খুলনা | সোমবার | ১৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ |

শিরোনাম :
মোংলায় সাংগঠনিক তদন্তে এসে অভিযুক্তের সাথে ভ্রমণ ও ভুরিভোজ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩ হাজার, চিকিৎসা শেষে ফিরেছে ৪৫ হাজারবেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী শিঞ্জন একদিনের রিমান্ডে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, চলছে বাছবিচারহীন গ্রেফতারখুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!ফের নগরীর বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ের বিবিএ’র ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগঈদযাত্রায় সড়কে গেছে ২২৪ প্রাণস্ত্রী পরিচয়ে কুয়াকাটাসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ওই ছাত্রীকে রেখেছিলো ‘শিঞ্জন রায়’

Shomoyer Khobor

কারাগারের রোজনামচা ও ছয় দফা আন্দোলন

মোঃ রবিউল হাসান  | প্রকাশিত ১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪৫:০০

Solitary Confinement, শব্দ দু’টি বহুল প্রচলিত কোনো শব্দ নয়। যাদের আইন, আদালত ও জেলখানার বিষয়ে ন্যূনতম ধারণা আছে শুধুমাত্র তারাই এই শব্দ দু’টির সঙ্গে পরিচিত। তবে এটি নিয়ে আমার জানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারের রোজনামচা বইটি পড়ার সুবাদে।
৩৩২ পৃষ্ঠার বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কারাস্মৃতি স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আত্মজীবনীর এই দ্বিতীয় গ্রন্থটি চলতি বছরের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
বইয়ের এক জায়গায় জাতির জনক বলেছেন, “মার খাও। তোমাদের জাত ভাইয়ের লাঠির বাড়ি ও বন্দুকের গুলি খাও। জেল-জুলুম তোমাদের কপালে আছে। কারণ তোমরা তো পরাধীন বাঙালি জাতি। লেখাপড়া করতে ইচ্ছে হয় না। সময়ও কাটে না। জেলে রাতটাই বেশি কষ্টের। আবার যারা আমার মতো একাকী নির্জন স্থানে থাকতে বাধ্য হয়, তাদের অবস্থা কল্পনা করা যায় না।
ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অনন্য এক স্থান দখল করে আছে। যিনি এই ইতিহাস রচয়িতা তার মুখ থেকে এই ইতিহাসের গল্প শোনা বা পড়া এক অন্যরকম অনুভূতি জাগায়। আমি এখানে কারাগারের রোজনামচা থেকে কিছু ইতিহাস তুলে ধরছি মাত্র।
বঙ্গবন্ধু বলছেন, ‘‘সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুনলাম রাতে কয়েকজন গ্রেফতার হয়ে এসেছে। বন্দি, সিপাহীরা আলোচনা করছে। ব্যস্ত হয়ে গেলাম; বুঝতে বাকি রইলো না আওয়ামী লীগের নেতা এবং কর্মীদের  নিয়ে আসা হয়েছে, ৭ জুনের হরতালকে বানচাল করার জন্য”।
বঙ্গবন্ধু এ সময় কিছু রাজনীতিবিদের মুখোশও খুলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, “এক অভিনব খবর কাগজে দেখলাম, মর্নিং নিউজ কাগজ ন্যাপ নেতা মি. মশিয়ুর রহমানের ফটো দিয়ে একটা সংবাদ পরিবেশন করেছে। দৈনিক ইত্তেফাক ও অনান্য কাগজেও খবরটি উঠেছে। তিনি ছয়দফার দাবি নিয়ে তার মতামত দিয়েছেন। তার মত- ছয়দফা কর্মসূচি কার্যকর হলে পরিশেষে এটি সমস্ত দেশে এক বিচ্ছিন্নতাবাদ জাগিয়ে তুলবে। এমনকি তিনি যদি প্রেসিডেন্ট হতেন, তাহলে ছয়দফা বাস্তবায়িত হতে দিতেন না’’।
৭ জুন ১৯৬৬ সালের হরতাল: কারাগারের দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেদ করে খবর আসলো দোকানপাট, গাড়ি, বাস, রিকশা সব বন্ধ। শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল চলছে। এই সংগ্রাম একলা আওয়ামী লীগই চালাচ্ছে। আবার খবর এলো টিয়ার গ্যাস ছেড়েছে, লাঠিচার্জ হয়েছে সারা ঢাকায়। ১২টার পর খবর পাকাপাকি পাওয়া গেলো হরতাল হয়েছে, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করেছে। তারা ছয়দফা সমর্থন করে আর মুক্তি চায়, বাঁচতে চায়, খেতে চায়, ব্যক্তি স্বাধীনতা চায়। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, কৃষকের বাঁচার দাবি তারা চায়- এর প্রমাণ এই হরতালের মধ্যে হয়েই গেল। বিকেলে আবার গুজব শুনলাম গুলি হয়েছে, কিছু লোক মারা গেছে। ১৪৪ ধারা দেওয়া হয়নি, গুলি চালাবে কেন? একটু পরেই খবর এলো ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ছয় দফা যে পূর্ব বাংলার জনগণের প্রাণের দাবি- পশ্চিমা উপনিবেশ ও সাম্রাজ্যবাদের দালাল পশ্চিম পাকিস্তানের শোষক শ্রেণী যে আর পূর্ব বাংলার নির্যাতিত গরিব জনসাধারণকে শোষণ বেশি দিন করতে পারবে না, সে কথা আমি এবার জেলে এসেই বুঝতে পেরেছি। বিশেষ করে ৭ জুনের যে প্রতিবাদে বাংলার গ্রাম, গ্রামের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফেটে পড়েছে, কোনো শাষকের চোখ রাঙানি তাদের দমাতে পারবে না। পাকিস্তানের মঙ্গলের জন্য শাষকশ্রেণীর ছয় দফা মেনে নিয়ে শাসনতন্ত্র তৈরি করা উচিত। যে রক্ত আজ আমার দেশের ভাইদের বুক থেকে বেরিয়ে ঢাকার পিচঢালা কালো রাস্তা লাল করলো সে রক্ত বৃথা যেতে পারে না।
ছয় দফা থেকে ৮ দফা : জহিরুদ্দিনের ইচ্ছে আর সালাম সাহেব চান পূর্ব-পাকিস্তান আওয়ামী লীগ পিডিএমে যোগদান করুক। যেভাবে পিডিএম প্রস্তাব গ্রহণ করেছে তাতে আছে ৮ দফার বিপরীত কোনো দাবি করা যাবে না। অর্থ হলো, ৬ দফা দাবি ছেড়ে দিতে হবে। আমি পরিষ্কার আমার ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে দিতে বাধ্য হলাম। ৬ দফা ছাড়তে পারবো না । যেদিন বের হবো ৬ দফারই আন্দোলন করবো। এটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে ৬ দফা আন্দোলনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের এই অনমনীয় ও আপসহীন মনোভাবই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল। আমাদের দেশের ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকে ছয়দফা আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা নেই। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি, কারাগারের রোজনামচা বইটি থেকে ছয়দফা আন্দোলনের পুরোপুরি ইতিহাস বাংলাদেশের সব শ্রেণির ইতিহাস বইতে সংযুক্ত করা হোক। পরিশেষে এটুকু বলতে চাই, কারাগারের রোজনামচা বইটি পড়ে আমার কাছে রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প পড়ার পর যে অনুভূতি হয়, ‘শেষ হইয়াও হইলো না শেষ’, ঠিক সে রকম অনুভূতি হয়েছে।
লেখক: সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার 

জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার 

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪১

বঙ্গমাতার প্রতিও শ্রদ্ধাঞ্জলি

বঙ্গমাতার প্রতিও শ্রদ্ধাঞ্জলি

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪৩



ভারত ভ্রমণে নয় দিন

ভারত ভ্রমণে নয় দিন

০৮ মে, ২০১৯ ০০:৫৯

হাতে হাত রেখে গড়বো খুলনা

হাতে হাত রেখে গড়বো খুলনা

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:১৬


গ্রন্থাগার সভ্যতা ও সংস্কৃতির ফসল

গ্রন্থাগার সভ্যতা ও সংস্কৃতির ফসল

০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০




বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

১৫ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫০


ব্রেকিং নিউজ