খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

পুলিশের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ অভিযোগ  দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করুণ

০৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

পুলিশের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ অভিযোগ  দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করুণ

খুলনা জিআরপি থানার মধ্যে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত ওই নারী খুলনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, রাতে জিআরপি থানা হাজতে তাকে পাচ পুলিশ মিলে গণধর্ষন করেছে। শুধু তাই নয়, তার ওপর নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমাদের দেশে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা রকম দুস্কর্মের অভিযোগ নতুন নয়। খুনের মতো গুরুতর অপরাধেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। গণধর্ষণের মতো অপরাধও আমাদের সমাজে আকসার ঘটে থাকে। কিন্তু যারা আইনের রক্ষক সেই পুলিশ সদস্যরা গণধর্ষণ করেছেন এমন অভিযোগ খুব বেশি না হলেও বিষয়টি উদ্বেগজনক।
আমাদের মনে আছে, দিনাজপুরে টহল পুলিশের কাছে আশ্রয় চাওয়া সেই ইয়াসমিনের কথা, যিনি পুলিশ কর্তৃক শুধু ধর্ষণ নয়, হত্যারও শিকার হয়েছিলেন। আমরা ভুলে যাইনি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের কথাও। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগের পাশাপাশি যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। ফেনীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনিও এখন কারাগারে। এই বাংলাদেশ পুলিশই কি সেই পাকিস্তানি পুলিশের উত্তরাধিকারী যারা কৃষক নেত্রী ইলা মিত্রের যৌনাঙ্গে গরম সেদ্ধ ডিম  ঢুকিয়ে নির্যাতন করেছিলো।
খুলনায় পুলিশ কর্তৃক গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে খোদ থানার ভেতরে। আমরা মনে করি, এ অভিযোগ কেবল গুরুতর নয়, অপরাধও দ্বিগুণ। আমাদের দেশে ধর্ষণের তদন্ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রক্রিয়া এখনও জটিলতার বৃত্তবন্দি। আমরা এটাও জানি, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সচেষ্ট হয় কিংবা এতই মন্থরগতিতে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা চূড়ান্ত বিচারে শিষ্টের দমন ও দুষ্টের পালনে রূপ নেয়। আমরা মনে করি, খুলনার এই বর্বরোচিত ঘটনা সত্য হলে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরিত করার মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্তমুলক দন্ড নিশ্চিত করে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করা সম্ভব। পুলিশের এমন ঘৃণ্য ও অবস্থানগত চরম বৈরী কর্মকান্ডের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সমাজে নিরাপত্তা-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে জোরদার উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই। শর্ষের ভূত যদি না তাড়ানো যায়, তাহলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ভয়ঙ্কর আততায়ী না হয়ে পুলিশ কবে সত্যিকারের জনগণের বন্ধু হবে এ প্রশ্নের নিরসন ঘটাতে পুলিশকেই তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণ রাখতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮