খুলনা | সোমবার | ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

কোরবানির পশুর হাটের রাজস্ব  আদায়ের দিকে দৃষ্টি দিন

০৭ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

কোরবানির পশুর হাটের রাজস্ব  আদায়ের দিকে দৃষ্টি দিন

আগামী ১২ আগস্ট বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদে পশু কোরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুসলিম উম্মাহর এ উৎসবে আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমান কোরবানি দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় কোরবানির ঈদে দেশে বিপুল পশু বেচাকেনা হয়। আশা করা হচ্ছে, দু-এক দিনের মধ্যেই জমে উঠবে পশুর হাটগুলো।
দেশে কোরবানির পশুকেন্দ্রিক অর্থনীতির পরিসর দিন দিন বাড়ছে। পশু লালন-পালন করে কোরবানির সময় তা বিক্রির জন্য বিপুল খামারি রাজধানীসহ দেশের অস্থায়ী হাটগুলোতে নিয়ে আসেন। ফলে পশুর হাটগুলো ইজারা নেয়া এখন অত্যধিক লাভজনক একটি বিষয়। এ কারণে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নিতে প্রতি বছরই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালীরা মরিয়া হয়ে ওঠেন। রাজনৈতিক মদদ না থাকলে সাধারণত এসব হাট ইজারা পাওয়া যায় না। একটি প্রবণতা লক্ষণীয় তাহলো যেহেতু এসব হাট রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ইজারা নিয়ে থাকেন সে জন্য আইনের ফাঁকে পানির দরে তাদের দেয়া হয়। অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটগুলো রাজস্ব আদায়ের অন্যতম উৎস হলেও সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার না হওয়ার কারণে অনেকটা পানির দরেই রাজধানীসহ দেশের সব জেলা, উপজেলায় অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটগুলো ইজারা দিয়ে আসছে কতৃপক্ষ। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলে এলেও বিদ্যমান নিয়ম পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। বস্তুত স্থানীয় নেতাকর্মীদের খুশি রাখতেই চালু রয়েছে এ ব্যবস্থা। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩ বছরে খোদ রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটগুলো থেকে দুই সিটি কর্পোরেশন ইজারা মূল্য পেয়েছে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। আর ৩ বছরে ইজারাদাররা ক্রেতাদের কাছ থেকে হাসিল বাবদ আদায় করেছেন প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা। ইজারা মূল্য ও হাসিল বাবদ আদায়কৃত মূল্যের ব্যবধান পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্তাব্যরত ব্যক্তিরা আরও সক্রিয় হলে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট ইজারা থেকে অনেক বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার চিত্র একই নিয়মে চলে আসার কারনে রাজস্ব লক্ষমাত্রার ধারে কাছেও যায় না। তবে এজন্য প্রথমেই চিহ্নিত করতে হবে ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো। এক্ষেত্রে কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলে তা ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
লক্ষ করা যায়, অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের অবস্থান প্রধান সড়ক থেকে বেশি দূরে নয়। কাজেই হাটের আশপাশে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পশুবাহী যানবাহনের চলাচল নির্বিঘœ করার জন্য কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য যে বেড়ে যেতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। কারন পশুর হাটগুলোতে প্রচুর অর্থের লেনদেন হওয়ায় এ সময় ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি ও জালনোট চক্রের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যেতে পারে।
আমরা মনে করি, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশের ইজারা প্রদানকারী কর্তাব্যক্তিরা আরো সক্রিয় হলে পশুর হাট ইজারা দিয়ে অনেক বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। দলীয় নেতাকর্মীদের সুবিধা করে দিতে গিয়ে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। তাদের এই মানসিকতা থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে টেন্ডার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতে হবে হাট ইজারা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০








ব্রেকিং নিউজ