খুলনা | সোমবার | ১৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ |

শিরোনাম :
মোংলায় সাংগঠনিক তদন্তে এসে অভিযুক্তের সাথে ভ্রমণ ও ভুরিভোজ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩ হাজার, চিকিৎসা শেষে ফিরেছে ৪৫ হাজারবেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী শিঞ্জন একদিনের রিমান্ডে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, চলছে বাছবিচারহীন গ্রেফতারখুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!ফের নগরীর বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ের বিবিএ’র ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগঈদযাত্রায় সড়কে গেছে ২২৪ প্রাণস্ত্রী পরিচয়ে কুয়াকাটাসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ওই ছাত্রীকে রেখেছিলো ‘শিঞ্জন রায়’

Shomoyer Khobor

ভারতের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার পাকিস্তানের প্রত্যাহার : বাণিজ্য স্থগিত

কাশ্মীর জুড়ে চলছে গণগ্রেফতার, আদালতে আটকে যেতে পারে মোদির সিদ্ধান্ত

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

কাশ্মির জুড়ে চলছে গণগ্রেফতার। সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীসহ দু’দিনে গ্রেফতার করা হয়েছে, ৪ শতাধিক মানুষকে। অলিগলিতেও সেনা টহল চলছে। এতে বিচ্ছিন্নভাবে ছোটখাত দলে ভাগ হয়ে প্রতিবাদমুখর কাশ্মিরিরা। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, পরিস্থিতির উন্নতি হলে, আবারও রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পেতে পারে কাশ্মির। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত আদালতে বাধার মুখে পড়তে পারে। অপরদিকে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ঘোষণার পরেই দুই পরমাণু শক্তিধর চির বৈরী ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এদিকে প্রয়োজনে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
মোদির টুইট : ন্যূনতম প্রতিবাদ করারও সাহসটুকু কেড়ে নেয়া হয়েছে কাশ্মীরিদের। তারপরও সেনা টহল উপেক্ষা করে বিজেপি সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা বিক্ষোভ করছেন।
ভারতের গণমাধ্যম জানায়, সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও দু’দিনে এ পর্যন্ত কারাগারে মানবাধিকারকর্মীসহ অন্তত ৪শ’ কাশ্মীরী। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছিলো খোদ লোকসভাতেও। বিরোধীদের তোপের মুখে এ বিষয়ে মুখ খোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং লোকসভার বর্তমান এমপি ফারুক আবদুল্লাহর অভিযোগ তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বিজেপি সরকারকে সমর্থন জানালেও ভারতের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে চীন। কাশ্মীরে ধরপাকড় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার রুপার্ট কলভাইল বলেন, যেভাবে টেলিযোগাযোগ বন্ধ রেখে, নেতাদের আটক ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে, এতে আমাদের আশঙ্কা কাশ্মীরে চরম আকারে মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে।
এমন পরিস্থিতিতে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সতর্ক করেছেন কাশ্মীরে জাতিগত নিধন চালাতে পারে ভারত। ইমরান খান বলেন, কাশ্মীরের জনমিতি পাল্টে দিতে চায় মোদি সরকার। কাশ্মিরিদের ওপর আর কোন নিপীড়ন মেনে নেবে না পাকিস্তান। এতে যদি ভারত আমাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করে তবে কঠিন জবাব দেয়া হবে। যুদ্ধ লেগে যাবে।
এদিকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিট করেছেন এক আইনজীবী। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতে বাধার মুখে পড়তে পারে মোদির সিদ্ধান্ত।
ভারতের সংবিধান বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় কুমার সিং বলেন, ৩৭০ অধ্যাদেশ ছিল, কাশ্মিরের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সেতুবন্ধন। এটি বিশ্ববাসীকে স্পষ্ট করেছিলো ভারত প্রকৃতই গণতান্ত্রিক দেশ। কোন পুলিশী বা স্বৈরাচারি রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্র আদৌ এভাবে রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে কী? এটা আইনের অবমাননা কী না-তা একটি মৌলিক প্রশ্ন। আমার মনে হয়, আদালত নেতিবাচক উত্তরই দেবেন।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, পরিস্থিতি উন্নতি হলে ফের রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পেতে পারে কাশ্মীর। টুইটারে মোদির দাবি, একে স্বাগত জানিয়েছে কাশ্মীরবাসী।
ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেস বলেছে, কাশ্মির ইস্যুতে একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কোনো সরকার।
পাকিস্তান : ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের দু’দিন পর কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করেছে পাকিস্তান। বুধবার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি) এ সিদ্ধান্ত নেয়। এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ডন।
বৈঠকে নয়াদিল্লি থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়ার এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শাহ মাহমুদ কোরেশী বলেন, আমাদের রাষ্ট্রদূতরা আর নয়াদিল্লিতে থাকবেন না এবং এখানকার রাষ্ট্রদূতদেরও ফেরত পাঠানো হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে শীর্ষ নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে পাক-ভারত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন ও আগামী ১৪ আগস্ট কাশ্মীরিদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আসন্ন স্বাধীনতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় নির্মম বর্ণবাদী শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশের জন্য সমস্ত কূটনৈতিক চ্যানেলকে সক্রিয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন : কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদায় ভারতের সংবিধানে রাখা ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ ঘোষণার পর কার্যত বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে অঞ্চলটি। সেখানে বিপুলসংখ্যক সেনাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি টেলিফোন, মোবাইল এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটছে।
সাংবাদিক আমীর পীরজাদার বরাত দিয়ে খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে অবস্থানরত আমীর পীরজাদা জানান, শ্রীনগর এবং কাশ্মীরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোঁড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সরকারিভাবে এসব খবরের কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
কাশ্মীর ক্রোধে ফুঁসছে উল্লেখ করে পীরজাদার বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ্মীরের রাস্তায় হাজার হাজার সেনা, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য টহল দিচ্ছে। কারফিউ জারি করা হয়েছে, সেখানে কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। ল্যান্ডফোন, মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, কাশ্মীরের নেতাদের গৃহবন্দী হওয়ার কথাও সাংবাদিকরা ছাড়া খুব কম লোকই জানেন।
কয়েকদিন ধরে কাশ্মীরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের পর সোমবার ভারত সরকার ওই রাজ্যটির জন্য সংবিধানে থাকা বিশেষ সুবিধার ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করে দেয়। এই অনুচ্ছেদের সুবাদেই ভারতশাসিত কাশ্মীর নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতাও পেয়েছিল। এমনকি সেখানে সরকারি চাকুরি, জমি কেনা, ব্যবসা করার অধিকার কেবল কাশ্মীরিদেরই ছিল। কিন্তু অনুচ্ছেদটি বাতিলের ফলে আলাদা সংবিধান ও পতাকা হারানোর পাশাপাশি কাশ্মীরিরা সরকারি চাকুরি, জমি কেনা ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে একক অধিকারও হারিয়েছে।
ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় এই বিশেষ সুবিধার বিষয়টি শর্ত হিসেবে ধরেই তখনকার কাশ্মীরের শাসকরা ভারতে যোগ দিতে সায় দেয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোর একটিই ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজ্য কাশ্মীরের এই সুবিধা বাতিল করে অন্য রাজ্যগুলোর মতোই সেখানে কেন্দ্রীয় শাসন বলবৎ করা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিষন্ন ঈদ 

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিষন্ন ঈদ 

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৭




ব্রেকিং নিউজ