খুলনা | সোমবার | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি

খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৬৬৫ কোটি টাকা

মোহাম্মদ মিলন  | প্রকাশিত ০৩ অগাস্ট, ২০১৯ ০১:১০:০০

খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের শুরুতেই ব্যয় বেড়েছে ৬৬৫ কোটি ৪৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। একই সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রকল্পের মেয়াদও। চলতি বছরের জুনে মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ফলে প্রথম দফায় এই প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়লো। এদিকে স্থাপনা ভাঙা ও পাইল টেস্টের কাজও সম্পন্ন হলেও প্রকল্পের দৃশ্যমান কোন স্থাপনা নির্মাণ হয়নি এখনো। তবে ঈদ উল আযহার পূর্বে প্রকল্প এলাকায় পাইলিংয়ের কাজ শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। আর পুরাতন স্কুল ভবন ভাঙার পূর্বে আবাসিক এলাকায় একটি স্কুল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই স্কুলের তৃতীয়তলার ছাদ ঢালাই দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, প্রকল্পের ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে যেমন ভূমিকা রাখবে। তেমনি খুলনার মৃতপ্রায় বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় উজ্জীবিত হয়ে উঠবে। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি রোড ও ভৈরব নদের তীরে খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত। খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরাতন ৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি বন্ধ হয় ২০১২ সালের ৩০ নভেম্বর। আর ওভারহেলিং না করার ফলে ধুকে ধুকে চলা ১১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিও বন্ধ রয়েছে। এটি সর্বশেষ বন্ধ হয় ২০১৫ সালের ৩১ মে। বর্তমানে দু’টি কেন্দ্রই বন্ধ। যা  অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রায় ৬২ দশমিক ৫ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি প্রায় ১২ দশমিক ৫ একর জমি প্লান্টের জন্য নিয়েছে। বাকী জমির মধ্যে প্রায় ২০ একর জমিতে ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। এ প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে ‘খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল নির্মাণ প্রকল্প’। কেন্দ্রটিতে গ্যাস অথবা ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। গ্যাসে চললে এটি থেকে ৩৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও কম হবে। এই পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ করছেন চীনের ‘কোম্পানি কনসোটিয়াম অব হারবিনং ইলেকট্রিক ইন্টার‌্যাশনাল লিমিটেড এবং জিয়ানশু ইটার্ন কোম্পানি লিমিটেড’। ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করে। প্রকল্প এলাকায় পাইল টেস্টের জন্য বোরিং শুরু হয় ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। শেষ হয় ৮ অক্টোবর। আর পাইল টেস্ট শুরু হয় ৭ নভেম্বর। পাইল টেস্ট শেষ হয় চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি।    
সূত্রটি জানায়, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খুলনায় দুই থেকে তিনশ’ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়। একই বছরের ১৭ নভেম্বর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়। ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর চায়না এক্সিম ব্যাংকের সাথে পিডিবির ঋণ চুক্তি হয়। আর রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি চুক্তি হয় চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি। আর চুক্তি কার্যকর হয় চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল।  
ফলে প্রকল্পের নির্মাণ কাজে ধীর গতি দেখা দেয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ জুন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ২৫৩ কোটি ৭৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯১৯ কোটি ২৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা করা হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা ২ হাজার ৩৭০ কোটি ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকা, জিওবি ১ হাজার ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বাকি ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা দেবে পিডিবি। প্রকল্পটি জুন ২০১৯ মেয়াদে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে বিদেশী আইএলএফ, পোলাস্কা, পোল্যান্ড এবং দেশী ইসিবিএল, বাংলাদেশ লিমিটেড। 
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল নির্মাণ প্রকল্পের ডেপুটি প্রকল্প পরিচালক (এসই) প্রকৌশলী মোঃ জাহিদ হোসেন জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্র উজ্জীবিত হয়ে উঠবে। প্রকল্পের অগ্রগতি ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। স্থাপনা ভাঙ্গার কাজ প্রায় শেষ। পাশাপাশি নতুন করে একটি তিন তলা বিশিষ্ট স্কুল নির্মাণ কাজ চলছে। যার তৃতীয় তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। প্রকল্পে এলাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছেন। 
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহাজাহান বলেন, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করে। এরপর পাইল টেস্ট কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে অফিস নির্মাণ কাজ ও মোবিলাইজেশনের কাজ চলছে। ঈদ উল আযহার পূর্বে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদী।  


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৬



ব্রেকিং নিউজ











কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৬