খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

‘লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত মিনা

পবিত্র হজ্ব আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫১:০০

আজ পবিত্র হজ্ব। ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক।’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নেয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে গতকাল।
পবিত্র মসজিদুল হারাম (কাবা শরিফ) থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরের মিনা এখন যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, শুধু তাঁবু আর তাঁবু। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করছেন। মিনায় অবস্থান করা পবিত্র হজের অংশ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ২২ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবার হজ পালন করছেন।
হজযাত্রীরা শুক্রবার মিনায় অবস্থান করেন। আজ শনিবার ফজরের নামাজ আদায় করে মিনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে যাবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এরপর সেখান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন। ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরবেন।
পবিত্র হজ পালনের জন্য মক্কায় সমবেত হওয়া সারা বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইতিমধ্যে মিনায় পৌঁছেছেন। অন্য সময় গাড়িতে মিনায় পৌঁছাতে ২০ মিনিট লাগে। কিন্তু রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে বৃহস্পতিবার দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। মিনামুখী পুরো রাস্তায় ছিল হজযাত্রীদের স্রোত। বাসে, গাড়িতে, হেঁটে মিনায় যাচ্ছেন তাঁরা। যানজটে আটকে পড়া কেউ কেউ দোয়ার বই পড়ছিলেন। আর যাঁরা অপেক্ষা করতে চাননি, তাঁরা হেঁটেই রওনা হন। অনেক বৃদ্ধকে হুইলচেয়ারে যেতে দেখা গেল। 
সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে হজের নিয়তে তাঁদের মুখে ছিল ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক’।
তাঁবুগুলো দেখতে একই রকম হওয়ায় অনেক হাজির পক্ষে পথঘাট ঠিক রেখে নিজেদের তাঁবুতে যাতায়াত করা কঠিন হয়। এ জন্য আছে স্কাউট, হজ গাইড। বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও হজযাত্রীদের সহায়ক মিনার তাঁবু নম্বর সম্বলিত মানচিত্র বিতরণ করা হয়। মিনায় ২৪/৬২ নম্বর তাঁবু বাংলাদেশ হজ কার্যালয়। 
হাজিরা বড় শয়তানকে পাথর মারবেন, কোরবানি দেবেন, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ, সাঈ শেষে আবার মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ (সৌদি আরবের তারিখ অনুযায়ী) পর্যন্ত অবস্থান করবেন। সেখানে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তাঁরা। প্রত্যেক শয়তানকে সাতটি করে পাথর মারতে হয়। প্রথমে জামারায় সগির বা ছোট শয়তান, তারপর জামারায় ওস্তা বা মেজ শয়তান, এরপর জামারায় আকাবা বা বড় শয়তান। হাজিরা যাতে নির্বিঘেœ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করতে পারেন, সে জন্য ওই জায়গা সম্প্রসারণ করা হয়। 
সৌদি আরবের গ্রাম ও পৌরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হাবিব জয়নাল আবেদিন বলেন, জামারায় প্রতি ঘণ্টায় তিন লাখ হাজি পাথর নিক্ষেপ করতে পারবেন।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র বাসাম আতিয়া বলেন, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা ‘মহান আল্লাহ’র অতিথিদের’ সেবা করতে পেরে গর্বিত।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, এ বছর মোট প্রায় ২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজ পালন করছে। এসব হজযাত্রীর অধিকাংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মক্কায় এসেছেন।
হজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হাতিম বিন হাসান কাদি বলেন, ‘এ বছর হজযাত্রীদের কোনো এজেন্ট ছাড়াই ১৮ লাখের বেশি ভিসা অনলাইনে সরবরাহ করা হয়েছে। আমাদের জন্য এটি একটি বড় সফলতা।’
এদিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল দুপুরে হজের খুতবা সরাসরি প্রচার করবে বলে জানা গেছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




মিনায় হজযাত্রীরা

মিনায় হজযাত্রীরা

০৯ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৪


পবিত্র ঈদুল আযহা ১২ আগস্ট

পবিত্র ঈদুল আযহা ১২ আগস্ট

০৩ অগাস্ট, ২০১৯ ০১:০৭


১১ আগস্ট সৌদি আরবে  ঈদুল আযহা

১১ আগস্ট সৌদি আরবে  ঈদুল আযহা

৩০ জুলাই, ২০১৯ ০১:১৯






ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮