খুলনা | সোমবার | ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

ঈদে মোটাতাজা নয়, সুস্থ  দেখে গরু কোরবানি দিন

০৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

ঈদে মোটাতাজা নয়, সুস্থ  দেখে গরু কোরবানি দিন

অল্প কিছুদিন পরই পালিত হবে মুসলমানদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল আযহা। মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে এরই মধ্যে পশু কেনার নানা হিসাব-নিকাশ শুরু করে দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। প্রতি বছরই আমাদের দেশে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ পশু কোরবানি করা হয়। এদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই গরু। কোরবানির এত বিপুল সংখ্যক গরুর চাহিদাকে উপলক্ষ করে অনেকে গরুর খামার গড়ে তোলেন, আবার গ্রামের কৃষকও তাদের বাড়িতে গরু পালন করে থাকেন। অনেকেই ভেবে থাকেন গরু মোটাতাজা হলেই সেটি সুস্থ। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখন আর তা বলে না। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য গরু মোটা-তাজাকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন, যা পুরোটাই বেআইনি। ইসলামী আইনে বলা আছে, কোরবানির গরু অবশ্যই সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত হতে হবে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতিতে এমন হয়েছে যে, গরু মোটাতাজা দেখলেই আমরা সেটিকে সুস্থ ও সবল মনে করি। 
মোবাইল কোর্ট আইনের ১৪(১) ধারায় বলা আছে, মৎস্য ও পশুখাদ্য হিসেবে এ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড, কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য নিষিদ্ধ। বর্তমানে ওই আইন অমান্য করে অধিক মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা গরুকে অস্বাভাবিকভাবে মোটা-তাজাকরণের জন্য ব্যবহার করছেন বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়েড গ্র“পভুক্ত ডেক্সাসন, স্টেরন, অরাডেক্সিন, এডাম কোরটান, কোরটিজল, হাইড্রো কোরটিজল ওষুধ। ওই ওষুধ খাওয়ানোর ফলে গরু অস্বাভাবিকভাবে মোটা-তাজা হয় এবং গরুর মাংসে বিষ সৃষ্টি হয়। অনেকক্ষণ রান্না করলেও এ বিষ নষ্ট হয় না।
আমাদের শঙ্কা হলো, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সুস্থ মাংসের প্রধান অনুষঙ্গ হলো সুস্থ গরু। আর বিষযুক্ত মাংস খেলে এর প্রভাব সহজেই মানুষ ভোগ করে। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়াসহ সৃষ্টি হতে পারে নানা সমস্যা। যেমন লিভার, হার্ট, কিডনিসহ নানা জটিল রোগ। আমরা প্রায় সময় লক্ষ্য করে থাকি, ভেজাল খাদ্য নিরসনের লক্ষে সরকার বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে থাকে। খাদ্যে ভেজাল দেওয়া একটি মারাত্মক অপরাধ। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, কোরবানির হাটে ভেজাল গরু শনাক্তকরণে কোনো অভিযান আমরা আগে লক্ষ্য করিনি। যদি পশুর হাটে অভিযান চালিয়ে যেসব গরু স্টেরয়েড গ্র“প ও ইনজেকশনের মাধ্যমে মোটাতাজা করা হয়েছে শনাক্ত করে তা নষ্ট করা হতো, তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও সতর্ক হতো।
মোবাইল কোর্ট আইনের ১২,১ (ক) এর ধারায় বলা আছে, মৎস্য বা পশুখাদ্যে, মানুষ, পশু, মৎস্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ থাকলে এবং ১২,১ (খ) ধারায় ওই খাদ্য মান আদর্শ মানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা অপরাধ। এছাড়া পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন ১৯২০ অনুযায়ী নিরাময় অযোগ্য রোগাক্রান্ত পশু ধ্বংসে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তাই নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করার জন্য মোবাইল কোর্ট আইন প্রয়োগ করা জরুরি। তা না হলে বিষযুক্ত মাংস খেলে মানবজীবন হুমকির মুখে পতিত হওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে।
আমরা মনে করি, সরকার তথা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ভেজাল খাদ্য নিরসনের মতো কোরবানির হাটে বিষাক্ত গরু শনাক্তকরণ করে তা ইসলামী আইন মোতাবেক নষ্ট করতে হবে। যদি অভিযান পরিচালনা না করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য থেকে বঞ্চিত হবে এবং এ অপরাধও বন্ধ হবে না। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০








ব্রেকিং নিউজ