জাপুর রোড, খানজাহান আলী রোড, বয়রা, মুজগুন্নী, বাস্তুহারা, খালিশপুর, দৌলতপুর, নতুন বাজার, পশ্চিম রূপসা, রূপসা স্ট্যান্ড রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, বাবুখান রোড, লবণচরাবান্দা বাজারসহ শহরের প্রায় সব এলাকার রাস্তায় পানি আটকে ছিল। এসব এলাকার অনেক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি উঠে। অনেক এলাকার ভবনের নিচতলা পানিতে ডুবে যায়। নগরীর বড় বাজারসহ একাধিক মার্কেট, খালিশপুর, বৈকালী, দৌলতপুরের সড়কের পাশের অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। যারা দোকান খুলেছেন, তাদের পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে বা টুলের ওপর বসে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে।
এছাড়া নগরীর বিভিন্ন সড়কে জাল নিয়ে মাছ ধরতেও দেখা গেছে অনেককে। সড়কে মাছ ধরছিলেন নগরের বাস্তুহারা কলোনির বাসিন্দা রফিক। চিংড়ি ও তেলাপিয়াসহ বেশ কিছু মাছ পেয়েছেন তিনি। কয়েকটি এলাকায় রাস্তার পাশের চায়ের দোকানীদের প্রায় হাঁটুপানির মধ্যে দাঁড়িয়ে দোকানদারি করতে দেখা গেছে।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীতে অল্পসংখ্যক ইজিবাইক ও রিকশা যাতায়াত করতে দেখা যায়। এসময়ে অতি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হওয়া মানুষেরা পড়েন বিপাকে।
একাধিক ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশা চালক বলেন, ইজিবাইক নিয়ে একটু বেশি পানির মধ্যে গেলেই মোটরে পানি উঠে নষ্ট হয়ে যায়। যেসব এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, ওই সব এলাকায় যাচ্ছেন না তারা।
কুয়েটসহ ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধতায় : আমাদের খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি  জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণে নগরীর ফুলবাড়ীগেটের কুয়েটসহ ছয়টি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার কয়েক হাজার মানুষ জলবদ্ধতার কবলে পানিবন্দী হয়ে পড়ে। ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ ফুলবাড়ীগেট-তেলিগাতীসড়ক, টিটিসি পুরাতন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ীগেট থেকে কুয়েট-তেলিগাতী বাইপাস সড়কের ফুলবাড়ীগেট ফ্রেশ ক্লিনিকের সামনে থেকে শুরু করে কুয়েট প্রধান ফটক হয়ে খানাবাড়ী নারকেলতলা পর্যন্ত রাস্তার উপর এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে রয়েছে। তলিয়ে গেছে পুরাতন টিটি কলেজ রোডসহ এই এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট। কুয়েট ক্যাম্পাসের অধিকাংশ রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের আবাসিকের ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৮নং ভবনগুলো দেড় থেকে দুই ফিট পানিতে জলমগ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী মোঃ জুয়েল বলেন, কয়েক ঘন্টার ভারী বর্ষণে রাস্তাগুলো ২/৩ ফিট পানিতে তলিয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। যোগীপোল ইউনিয়নের কাবিখার মাধ্যমে মাঝে মধ্যে ড্রেনগুলো নাম মাত্র পরিষ্কার করা হয়। সঠিক তদারকির অভাবে মাটিতে ভরাট ড্রেনের মাটি না তুলে শুধুমাত্র ড্রেনের উপর থেকে ময়লা আর্বজনা পরিষ্কার করে দায়সারা কাজ করে চলে যায়। কুয়েট মেইনগেট থেকে ল্যাবরেটরি স্কুলে মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশের ড্রেনগুলো সম্পুন্ন মাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তা তলিয়ে প্রথমবারের মতো পার্শ্ববর্তী অনেকের বাড়িতে পানি উঠেছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বার জানান, নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। খালের অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নেয়া প্রকল্পগুলোয় চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পরামর্শক নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে নগরের মানুষ মুক্ত হবে।
খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, সিটি মেয়র দায়িত্ব নিয়েছেন প্রায় এক বছর হল। নির্বাচনী ইশতেহারে জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তারপরও খুলনার মানুষ জলাবদ্ধতা সমস্যায় ভুগছে। এ দায় কে নেবে? খুলনা মহানগরীর নিষ্কাশন সমস্যার বাধা হিসেবে চিহ্নিত ২২ খাল। সেই ২২ খাল পুনরুদ্ধার ও খনন ছাড়া নগরের খুলনার জলাবদ্ধতার নিরসন সম্ভব নয়।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










খুলনায় তৎপর ৮টি গ্রুপ 

খুলনায় তৎপর ৮টি গ্রুপ 

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২০




ব্রেকিং নিউজ











‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৩