খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

নিরব চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা সন্ত্রাসীদের মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়া হবে না : কেএমপি 

নগরীতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নতুন আতঙ্ক বড় ভাই শাহীন গ্র“প

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ০৩ অগাস্ট, ২০১৯ ০১:০৭:০০

নগরীতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নতুন আতঙ্ক বড় ভাই শাহীন গ্র“প

এরশাদ শিকদার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় মহানগরীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও খুনিদের আবির্ভাব ঘটেছে। একটা সময় নগরীতে এ সকল সন্ত্রাসী বাহিনীর যন্ত্রণায় ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবীসহ নানা পেশার মানুষ আতঙ্কে থাকতো। ক্রমান্বয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারনে ধীরে ধীরে সে সকল বাহিনীগুলো অদৃশ্য হয়ে গেছে। যেখানে সেখানে দেখা মেলে না অবৈধ অস্ত্রের মহড়া। তবে অন্ধকার জগতের রঙ্গিন নেশা ছাড়তে পারছেনা অনেকে। পুলিশের দাবি কোন সন্ত্রাসীকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়া হবে না। 
ভুক্তভোগিদের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সময়ে মহানগরীতে বড় ভাই শাহীন নামের একজন সন্ত্রাসীর আবির্ভাব ঘটেছে। তার বাহিনীতে ২০/৩০ জন ক্যাডার রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিরব চাঁদাবাজিতে নেমেছে এই গ্র“পটি। 
তাদের এই নিরব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ সাইফুল ইসলাম। বড় ভাই শাহীন গ্র“পের এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তিনি পহেলা আগস্ট সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন (নং-০৩)। মামলায় এই বাহিনীর প্রধান বড় ভাই শাহীনসহ ওই গ্র“পের ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। 
ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম তার মামলায় অভিযোগ করেন, নগরীর ময়লাপোতা মোড়ে বড় ভাই শাহীনের আড্ডাস্থলে তাকে ডেকে নিয়ে চাঁদাদাবি করা হয়। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি ওই গ্র“পকে তিন দফায় ৬৪ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন। গত পহেলা আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে বড় ভাই শাহীন আবারও ওই ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে ময়লাপোতা মোড়ে ডেকে পাঠায়। তিনি সেখানে হাজির হলে সুলতান ভল্কানাইজিং টায়ারের দোকানের ভেতরে নিয়ে তার কাছে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বড় ভাই শাহীন। তিনি সেখানে কোন প্রকার উচ্চবাক্য না করে চলে আসেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন মহলে আলোচনা করে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা করেছেন। 
ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, শুধু আমি নই অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিরব চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে। এরা ডেকে নিয়ে নানা ভাবে ভয়ভীতি দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। আমার মনে হলো দেশে প্রশাসন রয়েছে, এভাবে নিরব চাঁদাবাজি চলতে পারে না। তাই মামলা করেছি। ওই গ্র“পে রফিকুল ইসলাম ওরফে রাঙ্গা রফিক ও সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকার এক সময়ের আতঙ্ক হিরুর অন্যতম সহযোগী রবিউল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন রয়েছে। 
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমতাজুল হক জানান, ব্যবসায়ী সাইফুল তাদের ভয়ে থানায় আসলে আমার সামনে মুঠোফোনে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গা ঢাকা দিয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। 
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়া হবে না। এ সকল গ্র“পকে সনাক্ত করনে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। তাছাড়া কোন নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানীর শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে বলেও জানান তিনি।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮