খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

কুরবানীর মাধ্যমে আমরা কি অর্জন করি?

মাওলা বক্স | প্রকাশিত ১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৭:০০

কুরবানীর মাধ্যমে আমরা কি অর্জন করি?

আমরা ঈদের নামাজ পরার জন্য ঈদগাহে যাই। পবিত্র এ নামাজ আদায় কারার জন্য ঈদগাহে গিয়ে দেখা যায় কানায় কানায় ভরপুর মুসল্লী, কোথায়ও দাড়ানোর জায়গা নেই বললেই চলে। ধনী-গরীব সবাই একত্রে এসেছে পবিত্র ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য। নামাজ শেষে খুতবার পরে দোয়া করে সবাই ছুটে যাই কুরবানী’র পশুর দিকে।
মসজিদের ইমাম সাহেব বা মাদ্রাসার ছাত্রদের পিছু পিছু ছুটি কে আগে পশু জবেহ করবে এরকম একধরনের প্রতিযোগিতা তখন শুরু হয়। আবার অনেকে পশু জবাইয়ের দৃশ্য মেবাইলে ভিডিও কিংবা সেলফি তুলে সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে লিখে দেই ‘আমাদের কোরবানীর পশুর জবাইয়ের দৃশ্য’ লাইক দিন, কমেন্ট করুন, শেয়ার করুন আরও কত কি? আবার অনেকে পশু জবাইয়ের পূর্বেই বিক্রি করে দেন পশুর চামড়া। এর পর কোরবানীর পশুর চামড়া পৃথক করেই সর্ব প্রথম কিছু ভাল ভাল গোশত নিয়ে নিজেরা রান্না করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ উল্লাসে খাওয়া হয়, অথচ পশুর গোশত ভাগ করা হয়নি এবং পাশ্ববর্তী গরীব অসহায় ব্যক্তির কোন খোজ খবর এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি আর পশুর ভাল গোশত নিজে রেখে দিয়ে ভাগ করা হয় অতপর দেয়া হয় আত্মীয় এবং গরীব অসহায়দের। কসাইকে দেয়া হয় গরীবের অংশ থেকে গোশত, টাকা দেয়া হয় পশুর বিক্রিত চামড়ার টাকা। এর পর অনেকে খয়রাতি গোশতসহ রেখেদেয় ফ্রিজে সারা বছর ধরে খাওয়ার জন্য। সন্ধ্যায় দোকানে গিয়ে আলাপচারিতায় ব্যস্ত থাকে কার পশুতে কত কেজি গোশত হয়েছে, এক কেজি গোশত এর দাম কত পড়ল? লাভ হল নাকি লোকসান হল, আবার অনেক সময়ে কুরবানীর পশু কম টাকা দিয়ে কিনে নিজেকে বড় করার জন্য বেশী দামে ক্রয়ের কথা বলা হয়, একে অপরকে বলা হয় আমার পশুর দাম বেশী। পশু নিয়ে চলে কুরবানীর সময় বিভিন্ন ধরনের অংহকার ও গৌরব। বড় পশু ক্রয় করে কুরবানী দেয়া হয়ে গেল কিন্তু হৃদয়ের মধ্যে যে পশুত্ব রয়েছিল সেটিকে আমরা আজ পর্যন্ত কুরবানী দিতে পারলাম না। কুরবানীর পূর্বে হৃদয়ের ভিতরে যে অহংকার হিংসা দেমাগ ছিল কুরবানীর পর তা রয়েই গেল।
পূর্বে যেমন ছিলাম এখন ও তাই রয়ে গেলাম, হৃদয়কে সাদামাটা করা গেল না। কুরবানী পশু জবাহের মাধ্যমে নিজের হৃদয়ের মধ্যে যে একটি পশুত্বভাব রয়েছে সাথে সাথে হৃদয়ের সেই পশুত্বকে কুরবানী করা আমাদের জরুরী ছিল। পশু কুরবানীর মাধ্যমে নিজের হৃদয়কে পরিবর্ত করতে হবে তাই কোরবানীর পশু কত বড় বা কত দামী এটা বড় কথা নয়, বড় কথা হল কোন প্রেরনায় কুরবানী দেয়া হয়েছে সেটি বড় বিষয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বড় পশু দেখেন না তিনি দেখেন কুরবানী দাতার অন্তর বা তাকওয়া কোনদিকে ছিল। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহ পাকের নিকট এর গোশত ও রক্ত পৌছায় না বরং তোমাদের আন্তরিকতা শ্রদ্ধা ও তাকওয়াই পৌছায়” (সূরা হজ্জ-৩৭)। সে কি লোক দেখানো জন্য বা কি গোশত খাওয়ার জন্য কুরবানী দিয়েছিল না কি আল্লাহকে খুশি করার জন্য এটাই মূল উদ্দেশ্য। 
প্রিয় পাঠক, আসুন আল্লাহ আমাকে কুরবানী দেয়ার সামার্থ্য দিয়েছেন সে জন্য দু’রাকাত শুকরিয়া নামাজ আদায় করি সাথে দুই হাত তুলে দোয়া করি যেন কুরবানী আল্লাহ কবুল করে নেয় এবং আগামী বছর কুরবানী দিতে পারি সেই পর্যন্ত হায়াত বাড়িয়ে দেয় আর আমরা যারা কুরবানী দিতে পারিনি সামার্থ্য নেই আমরাও দুই রাকাত নামাজ আদায় করে সামার্থ্য চেয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি যেন আগামী বছর আমাদের সামার্থ্য দান করে আর আমরা কুরবানি করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সকলের মনের জায়েজ আশা কবুল করে নিক। আমিন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৯

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৯






জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৬

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৪

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৯

ঐতিহ্যবাহী রান্না কড়াই গোস্ত

ঐতিহ্যবাহী রান্না কড়াই গোস্ত

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৯


ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮