রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ


যতকাল রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান,
ততকাল রবে কীর্তি তোমার 
শেখ মুজিবুর রহমান’

হাজার বছরের বাঙালি জাতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিবুর রহমান অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তিনি বাঙালির শ্রেষ্ঠতম জাতীয়তাবাদী নেতা। বাঙালির চেতনায় জাতীয়তাবোধ সঞ্চারে তিনি পালন করেছেন ঐতিহাসিক ভূমিকা।  গণতান্ত্রিক মূল্যচেতনা, শোষণ মুক্তির আকাক্সক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এই ত্রি-মাত্রিক বৈশিষ্ট্যই বঙ্গবন্ধুর জাতীয়তাবাদের মূল কথা। জাতীয়তাবাদের এই মূলমন্ত্রক তিনি সঞ্চারিত করে দিয়েছেন বাঙালির চেতনায়। এভাবেই ইতিহাসের অনিবার্য দাবিতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। 
১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল। রাতে সেনাবাহিনীর বিপথগামী  সেনারা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন ঘেরাও করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং তাঁর পুত্র, পুত্রবধূ, স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজনসহ ১৭ জনকে গুলি করে হত্যা করে। তাঁর মৃতদেহ হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়া নেওয়া হয় এবং তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়। তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রত্যক্ষ মদদে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। বাঙালি জাতি চিৎকার করে কাঁদার পরিবর্তে স্তম্ভিত হয়ে যায়। দেশের স্বাধীনতার জনক তাঁর বুলেট বিদ্ধ ঝাঁঝরা বুক নিয়ে ঘুমিয়ে রয়েছেন যে এই মাটিতেই। এ যে লজ্জা, শোক কি তাকে অতিক্রম করতে পারে? কারণ ১৫ আগস্টের ঘটনা সমগ্র জাতিকে আঘাত করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৮ সালে ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ ১৫ জনকে ফায়ারিং স্কোয়াড অথবা ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। রায়ের মধ্যে আসামিদের কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। জাতি কলঙ্ক মুক্ত হয়। আজও আমাদের মাঝে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ দেহ, সফেদ পাজামা-পাঞ্জাবি, কালো মুজিব কোট, পেছনে আচড়ানো কাঁচা-পাকা চুল, কালো মোটা ফ্রেমের চশমা, হাতে পাইপ। 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।