খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ |

চামড়া শিল্প বাচাতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে 

১৭ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

চামড়া শিল্প বাচাতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে 

সারাদেশে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার সর্বনিম্ন মূল্যে রেকর্ড করেছে। কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে এবার চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হয়নি। অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতার পর এবারই সবচেয়ে কম দামে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের এক-তৃতীয়াংশতেও বিক্রি করা যাচ্ছে না চামড়া। অনেক এলাকাতে চামড়ার ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না। দাম কম হওয়ায় চামড়া পাচারের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এতে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ চামড়া অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। আর কোরবানির চামড়ার বাজারে ধ্বস নামার নেপথ্যের কারন হিসেবে কারসাজির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বানিয্যমন্ত্রী।
গত প্রায় তিন যুগের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে পশুর চামড়া। বিগত বছরগুলোতে ঈদের নামাজের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীর ভিড় দেখা গেলেও এবার তাদের দেখা মেলেনি। এবার গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫টাকা সরকার নির্ধারিত মূল্য। একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা বলেছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। চামড়ার সর্বনিম্ন রেকর্ড মূল্যের জন্যে পাইকারী ক্রেতা, খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতা, ট্যানারি মালিক এবং সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য লক্ষ করা গেছে। আর খোদ ব্যবসায়ীদের মধ্যেও চামড়া কেনার আগ্রহ লক্ষ করা যায়নি। চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে দরদামের সুযোগই হয়নি বিক্রেতাদের। নামমাত্র মূল্যে চামড়া ফেলে রেখে মুখ কালো করে চলে যেতে হয়েছে বিক্রেতাদের। এতে চামড়া সংগ্রহের পারিশ্রমিক এবং বহনের ভাড়াও ওঠেনি। মুলতঃ মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের জন্য কোরবানির পশুর চামড়া আয়ের অন্যতম খাত। চামড়া বিক্রির অর্থে এতিম ছাত্রদের প্রায় পুরো বছরের খাবারের সংস্থান হতো। এবার চামড়ার মূল্য না থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়বে তারা।
ট্যানারিতে চামড়া ব্যবসায়ীদের শত শত কোটি টাকা অনাদায়ী, নির্দিষ্ট বাজার সংকট, বৈরী আবহাওয়ায় প্রক্রিয়াকরণের স্থান সংকট এবং ব্যবসায়ীদের পূর্ব লোকসানের কারণে এবার চামড়া ক্রয়ে অনিহার ফলেই এবার চামড়ার মূল্য ধসের মূল কারণ। অবশ্য কাঁচা চামড়া রপ্তানি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যানার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। বিটিএ’র চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিলে শতভাগ দেশীয় এই শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। চামড়া শিল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। সাভারস্থ আধুনিক শিল্প নগরী প্রয়োজনীয় কাঁচা চামড়ার অভাবে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়বে। এতে করে এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বিস্তর জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়বে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। সার্বিক বিষয়ে বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেয়া কাঁচা চামড়া রপ্তানি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার জরুরি। পাশাপাশি চামড়া শিল্পকে বাচাতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০






ব্রেকিং নিউজ