খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

ঘরে ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘœ হোক

০৯ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

ঘরে ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘœ হোক

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। ঈদ মানে আনন্দ হলেও এই যাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি বছরই নিরানন্দের সুর ধ্বনিত হতে দেখা যায়। ঈদের আগে যানবাহনের টিকিট সংকট, সড়ক ও লঞ্চ দুর্ঘটনা, ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়া, সড়কের দুর্দশাসহ নানা কারণে জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে। এগুলোর সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে বন্যা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বন্যার ধকল ও ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর। ডেঙ্গু জ্বরে ইতিমধ্যে বহু মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, অনেকে মারাও গেছেন। এ অবস্থায় উৎসবের রঙ ফিকে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তারপরও ঈদুল আজহার উৎসব-আনন্দ সামনে রেখে নাড়ীর টানে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে কেউ সড়কপথে, কেউ রেলপথে, কেউ নৌ-পথে, আবার কেউ আকাশপথের যাত্রী হয়ে বাড়ি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন। ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে এবারও মানুষ দুর্ভোগের শিকার হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সড়ক-মহাসড়ক এখনও সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। জরাজীর্ণ রেলসেতু সংবলিত রেলপথের অবস্থাও তথৈবচ। এছাড়া ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার রাস্তাগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। সব মিলিয়ে আসন্ন ঈদে এবারও ঘরমুখো মানুষকে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হবে, এটা প্রায় নিশ্চিত।
প্রতি বছর দেখা যায়, ঈদের আগ মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়কগুলো সংস্কার ও মেরামতের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে যায়। অথচ আগেভাগেই যদি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হয়, তাহলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হতে পারে বলে মনে করি আমরা। তবে কেবল ভাঙ্গাচোরা সড়ক-মহাসড়কই ভোগান্তির একমাত্র কারণ নয়। সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং, হাট-বাজার ও দোকানপাট ছাড়াও যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো এবং সড়কে গাড়ি থামিয়ে পুলিশের ‘চেকিং বাণিজ্য’ বন্ধ না হওয়াও দুর্ভোগের অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে সারা দেশে নিয়মিতভাবে চলাচলকারী লঞ্চের সংখ্যা প্রায় আট হাজার। এর মধ্যে নৌপরিবহন অধিদফতরে নিবন্ধনকৃত লঞ্চের সংখ্যা মাত্র দুই হাজার। বাদবাকি সব লঞ্চই অবৈধভাবে চলাচল করে। ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের কারণে প্রায়ই নৌপথে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে প্রচলিত নৌ-পরিবহন আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি বিদ্যমান অনিয়ম দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।আর রেলের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ইংরেজ জামানায়। অথচ এতদিন পরও যাত্রী হয়রানি ও দুর্ভোগ ছাড়া আর সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছি আমরা। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের জীবনে এমনিতেই দুর্ভোগের অন্ত নেই। উৎসব-পার্বণে এ দুর্ভোগ যেন শতগুণ বেড়ে যায়। মনে হয় এটাই বুঝি আমাদের নিয়তি। দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘেœ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮