খুলনা | সোমবার | ১৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ |

শিরোনাম :
মোংলায় সাংগঠনিক তদন্তে এসে অভিযুক্তের সাথে ভ্রমণ ও ভুরিভোজ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩ হাজার, চিকিৎসা শেষে ফিরেছে ৪৫ হাজারবেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী শিঞ্জন একদিনের রিমান্ডে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, চলছে বাছবিচারহীন গ্রেফতারখুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!ফের নগরীর বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ের বিবিএ’র ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগঈদযাত্রায় সড়কে গেছে ২২৪ প্রাণস্ত্রী পরিচয়ে কুয়াকাটাসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ওই ছাত্রীকে রেখেছিলো ‘শিঞ্জন রায়’

Shomoyer Khobor

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কাশ্মীর উদ্বেগ আর আতঙ্কে মানুষ

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৭ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪৫:০০


ভারতের সংবিধানে অধিকৃত কাশ্মীরকে যে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, তা তুলে নেওয়ার পর থেকে দেশের অন্যান্য জায়গার সঙ্গে অঞ্চলটির যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে বন্ধ করা ইন্টারনেট ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক এখনো সচল হয়নি; উপত্যকাটির বিভিন্ন সড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যের টহল অব্যাহত আছে। বিবিসি বলছে, সংবিধানের ওই বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘটনা কাশ্মীরজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের বিস্ফোরণ ঘটাবে বলে ধারণা করা হলেও মানুষ সেখানে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তার কোনো খবর মিলছে না। স্থানীয় নেতারা এখনও আটকাবস্থাতেই আছেন। 
অপরদিকে মঙ্গলবার শেষমেশ কাগজে-কলমে সিলমোহর পড়ে গেল  লোকসভাতেও। জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের প্রস্তাব রাজ্যসভার মতোই বিপুল ভোটে পাশ হয়ে গেল সেখানেও।  ১৯৪৭ এর পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে এলেও নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদ এখন অঞ্চলটির আলাদা দু’টি অংশের নিয়ন্ত্রক।
ভারতশাসিত অংশে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন সংগঠনের তৎপরতাও দেখা গেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার লোক। শ্রীনগরে বিবিসির প্রতিনিধি আমির পীরজাদা দিল্লিতে থাকা সহকর্মীদের সঙ্গে টেলিফোনে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। “রাজ্যের অন্য অংশে কী হচ্ছে কেউ জানে না। আমরা কারও সঙ্গে কথাও বলতে পারছি না। মানুষজন উদ্বিগ্ন- তারা জানে না কী ঘটছে; তারা জানে না কী ঘটতে যাচ্ছে,” বলেছেন তিনি। ভারতের অন্যান্য অংশে থাকা কাশ্মীরিরাও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারার কথা জানিয়েছেন; বলেছেন উদ্বেগ আর আতঙ্কের কথা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতশাসিত কাশ্মীরের জনগণের অনেকেই এতদিন সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের কারণেই ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার যৌক্তিকতা খুঁজে নিত। কিন্তু বিজেপি সরকার আইনি বাধ্যবাধকতাসহ সংবিধানের এ বিশেষ মর্যাদা তুলে নিয়ে দিল্লির সঙ্গে এ এলাকার সম্পর্ককে একেবারে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে।
৩৭০ অনুচ্ছেদ জম্মু ও কাশ্মীরকে অনেক ক্ষেত্রেই স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিল; এ অনুচ্ছেদের ফলে কাশ্মীরিদের নিজস্ব সংবিধান, আলাদা পতাকা ও স্বতন্ত্র আইন বানানোর অধিকার ছিল। রাজ্যটির কেবল পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
ওই অনুচ্ছেদের বলেই কাশ্মীর স্থায়ী বাসিন্দা নির্ধারণ, সম্পত্তির মালিকানা ও মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আলাদা আইন তৈরি করেছিল। সেসব আইনে ভারতের অন্য এলাকার বাসিন্দাদের কাশ্মীরের জমি-সম্পদ ক্রয় কিংবা এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতার কারণে উপত্যকাটিতে এমনিতেই বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েন থাকতো। সোমবার ভারতের রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করার পর সেখানে আরও  সৈন্য পাঠানো হয়।
পর্যটক এবং হিন্দু তীর্থযাত্রীদের আগেই এলাকাটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়; স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়। এভাবে পরিকল্পনা বিষয়ে সামান্য ইঙ্গিত না দিয়েই ভারত সরকার তড়িঘড়ি করে ওই অনুচ্ছেদটি বাতিল করে দেয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গত কয়েক মাস ধরেই খাদ্য মজুদ করে রাখছিল বলে ওই এলাকার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
রবিবার রাতেই কাশ্মীরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দী করা হয়। ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই এলাকা কার্যত একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে, সেখানকার পরিস্থিতি কিংবা সেখানে কী ঘটছে কিছুই জানা যাচ্ছে না।
টেলিফোন ও ইন্টারনেট যোগাযোগ কখন চালু হবে এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত না মিললেও ওই এলাকায় লোকজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
উদ্বেগ : ভারত সরকারের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল ও জম্মু-কাশ্মীরে উত্তেজনাকর অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। দিল্লিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস নিরাপত্তা বিষয়ক এলার্ট জারি করেছে। তাতে অবিলম্বে কাশ্মীর অঞ্চল ছেড়ে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে মার্কিনীদের প্রতি। অন্যদিকে কাশ্মীরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বিষয়ে ভারতকে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার এ নিয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের জরুরি যৌথ অধিবেশন আহ্বান করেছেন প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি। এমন অবস্থায় ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের প্রতি শান্তি বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিষন্ন ঈদ 

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিষন্ন ঈদ 

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৭




ব্রেকিং নিউজ