খুলনা | বুধবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

হতাশায় মাদ্রাসা ও এতিমখানার কর্তৃপক্ষ

খুলনায় চামড়ার সর্বনিম্ন মূল্য রেকর্ড ক্রেতা নেই : পাচারের শঙ্কা

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪০:০০

সারাদেশের ন্যায় খুলনা অঞ্চলেও এবার কোরবানির পশুর চামড়ার সর্বনিম্ন মূল্যে রেকর্ড করেছে। কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে এবার চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই বিক্রি করতে না  পেরে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতার পর এবারই সবচেয়ে কম দামে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের এক-তৃতীয়াংশতেও বিক্রি করা যাচ্ছে না চামড়া। অনেক এলাকাতে চামড়ার ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না। দাম কম হওয়ায় চামড়া পাচারের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এতে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ চামড়া অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে কিছুটা ভিন্ন চিত্র খুলনা অঞ্চলে। ফুলতলার সুপারটেক্স লেদার লিমিটেড সরাসরি চামড়া সংগ্রহ করায় চরম বিপর্যয় থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে এ অঞ্চলের চামড়া শিল্প। এদিকে চামড়ার সর্বনিম্ন রেকর্ড মূল্যের জন্যে পাইকারী ক্রেতা, খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতা, ট্যানারি মালিক এবং সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য লক্ষ্য করা গেছে।
খুলনার কাঁচা চামড়া বিকিকিনি’র বড় বাজার শেখপাড়া চামড়াপট্টিতে এবার পথে পথে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের তৎপরতা ছিল না। খোদ ব্যবসায়ীদের মধ্যেও চামড়া কেনার আগ্রহ ছিল না। চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে দরদামের সুযোগই হয়নি বিক্রেতাদের। নামমাত্র মূল্যে চামড়া ফেলে রেখে মুখ কালো করে চলে যেতে দেখা গেছে বিক্রেতাদের।
জিরোপয়েন্টের মাদানীনগর মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ কামাল হোসেন বলেন, ছয়টি গরুর চামড়া সাতশ’ টাকা এবং সাতটি ছাগলের চামড়া একশ’ টাকায় বিক্রি করেছি। এতে চামড়া সংগ্রহের পারিশ্রমিক এবং বহনের ভাড়াও ওঠেনি বলে দুঃখপ্রকাশ করে তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের জন্য কোরবানির পশুর চামড়া আয়ের অন্যতম খাত। চামড়া বিক্রির অর্থে এতিম ছাত্রদের প্রায় পুরো বছরের খাবারের সংস্থান হতো। এবার চামড়ার মূল্য না থাকায় চরম আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করছেন তিনি।
লবণচরার আহমদিয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, শেখপাড়া বাজারে চামড়ার দাম নেই। এখানে গরুর পাঁচটি ও ছাগলের একটি চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। সবমিলে দাম দিয়েছে মাত্র ৪৫০ টাকা। যাতে রিকশা ভাড়াও ওঠে না।
কয়েকজন বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলে ছাগলের চামড়ার দামই ছিল না। ৫০ থেকে দুইশ’ টাকায় গরুর এবং ছাগলের চামড়া প্রতিপিচ ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আবার অনেক ব্যবসায়ী ছাগলের চামড়া কিনতেই চাননি। যে কারণে অনেকেই ছাগলের চামড়া মাটিতে পুঁতে ও নদীতে ফেলে দিয়েছেন। 
এ বছর খুলনা অঞ্চলে ছাগলের চামড়ার বলার মতো কোনো দাম নেই। প্রতিটি চামড়া সর্বোচ্চ পাঁচ-দশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী ছাগলের চামড়া কিনতেই চায়নি। যে কারণে অনেকেই ছাগলের চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
খুলনা অঞ্চলে কাঁচা চামড়া কেনাবেচার সবচেয়ে বড় বাজার শেখপাড়া চামড়া পট্টির ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিবছর ট্যানারি মালিকরা কোরবানির আগে পাইকারি ব্যবসায়ীদের বকেয়া পরিশোধ করতেন। কোরবানির পশুর চামড়া কেনার জন্য তারা আগাম পুঁজিও দিতেন। কিন্তু, এবার ট্যানারি মালিকরা মাঠের ব্যবসায়ীদের খোঁজ নেননি। আগাম পুঁজি দূরে থাক, অনেকের বকেয়াও পরিশোধ করেননি। ফলে ইচ্ছা থাকলেও চামড়া কেনা যায়নি।
চামড়া পট্টির ইয়াসিন লেদারের আবু জাফর বলেন, এবার চামড়া কেনারই আগ্রহ ছিল না। কিন্তু, দোকান খোলা, চামড়া নিয়ে লোকজন আসছে দেখার পর যাকে যে দাম বলছি, টাকা নিয়ে চামড়া রেখে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এবার গরুর বড় চামড়া ৪শ’ টাকা দিয়েছি। তবে, ছোট গরুর চামড়া একশ’ টাকায়ও কিনেছি।
আমান লেদারের মোঃ মুন্না বলেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে লাখ লাখ টাকা পাই। এবার মাত্র ছয়শ’ পিস চামড়া কিনেছি। টাকা নেই, তাই বেশি কিনতে পারিনি।
খুলনা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ঢালী বলেন, ট্যানারিতে খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রায় ২০ কোটি টাকা অনাদায়ী, নির্দিষ্ট বাজার সংকট, বৈরী আবহাওয়ায় প্রক্রিয়াকরণের স্থান সংকট এবং ব্যবসায়ীদের পূর্ব লোকসানের কারণে এবার চামড়া ক্রয়ে অনিহার ফলেই এবার খুলনা অঞ্চলে চামড়ার মূল্য ধসের মূল কারণ।
নগরীর শেখপাড়া চামড়াপট্টির ইয়াসিন লেদারের মোঃ আবু জাফর জানান, এবার চামড়া কেনার আগ্রহ ছিল না। দোকান খোলা তাই লোকজন চামড়া নিয়ে আসছেন, দেখার পর যাকে যে দাম বলছি, টাকা নিয়ে চামড়া রেখে চলে গেছেন তারা।
বিভিন্ন এলাকা (১২ আগস্ট সকালে) ঘুরে দেখা গেছে- সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে তিন থেকে চারশ’ টাকায়। যা গত বছরও আটশ’ থেকে হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত প্রায় তিন যুগের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে পশুর চামড়া। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়ার দাম দিচ্ছেন দুইশ’ টাকারও কম। এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে তিনশ’ টাকা। বিগত বছরগুলোতে ঈদের নামাজের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীর ভিড় দেখা গেলেও এবার তাদের দেখা মেলেনি।
ফুলতলার সুপার ট্যানারির এমডি ফিরোজ ভূঁইয়া জানান, ‘আমরা চেষ্টা করি চামড়ার যথাযথ দাম পরিশোধ করতে। এখানে চামড়া দিয়ে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আর আমাদের এ উদ্যোগের ফলে জাতীয় সম্পদ চামড়া নষ্ট হওয়া বা পাচার হওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছে। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, যশোর ও মাগুরার মাদ্রাসা থেকে চামড়া এখানে চলে আসছে। চামড়া আসার হার প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০১৬ সালে ১০ হাজার পিস চামড়া আসে। ২০১৭ সালে এখানে ৩০ হাজার পিস চামড়া পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে প্রায় ৫০ হাজার পিস চামড়া আসে। এ বছর লক্ষাধিক চামড়া সংগ্রহ করেছি। দামও ১০-১৫দিনের পরিশোধ করা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এবার গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫টাকা সরকার নির্ধারিত মূল্য। একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা বলেছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২৮




কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২২



ব্রেকিং নিউজ







উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২৮




কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২২