খুলনা | সোমবার | ১৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ |

শিরোনাম :
মোংলায় সাংগঠনিক তদন্তে এসে অভিযুক্তের সাথে ভ্রমণ ও ভুরিভোজ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩ হাজার, চিকিৎসা শেষে ফিরেছে ৪৫ হাজারবেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী শিঞ্জন একদিনের রিমান্ডে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, চলছে বাছবিচারহীন গ্রেফতারখুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!ফের নগরীর বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ের বিবিএ’র ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগঈদযাত্রায় সড়কে গেছে ২২৪ প্রাণস্ত্রী পরিচয়ে কুয়াকাটাসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ওই ছাত্রীকে রেখেছিলো ‘শিঞ্জন রায়’

Shomoyer Khobor

যশোরের রাজারহাটে দাম না পেয়ে হতাশা

চামড়া ফেলে চোখের জলে বাড়ি ফিরেছেন ব্যবসায়ীরা

জাহিদ আহমেদ লিটন, যশোর | প্রকাশিত ১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৬:০০

যশোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা হতাশ। তারা অনেকে হাটেই চামড়া ফেলে চোখের জলে বাড়ি ফিরেছেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার হাট রাজারহাটে গত মঙ্গলবার ছিল ঈদ পরবর্তী প্রথম হাট। এদিনের হাট মোটেই জমেনি। অল্প কিছু ব্যবসায়ী হাটে চামড়া আনলেও কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। হাটে আসা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনেও ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এমন অবস্থা চলতে থাকলে চামড়া পাচার হয়ে যেতে পরে। এছাড়া ঢাকার ট্যানারি মালিকরা বকেয়া পরিশোধ না করায় অর্থ সংকটে রয়েছেন তারা।
যশোর শহরতলীর রাজারহাট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বড় চামড়ার মোকাম। এখানে খুলনার বিভাগের ১০ জেলার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী, নাটোরের বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। ঈদ পরবর্তী প্রথম হাটে দুই থেকে আড়াই হাজারের মতো চামড়া এনেছিলেন ব্যবসায়ীরা।
খুলনার ফুলতলা থেকে ৪৫ পিস গরুর চামড়া নিয়ে এসেছিলেন সুখেন দাস নামে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। একটু ছোট সাইজের এই চামড়ার দাম বলা হয় প্রতিটি ২০ টাকা করে। তিনি বলেন, পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চামড়া সংগ্রহ, লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত এবং পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে তার প্রতি পিস সাড়ে ৩শ’ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে। এখন বিক্রিও করতে পারছেন না, আবার ফিরিয়ে নিতে গেলেও আলাদা খরচ। তাই এগুলো ফেলে দেয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকছে না।
সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে আসা নূর ইসলাম ছাগলের ৬০টি ও ৮০টি গরুর চামড়া এনেছিলেন। তিনি বলেন, চামড়া ফুট হিসেবে নয়, থামকো দাম করা হয়েছে ১০ টাকা দরে। আর গাই গরুর চামড়া প্রতি পিস ৮০-৯০ টাকা এবং অপেক্ষাকৃত ভালো চামড়ার দাম উঠেছে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত। তিনি বলেন, লবণসহ আনা-নেয়া এবং সংগ্রহ বাবাদ গরুর চামড়া প্রতি পিস খরচ সাড়ে ৫শ’ টাকার মতো। এই অবস্থায় বিক্রি করলে তার পুরোটাই আর্থিক ক্ষতি হয়ে যাবে। আবার না বিক্রি করে তা ফিরিয়ে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করলে খরচ বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় তিনি হতাশ হয়ে বসে ছিলেন।
ডুমুরিয়ার শান্তনু দাস জানান, তার ১শ’ পিস ছাগলের চামড়ায় গড়ে খরচ ৪০ টাকা ও ২০ পিস গরুর চামড়ায় গড়ে খরচ ৫শ’ টাকা। কিন্তু আড়তদার বলেছেন, গরুর চামড়া তিনিই বিক্রি করবেন ৪শ’ টাকা করে। এ অবস্থায় ৫শ’ টাকা দরে তিনি চামড়া কার কাছে বিক্রি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। কোরবানির পশুর চামড়া বেশিরভাগই পায় স্থানীয় বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা। কিন্তু কম দামের কারণে খুচরা ক্রেতাদের কেউই আর চামড়া কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না।
যশোরের খড়কি কওমি মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জাকির হোসেন পলাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫-৭ বছর আগেও গরুর একটি চামড়া  ১৫শ’ থেকে ১৭শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। অথচ এবার কেউ ৩শ’ টাকার বেশি চামড়ার দাম বলছেন না। এই দামে বিক্রি করলেও সেই টাকা আগামী কোরবানির ঈদের আগে তারা পরিশোধ করতে পারবেন না বলে জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, কোরবানির এই চামড়া এতিমদের হক। সরকার যদি দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এসব শিশুরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
হাটের চামড়া ব্যবসায়ী শেখ মমিনুল মজিদ পলাশ বলেন, আমাদের চামড়ার সবচেয়ে বড় বাজার চীনে। ওই দেশে এখন চামড়ার চাহিদা খুবই কম। সে কারণে দামও বেশি পাচ্ছি না, তাই হাটে চামড়াও উঠছে না। এছাড়া ট্যানারি মালিকদের চতুরতাও একটি কারণ। তারা আমাদের কাছ থেকে মাল নিচ্ছেন, কিন্তু মূল্য পরিশোধে টালবাহানা করছেন। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এই শিল্প খুব শিগগির লাটে উঠবে।
হাটের ইজারাদার হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, অনেকেরই টাকা আটকে রয়েছে ব্যবসায়ী আর ট্যানারি মালিকদের কাছে। দাম নেই সে কারণে মানুষ আর চামড়া কিনছে না। দেশে দাম না পেলে চামড়া তো পাচার হবেই।
চামড়া পাচারের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবণ দেয়ার কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রথম দিনের হাট জমেনি। তবে আগামী শনিবারের হাট জমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ট্যানারি মালিকদের কাছে থাকা বকেয়া টাকা এখনও তারা হাতে পাননি। গত তিন বছর প্রশাসনের নজরদারি যেমন বেড়েছে, তাতে চামড়া পাচারের কোনও শঙ্কা নেই।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ