খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বন্যার প্রকোপ কর্তাটক, গুজরাট, তামিলনাড়– অন্ধ্রপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে

ভারতের কেরালায় বন্যায়  মৃত ৪৮, মহারাষ্ট্রে ২৮

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০১:১১:০০

বন্যায় ভারতের কেরালা ও মহারাষ্ট্রের অবস্থা ভয়াবহ। ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে কেরালায়। ওই রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৮। মহারাষ্ট্রে বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। কর্নাটক, তামিলনাড়–, ওড়িশা, গুজরাতের অবস্থাও ভয়াবহ। চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে কেরালায়র ৯টি জেলায়। উদ্ধার ও ত্রাণে শুক্রবার সকাল থেকেই সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে বানভাসি কেরালায়। মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) আরও ১৩ কোম্পানি। ডুবে যাওয়া ওয়েইনাড় জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণে শনিবার সকালেই পৌঁছে গিয়েছে নৌবাহিনীর চপার। মালাপ্পুরম জেলার অবস্থাও ভয়াবহ।
এদিকে, মহারাষ্ট্রের গোটা কোলহাপুর শহরটাই চলে গিয়েছে প্রায় ১০ ফুট গভীর পানির তলায়। ফ্লাইওভারের উপর থেকে দেখা যাচ্ছে শুধুই বহুতলগুলির ছাদ। এমনকী, পানি কোথাও কোথাও প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে ফ্লাইওভারকেও! বন্যার পানিতে এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মহারাষ্ট্রের দুই লাখ ৮৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সেনাদের। পাশাপাশি উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছে ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। রাজ্যের কোলহাপুর, সাতারা ও সাংলি জেলা থেকে কম করে দু’লাখ মানুষকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহারাষ্ট্র, কেরালা ও কর্নাটকে মোতায়েন করা হয়েছে এনডিআরএফ-এর অন্তত ২৫০টি দল।
কর্নাটকের অবস্থাও খারাপ। বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষ্ণা নদীর বাঁধ থেকে প্রায় পৌনে ৬ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। তার ফলে ভেসে গিয়েছে সারপুর তালুকের বেশ কয়েকটি গ্রাম ও গোটা ইয়াদগির জেলা। মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুর মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী ২৪ নম্বর জাতীয় সড়ক পুরোপুরি পানির তলায় চলে গিয়েছে।
একটানা প্রবল বর্ষণের জেরে বানভাসি হয়ে গিয়েছে মালাপ্পুরমসহ কেরালার বেশ কয়েকটি জেলা। পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে কম করে ৪২ জনের। সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছে রাজ্য প্রশাসন। ওয়েইনাড় জেলায় ধসে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় ২২ হাজার মানুষকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৩১৫টি ত্রাণ শিবিরে। কোঝিকোড় জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে ওয়েইনাড়, ইদুক্কি, মালাপ্পুরম ও কোঝিকোড়-সহ ৯টি জেলায়। জল ঢুকে পড়ায় কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রবিবার বিকেল পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজ্যের ১৪টি জেলার সব স্কুল, কলেজই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণে সেনাবাহিনী নেমেছে আলাপ্পুঝা, পাঠানামথিট্টা ও এর্নাকুলামে। বন্যায় ভয়াবহ অবস্থা কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। জানানো হয়েছে, ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে আর তার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা পাঠানামথিট্টা, কোট্টায়াম, ইদুক্কি, এর্নাকুলাম এবং ত্রিশূরে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮