খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ভেসে গেছে শত শত মৎস্য ঘের ও আমনের বীজতলা

ভারী বর্ষণে খুলনা-বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : জনদুর্ভোগ চরমে

খবর ডেস্ক | প্রকাশিত ১৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৪:০০

গত  কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে দিবাগত রাত থেকে গতকাল শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত হঠাৎ ভারী বর্ষণে খুলনা ও বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে একাকার হয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘার মৎস্য ঘের। গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটও পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া  উপকূলীয় বিভিন্ন উপজেলার প্রায় কাঁচা, অর্ধ কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে। আমনের বীজতলাও জলমগ্ন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ। 
পাইকগাছা : ভারী বর্ষণে পৌর সদরসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একাকার হয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘার মৎস্য ঘের। অতিরিক্ত পানিতে গ্রামাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। ভারী বর্ষণে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩০টি কাঁচা, অর্ধ কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে। আমনের বীজতলাও রয়েছে জলমগ্ন। এদিকে পানির তোড়ে উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের খুলনা-পাইকগাছা মেইন সড়কের বোয়ালিয়া ব্রিজ সংলগ্ন একটি কালভার্ট পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা দিয়ে সকল প্রকারের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় জনগন। কালভার্টটি সংস্কার করতে না পারলে উপজেলা সদর থেকে রাড়–লী ইউনিয়নে এবং পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের চরম ভোগান্তি হবে জনসাধারনের। এলাকবাসী দ্রুত কালভার্টটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।  
পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল গফ্ফার মোড়ল জানান, ভারী বর্ষণে ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পৌরসদরের ৫নং ওয়ার্ড ও ৬নং ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। 
পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, ভোর থেকে ভারী বর্ষণের মধ্যে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। রাতের মধ্যে পানি সরে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। 
দেলুটির ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, ইউনিয়নের ১৫টি কাঁচা ঘর ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে। এছাড়া আমনের বীজতলাও জলমগ্ন হয়ে গেছে। গদাইপুর ইউনিয়নের অনেক রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। 
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটন জানান, গদাইপুর ইউনিয়নের ৯টি কাঁচা ঘর পড়ে গেছে। এছাড়া আমনের বীজতলা জলমগ্ন রয়েছে। 
গড়–ইখালীর প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরু জানান, ইউনিয়নের অসংখ্য চিংড়ি ঘের তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আ’লীগ নেতা জিএম ইকরামুল ইসলাম জানান, মৌখালী, ফতেপুর, ধামরাইল, গজালিয়া, ফেদুয়ারাবাদ, ঢেমশাখালী, কাটাবুনিয়া, কলমিবুনিয়া ও উড়াবুনিয়াসহ চাঁদখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। 
রাড়–লী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার জানান, তার ইউনিয়নের বাঁকা, কাটিপাড়া, শ্রীকণ্ঠপুর, রাড়–লী মালোপাড়াসহ ইউনিয়নের বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম মুঠো ফোনে জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণে বীজতলা জলমগ্ন হলেও রাতের মধ্যে পানি সরে গেলে বীজতলা জেগে যাবে, ফলে বীজতলার কোন ক্ষতি হবে না। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা না মিললেও ভারী বর্ষণের ফলে উঁচু জমিতে এখন আর ধান রোপণ করতে কৃষকের কোন অসুবিধা হবেনা বলে কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। 
ডুমুরিয়া : একদিনের প্রবল বৃষ্টিতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার ও অফিস পাড়া। ভেসে গেছে ৬টি পুকুরে থাকা শতাধিক মন মৎস্য পোনা। এতে ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামার ব্যবস্থাপক। ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ার কারনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
উপজেলাার মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের তত্ত্বাবধায়ক অফিস সহকারী মোঃ আলাউদ্দিন ও ক্ষেত্র সহকারী জেএম নিজাম উদ্দিন জানান, গতকালের টানা ৪ ঘন্টা প্রবল বৃষ্টিতে ডুমুরিয়া বাজার, মহিলা কলেজ, বাজারের দক্ষিণ আবাসিক এলাকার পানি ঢুকে মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ৬টি পুকুর মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। এতে ওই পুকুরে মজুত রাখা প্রায় শতাধিক মন রুই, কাতল, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা ভেসে অন্যত্র চলে গেছে। এছাড়া বাজারের বিভিন্ন ড্রেনের পচাবর্জ্য মিশ্রিত দূষিত পানি পুকুরে ঢুকে মাছ মরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে সকালে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সরোজ কুমার মিস্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 
এদিকে ভারি বর্ষণে ডুমুরিয়া সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের পুকুর, নাহিদ কাজির পুকুর, সিদ্দিক শেখের পুকুর, পান্না সরদারের পুকুরসহ অনেকের মৎস্য ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মাহাবুব ডাক্তারের বাড়ী থেকে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ফাররুখ হোসেন খানের বাড়ি অভিমুখি সড়কটি তলিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। 
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম বলেন, বিষয়টি নলেজে রয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাগেরহাট : ভারী বর্ষণে বাগেরহাটের প্রায় আড়াইশ’ মৎস্য ঘেরসহ নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার তিনটি পৌরসভা ও উপজেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে সকাল থেকেই শহরের রাস্তা ঘাট ছিল ফাঁকা। জেলায় গড় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে দিন মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে পারেনি। কৃষিতেও প্রভাব পড়েছে এ ভারী বর্ষণে।
এদিকে, জেলার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কোন কোন এলাকায় বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। সদর উপজেলার কাড়াপাড়া, ষাটগম্বুজ, ডেমা, রাধাবল্লব, কাশিমপুর ও বাগেরহাট পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা বৃষ্টি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পৌরসভার খারদ্বার, বাসাবাটি, হাড়িখালী, নাগের বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া পৌরসভার সামনের সড়ক, শালতলা মোড়, মিঠাপুকুর পাড়ের সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। 
সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মুশফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিতে রাস্তায় হাটু পানির কারনে আমাদের এলাকার জনসাধারনের চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে। বাড়ি-ঘরে পানি উঠে গেছে। এক প্রকার পানি বন্দি হয়ে পড়েছি। কাড়াপাড়া এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমার ঘেরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি ঘের ভেসে গেছে। এতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাশেম শিপন বলেন, ঘুম থেকে উঠেই ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের জন্য নিজেই কাজ শুরু করি। পৌরসভার পক্ষ থেকেও অনেক কর্মী এ কাজে নিয়োজিত ছিল। আশা করি বৃষ্টি কমলে দ্রুত পানির ভোগান্তি থেকে মুক্ত পাবে মানুষ। 
পৌর প্যানেল মেয়র বাকী তালুকদার বলেন, সদর আসনের এমপি শেখ তন্ময় পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প পাশ করেছেন। ইতিমধ্যে যেটির সার্ভের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আগামীতে পৌরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। 
বাগেরহাট সদর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল বলেন, দুই থেকে আড়াইশ’ ঘের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এ বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সহস্রাধিক মৎস্য ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমরা মৎস্য চাষিদের নেট দিয়ে নিজ নিজ ঘের নিরাপদ রাখার পরামর্শ দিচ্ছি।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাগেরহাটে বছরের সর্বোচ্চ ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার ফলে কিছু পানের বরাজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি কমে যাবে।
তালা : মাত্র কয়েক ঘন্টার টানা বৃষ্টিতে উপজেলা সদরের অফিসপাড়াসহ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফসলের ক্ষেত, মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গতকাল শনিবার ভোর ৪টার দিকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টিপাত চলতে থাকে সকাল ১০টা নাগাদ একটানা। এবছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে  বলেও জানিয়ছেন জেলা আবহাওয়া অফিস। এত অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাতের র্রেকড এবছরই প্রথম। 
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, আকস্মিক বৃষ্টিতে উপজেলার বেশির ভাগ রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাটু থেকে কোমর পানি। নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্কুল-কলেজের ক্লাস রুমে পানি প্রবেশ করেছে। সকাল থেকে  টানা বৃষ্টিতে তালা সদর, খলিলনগর, জালালপুর, মাগুরা খেরশা, তেঁতুলিয়া ইসলামকাটি এলাকাসহ পাটকেলঘাটা বাজারের বিভিন্ন এলাকার রাস্ত-ঘাট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। তালা গেনালী টেকনিক্যাল কলেজ, কে এম মডেল হাইস্কুল, কাঠুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, গঙ্গারামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ ক্লাসরুমে ২/৩ ফুট পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে। 
তালা সদরের আলমগীর হোসন জানান, তালা মডেল স্কুল সংলগ্ন একটি ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ায় ঐ এলাকার মানুষ বৃষ্টির পানিতে বন্ধি হয়ে পড়েছে। জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান  এ মফিদুল হক লিটু জানান, তার ইউনিয়নের নেহালপুর এলাকায় বৃষ্টির পানি না সরার কারণে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু জানান, তার ইউনিয়নের দাসকাটি নিকারীপাড়া, মাছিয়াড়া কয়েকটি গ্রাম ও মৎস্য ঘের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন জানান, তালা বাজার, মহল্লাপাড়া, খানপুর, খড়েরডাঙ্গীসহ কয়েকটি এলাকা পনিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি সরানোর ব্যবস্থা চলছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, দ্রুত পানি নিষ্কাশন হওয়ায় উপজেলার আশপাশে ও অন্যান্য স্থানে পানি নেমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, তবে এখনো ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, যে সমস্ত এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে সে এলাকায় পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ