খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

কুরবানীর ঈদের খাবার ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

ডা: মো: কুতুব উদ্দিন মল্লিক | প্রকাশিত ১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৮:০০

সামনে ঈদ-উল-আজহা। প্রথমেই সবাইকে ঈদ মুবারক ও ঈদের অনেক শুভেচ্ছা। কোরবানী ঈদ মানেই খাওয়া আর খাওয়া। মাংসের হরেক রকমের পদের পাশাপাশি মিষ্টি খাবার, শীতের পিঠা ইত্যাদি থাকে আমাদের প্লেটে। বেশি খাবার সামনে থাকলে খেতে ইচ্ছা করবেই, আবার নিমন্ত্রণে গেলেও খাবার দেখে লোভ সংবরণ করাই দায় আর বেশি চাপাচাপি করলে তো আরো খেতে হয়। তাই আপনাদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখুন, পরিমিত আহার করুন। বেশি খেয়ে ওজন বাড়াবেন না। ১. মাংস খাওয়ার লোভে পড়ে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে নিজের ওজন বাড়িয়ে বসবেন না। স্বাস্থ্যই সুখের মূল- কথাটা ভুললে চলবে না।  ২. গরু, মহিষ, খাসি ও ভেড়ার মাংসে থাকে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল। বেশি মাংস খেলে দীর্ঘমেয়াদে আপনার স্বাস্থ্য বিশেষত হার্টের ক্ষতি হতে পারে। ৩. কম মাংস খাওয়ার জন্য বেশি বেশি মাংস গরিব মিসকিনকে দিয়ে দিন। মনে রাখবেন দৈনিক ৯০ গ্রামের উপর মাংস খেলে বেড়ে যাবে ক্যানসারসহ হার্টের রোগ। ৪. মাংসের চর্বিযুক্ত অংশ বাদ দেয়ার চেষ্টা করুন। এছাড়া মগজ, চর্বি এবং ভুড়ি না খাওয়াই ভালো। ৫. যদি মাংস খেতেই হয়, তাহলে সেদ্ধ ও কয়লায় পুড়িয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে কাবাব খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। বেশি তেল দিয়ে অতিরিক্ত ভাজা মাংস খাওয়া যাবে না। ৬. কখন খাবেন এ বিষয়ে ডায়েটিশিয়ান ও ডাক্তারদের উপদেশ মানুন। ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাওয়া শেষ করতে হবে। রাতের খাওয়া শেষে আধা ঘণ্টা হেঁটে আসুন। ৭. বেশি পরিমাণ মাংস যেহেতু খেতেই হবে তাই খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণ মাংস রাখুন। একেবারে বেশি বেশি না খেয়ে একটু পরপর অল্প অল্প করে খান। মাংস খাওয়ার ফলে যেহেতু দৈনিক ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায় তাই ডেজার্ট এবং মিষ্টি খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিন। ৮. ঈদের এই কয়েকদিনে অনেকগুলো দাওয়াত পাবেন। জানেন যে এড়াতে পারবেন না, মাংস খেতেই হবে। আর মাংস খেলে হবে হজমের গণ্ডগোল। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চিনি ছাড়া লেবুর রস এবং গ্রিন টি রাখতে পারেন। এছাড়া নিম্নলিখিত বিষয় গুলি মাথায় রেখে খাবার খেলে আশাকরি কোন সমস্যা হবে না। বেশি ক্ষুধা লাগিয়ে না খেয়ে অল্প ক্ষুধা লাগলে খান, এতে কম খাওয়া হবে, খাবার আগে পানি খেয়ে নিন, অথবা দাওয়াতে যাওয়ার আগে সালাদ, ফল ইত্যাদি খেয়ে নিন, তাহলেও কম খাওয়া হবে । কোরবানী ঈদে যেহেতু লাল মাংশ (গরু,খাসি) ছড়াছড়ি, তাই মাংশ খেতেই হয়, কিন্তু যখন খাবেন, তখন একবারে অল্প পরিমানে খান। কেননা লাল মাংশে অনেক ফ্যাট থাকে। মাংশ যখন খাবেন তখন একবারে কতটুকু খাবেন? আপনার হাতের তালুর সমান মাংশ একবারে খেতে পারবেন। আর ভাত জাতীয় খাবার একবারে খাবেন এক থেকে আধা কাপ। সকালের নাস্তা, দুপুরের ও রাতের খাবারে শর্করা, সবজি, আমিষ রাখতে চেষ্টা করুন। প্রতিদিনের খাবারে সব খাবারের উপাদান যেমন : শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, ফ্যাট, দুধ, মিনারেলস ইত্যাদি যেন থাকে তা নজর দিন। আর হাটাহাটি এবং ব্যায়াম করবেন সেদিন বেশি বেশি যেদিন বেশি খাওয়া হবে। ব্যায়ামের অভ্যাস থাকলে সেটা অব্যাহত রাখুন। কোনো ভাবেই বন্ধ করা যাবে না। 

ডাঃ মোঃ কুতুব উদ্দিন মল্লিক,

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, লিভার বিভাগ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৯

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৯






জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৬

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৪

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৯

ঐতিহ্যবাহী রান্না কড়াই গোস্ত

ঐতিহ্যবাহী রান্না কড়াই গোস্ত

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৯


ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮