খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

শুরু হলো বিশ্ব মুসলিমের মহামিলনের শুভলগ্ন। সারা বিশ্ব থেকে আসা মুসলিম নর-নারী আজ হাজির হচ্ছেন ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দানসহ গোটা মুসলিম বিশ্ব। আরাফাতে হাজীগণের অবস্থানের এই পবিত্র ও মহিমান্বিত দিনটিকে বলা হয় ‘ইয়াওমুল আরাফা’ বা আরাফা দিবস। এটিই হজের অপরিহার্য্য আনুষ্ঠানিকতা হিসাবে গণ্য। 
আরাফার দিবসকে পৃথিবীর সকল দিনের চেয়ে মূল্যবান দিন বলা হয়েছে। এ দিন আল্লাহর ক্ষমার দিন। এ মহান দিনে আল্লাহতায়ালা আরাফায় উপস্থিত ক্রন্দনরত ক্ষমাপ্রার্থনাকারী হাজীদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন। অন্য দিকে যারা হজের বাইরে রয়েছেন তাদের জন্য রয়েছে রোযা পালনের বিধান। এ রোযা পালনের জন্য রাসূল (সাঃ) আশা করেছেন যে, আল্লাহ বিগত বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মার্জনা করে দিবেন।
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকাল্লা’ এই মধুময় ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে পবিত্র আরাফাতের পাহাড় ঘেরা ময়দান ছাপিয়ে আকাশ-বাতাস মুখর ও প্রকম্পিত হচ্ছে। এই তালবিয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর একত্ব ও মহত্ত্বের কথা ঘোষিত হচ্ছে প্রতি অনুক্ষণ ‘আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নিয়ামত ও কর্তৃত্ব শুধুই তোমার। তোমার কোন শরিক নেই।’
আজ শনিবার ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মুসলমান হজযাত্রী ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হচ্ছেন। এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকবেন তারা। সৌদি সময় দুপুর ১২টার পর আরাফাতের ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা পাঠ করবেন মদিনা মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব, মদিনা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি। একই সাথে এই খুতবার মূল পয়গাম যেন গোটা দুনিয়ার মানুষ সরাসরি শুনতে পারে সেজন্য সৌদি সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আজ খুতবা পাঠ শেষে জোহর ও আসরের ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হাজীরা জামায়াতের সাথে কসর নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে মহান আল্লাহ তা’আলার যিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামায এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত খোলা প্রান্তরে অবস্থান করবেন। হাজিরা মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামায পড়ে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। 
১০ জিলহজ্জ মিনায় পৌঁছার পর হাজীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজীরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা মুন্ডন করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে যিয়ারত। হাজীরা মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ তাওয়াফ ও সাঈ (কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরা ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানো) করে আবার মিনায় ফিরে যাবেন।
জিলহজ্জের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজীরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের উপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত। পরদিন ১২ জিলহজ্ব মিনায় অবস্থান করে পুনরায় একইভাবে হাজীরা তিনটি শয়তানের উপর পাথর নিক্ষেপ করবেন। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা শেষ হলে অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। আর মক্কায় পৌঁছার পর হাজীদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরীফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ী তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ী তাওয়াফ অর্থাৎ কাবা শরীফে পুনরায় সাতবার চক্কর দেয়ার মাধ্যমে হাজীরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজ্বব্রত পালন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০






ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮