খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ |

শিশু হত্যা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধসহ আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ জরুরি

১৬ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

শিশু হত্যা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধসহ আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ জরুরি

সারাদেশে শিশু হত্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২০৫ শিশু খুন হয়েছে। এ হিসেবে মাসে গড়ে খুনের হার ৩৪ জন । হত্যার শিকার এসব শিশুর ৫৬ শতাংশের বয়স ১২ বছরের নিচে। আর গত সাড়ে চার বছরে হত্যার শিকার মোট শিশুর সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশি। পারিবারিক সহিংসতা, অপহরণ ও ধর্ষণের কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিচারহীনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে শিশু হত্যা বাড়ছে। শিশুদের নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, শিশু হত্যার সংখ্যা ও ধরণ উদ্বেগজনক।
দেশে বর্তমানে ধর্ষণ-খুন যেন মহামারী আকার ধারণ করেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন বা এ সংক্রান্ত অপরাধ চেষ্টার পর নারী ও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে বেপরোয়াভাবে। দিন দিন খুন, হত্যা, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন যেভাবে বাড়ছে তাতে আমরা সভ্য সমাজে বাস করছি কিনা, এমন প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) বছরওয়ারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত সাড়ে চার বছরে শিশু হত্যা প্রতিনিয়ত বেড়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে মোট ২০৫টি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। ২০১৮ সালে সে সংখ্যা ছিল ৪১৮, এর আগের বছর ছিল ৩৩৯। আগেও শিশু হত্যার একই প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সহিংসতার ধরণ দিন দিন ভয়ঙ্কর হচ্ছে। মানুষ বেপরোয়া হচ্ছে, কোনো অপরাধ করতেই দ্বিধা করছে না। সমাজে খুন-ধর্ষণ ও নিপীড়ন বেড়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং এতে তারা সাহসী হয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে বেপরোয়া অপরাধ সংঘটন করছে। যেসব দেশে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সেসব দেশে ধর্ষণের পরিমাণ অনেকাংশে কমে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ধর্ষণের শাস্তি নির্দিষ্ট নয়। আইনের মারপ্যাঁচে সবাই আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পায়, যা কোনোভাবে কারোরই কাম্য নয়। 
আমরা মনে করি, বিচারহীনতা ও অপহরণের ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে হত্যার সংখ্যা সম্পর্কিত। অপরাধীরা ধরা পড়ার ঝুঁকি নিতে চায় না বলেই অপহরণের পর শিশুদের হত্যা করে। অপরাধ রোধে দ্রুত বিচার কার্যকর ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি। সরকার শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পরিমাণ কমাতে এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করতে পারে। শিশু হত্যা বা ধর্ষণের মতো নীতিবিবর্জিত কাজ কারোরই কাম্য নয়। তাই আসুন, সময় থাকতে ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি এবং শিশু হত্যা ও ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধীকে যথাযথ সাজা দেয়ার বিকল্প নেই।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০






ব্রেকিং নিউজ