খুলনা | শনিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ঈদের নির্মল আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ুক

রুবাইয়াৎ জিকো | প্রকাশিত ১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৭:০০

ঈদের নির্মল আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ুক

ঈদুল আযহা ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। পবিত্র কুরআনে সুরা সাফ্ফাত এর ১০০-১১১ অয়াত  পর্যন্ত কুরবানীর কাহিনী বর্ণিত আছে। হযরত ইবরাহীম (আঃ) শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রাণ-প্রিয় সন্তান হযরত ইসমাইল (আঃ) কে কুরবানী করতে দ্বিধা করেননি। ঈদুল আযহার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র  এক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রক্ত প্রবাহিত করা। কিন্তু আমরা আজ কুরবানী মুল তাৎপর্য অন্তরে ধারন  করতে পারছি না। আজ অনেককেই বলেতে শুনি এবার ছেলে ছুটি পায়নি অথবা মেয়ে-জামাই আসবে না তাই কুরবানী করবো না। আবার অনেকে সামাজক অভিজাত্য বজায় রাখার জন্য কুরবানী নামে দামী গরু কেনার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামেন। সুতরাং কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য থেকে আমরা বিচ্যুত হয়েছি। যদি নিয়ত সঠিক হয় তবে কুরবানীর  পশুর রক্ত মাটি স্পর্শ করা পূর্বেই আল্লাহ  রাব্বুল আলামীন তা কবুল করবেন। বর্তমানে আমাদের সমাজে আর একটা মুখরোচক কথা প্রচলিত আছে যে, মনের পশুত্ব করবানী করাই কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য। এটা কিছু মানুষের একধরনের মনগড়া অযৌক্তিক বক্তব্য। ধর্মীয় আচারগুলো আমাদের ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা পালন করা উচিৎ। শুনতে ভালে লাগে বলেই যে বলতে হবে না সঠিক হবে তা কিন্তু নয়। মনের পশুত্ব  কুরবানী করার জন্য কোন উৎসবের প্রয়োজন হয় না। আপনি ইচ্ছে করলে আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করতে পারেন, তার কোন খারাপ কাজ করবেন না, আপনার পাশবিক চিন্তুগুলো পরিহার করুন। আপনার প্রতিজ্ঞা বজায় রাখুন তাহলেই আপনার মনের পশুত্ব  কুরবানী হয়ে যাবে। এর সাথে ঈদের কোন সম্পর্ক নেই। কুরবানী কবুল হওয়ার জন্য আপনার নিয়তকে খুব শুক্ত করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত মনের ভিতর আর কোন কিছুকেই স্থান দেওয়া যাবে না। কুরবানীর তিন দিনে যত ইবাদত আছে তার মধ্যে সর্বোত্তম হল কুরবানী। সুতরাং আল্লাহ আমাদেরও সঠিক নিয়তের উপর কুরবানী করার তৌফিক দান করুন।
ঈদ মানেই খুশি।  প্রত্যেক জাতির যেমন খুশির দিন আছে তেমনি মুসলমানদের খুশির দিন হলো ঈদ। ঈদের নামায আদায় করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে এই খুশি উদযাপন করা হয়। কিন্তু আজ সামাজিক অসঙ্গতির কারনে এক শ্রেণীর তরুন মনে করে রাস্তায় মাথায় উচ্চশব্দের হিন্দি গান বাজানো আর উদ্দাম নৃত্যই  বুঝি ঈদের আনন্দ। ঈদের আনন্দ হবে নির্মল, পরিমার্জিত, পরিশীলিত। বাংলাদেশের এবার ইদুল আযহা আসছে ভীষন বৈরী পরিবেশে। ডেঙ্গু, বন্যা, গুজব গণপিটুনি সব মিলে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ।  এবারের ঈদ মানুষের মাঝে কতটুকু খুশি ছড়াবে কে জানে। রোগক্রান্ত, বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য উৎসব এক আতঙ্কের নাম। এই মানুষগুলোর ঈদ কেমন কাটবে তা আমরা অনুমান করতে পারি। নতুন কাপড়, ভালো খাবার হয়তো অনেকেরই জুটবে না। তাই সামর্থ অনুযায়ী এই মানুষগুলোর পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করা উচিৎ। নিঃসন্দেহে একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আমাদের ঈদের আনন্দ শতগুন বৃদ্ধি পাবে। ঈদের নির্মল আনন্দ সকলের মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়–ক।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার পিআরডিবি, রূপসা, খুলনা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৯

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৯






জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৬

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৪

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৯

ঐতিহ্যবাহী রান্না কড়াই গোস্ত

ঐতিহ্যবাহী রান্না কড়াই গোস্ত

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৯


ব্রেকিং নিউজ









লবণচরায় এক বছরে তিন দফায় গরু চুরি

লবণচরায় এক বছরে তিন দফায় গরু চুরি

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৫৩